পাতাল রেল হচ্ছে না আগামী ৫ বছরেও, আটকে গেছে প্রকল্প – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬

পাতাল রেল হচ্ছে না আগামী ৫ বছরেও, আটকে গেছে প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬ |
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের জেরে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প। রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নদ্দা থেকে পূর্বাচল—এই দুই রুটে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির কাজ কার্যত থমকে গেছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে এই পাতাল রেল চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে কাজ শুরুর পরও এখন পর্যন্ত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করতে পারেনি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বরং যেসব প্যাকেজে দরপত্র শেষে চুক্তি হয়েছিল, সেগুলোর কাজও বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যায়। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ২০১৮–১৯

সালে ধারণামূলক নকশার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি। অন্যান্য মেট্রো প্রকল্পের তুলনায় পাতাল অংশে ব্যয় বৃদ্ধির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি পড়েছে। মেট্রোরেলে দুই প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি দ্বিগুণেরও বেশি: অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘসূত্রিতায় পিছিয়ে পড়া উন্নয়ন ও ব্যয়বৃদ্ধি এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “ঢাকায় মেট্রো রেলের কাজ অনেক কারণে থেমে গিয়েছিল। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মেট্রো রেলের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।” তবে

বাস্তবে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্যাকেজ এখনো অচল অবস্থায় রয়েছে। মেট্রো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ ব্যয় বৃদ্ধির জন্য জাপানি কোম্পানি ও জাইকার শর্তকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “কাজ থেমে আছে বিষয়টা এমন নয়, কাজ চলছে। দরপত্রগুলো যাচাই করে দেখা হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল দর বেশি হয়েছে। তাই চুক্তি বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। জাইকা পাল্টা চিঠি দিয়ে ব্যয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।” অন্যদিকে প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন—এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় মেট্রোরেলের নতুন দুই রুটে, প্রশ্নবিদ্ধ দরপত্র

প্রক্রিয়া এদিকে জাইকার শর্তের কারণে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্ডারগ্রাউন্ড প্যাকেজে জাপানি কোম্পানির উপস্থিতি বেশি থাকলেও ডিপো ও এলিভেটেড অংশে অন্যান্য দেশের প্রতিষ্ঠানও অংশ নিয়েছে। সেসব প্যাকেজেও ব্যয় ডিপিপির তুলনায় বেশি হয়েছে। মেট্রোর কাজ এগোতে না পারায় ২০২৫ সালের মে মাসের পর থেকে চুক্তির শেষ পর্যায়ে থাকা সিপি–২, সিপি–৫ এবং প্রি-কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন শেষ হওয়া সিপি–৬ প্যাকেজসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের পরামর্শক দলের কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এ কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত ছয় থেকে সাতটি জাপানি কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। টেন্ডার বন্ড বাবদ ব্যাংক সুদ, অফিস পরিচালনা ব্যয় ও

জনবল খরচ মিলিয়ে কয়েক মাস ধরে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ বহন করছে তারা।বিনিয়োগ সুযোগ এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন। তবে তাতেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। উল্টো পরবর্তীতে এসব প্যাকেজ বাতিলের বিষয়ে জাইকার কাছে চিঠি পাঠানো হলেও প্রয়োজনীয় যুক্তি না থাকায় তা গ্রহণ করেনি সংস্থাটি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্প ব্যয় আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জাপান-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বেও চাপ তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের আড়ালে এটি বাতিল বা পুনঃদরপত্রের দিকে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘গুম’ থাকা আয়েশা ৭ বছর পর ফিরলেন জীবিত! চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৪ কর্মী গ্রেপ্তার, ‘পুলিশের বস্তাপচা নাটকের স্ক্রিপ্ট’ বদলের দাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে তিন জেলায় তুলকালাম: সড়ক অবরোধ, ককটেল নিক্ষেপ ও ১৪৪ ধারা মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশান্তরি ঢাকা পোস্ট সম্পাদকের স্মৃতিচারণ: শফিক ও তার প্রেশারগ্রুপ থেকে সন্তানদের রক্ষায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যে দড়ি বেঁধে চলছে প্রশাসনের মেলা, শুকানো হচ্ছে লুঙ্গিও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও চার ব্যাংকের, ১০ ব্যাংক এক কাতারে উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না ১৭ ব্যাংক, বিধিনিষেধ আরোপ ফিফার তহবিলে উন্নয়নের জন্য তিনটি স্টেডিয়াম পাচ্ছে বাফুফে নীরবতাও অপরাধ: ইউনূসের অরাজকতা আর দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে নীরব থাকা আনু মুহাম্মদ গংও অপরাধী ১৯৬৫-র যুদ্ধ থেকে তারেক রহমানের বর্তমান নীতি: জিয়া-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক ব্যবচ্ছেদ হাম থেকে বেঁচে ফিরলেও শিশুদের মস্তিষ্কের ভয়ঙ্কর ঝুঁকি, আসছে বছরগুলোয় এসএসপিই’র শঙ্কা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: হাম-রুবেলার হাত ধরে ফিরে এলো চার দশক আগে বিলুপ্ত গুটি বসন্ত, শিক্ষকের মৃত্যু দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ শিশু মৃত্যু বিধানসভা নির্বাচনে তারকাদের হাল যেমন আমিরাতের পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা ১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা শুভেন্দুর কাছে হেরে গেলেন মমতা দেশের জন্য সতর্কবার্তা বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৬ কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেছে নেবে কংগ্রেস?