শরিফুল হাসান
আরও খবর
বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রপতি, উদ্ধত শাসনব্যবস্থা এবং মব সন্ত্রাস
মার্চ ১৯৭১: স্বাধীনতা ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিকতা
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সকল হত্যার তদন্ত ও বিচারে জুলাই যোদ্ধাদের কেন এতো অনীহা?
গণভোটের ফলাফল বনাম সাংবিধানিক সীমা
দাসত্বের দালালেরা ২০০১ এ যেভাবে সফল হয়েছিল, একইভাবে এবারও সফল
জুলাই শহীদ গেজেটঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় নোংরা রাজনীতি ও প্রতারণা!
স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্নিঝরা মার্চঃ ৩রা মার্চ ১৯৭১- বঙ্গবন্ধুর আহ্ববানে সারা দেশে হারতাল পালিত, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত পূর্ব পাকিস্থান
পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধিকার ও মুক্তির আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথমদিন থেকে। ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করার পর থেকে জনতার ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা প্রদেশে হরতাল পালিত হয়। এই দিনকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছে, কারণ এটি ছিল জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত দিন।
সারা প্রদেশে অভূতপূর্ব হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলনসকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা পূর্ব পাকিস্তানে সম্পূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। অফিস-আদালত, কল-কারখানা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট সবকিছু বন্ধ ছিল। রাস্তায় জনতার মিছিল ও
শোভাযাত্রা চলেছে। ঢাকায় পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ছাত্রনেতা রব ও সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকলেও তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন (পাকিস্তান অবজার্ভার, ইত্তেফাক ও অন্যান্য সূত্র অনুসারে): পূর্ব পাকিস্তানে অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। জনতা অস্ত্রহীন অবস্থায় রাস্তায় নেমেছে। ঢাকা শহর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ “জয় বাংলা” স্লোগানে মুখরিত। চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনায় কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অহিংস। বিশেষ ঘটনা: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও জাতীয় শোক পল্টন ময়দানে ছাত্রনেতাদের দ্বারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়েছে:
“বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা বাঙালি জাতি আজ থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করছি।” বঙ্গবন্ধু এই ঘোষণাকে সমর্থন না করে অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমরা অস্ত্র তুলে নেব না, কিন্তু অসহযোগ করব।” এই দিনকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন: “জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে শোকের ছায়া। হরতাল সফল।” (পাকিস্তান অবজার্ভার, ৪ মার্চ ১৯৭১) হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে আলোড়িত পূর্ববঙ্গের কয়েকটি শহর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত। কম করেও ৬৮ জন গুলিবিদ্ধঃ সফল হরতালে জনজীবন স্তব্ধ (যুগান্তর, ৪ঠা মার্চ, ১৯৭১) “ছাত্র-জনতার মিছিলে স্বাধীনতার স্লোগান। বঙ্গবন্ধু অহিংস পথের আহ্বান জানিয়েছেন।” (ইত্তেফাক ও স্থানীয় প্রতিবেদন) পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর গুলি ও প্রতিরোধ কিছু স্থানে সেনাবাহিনী কারফিউ ভঙ্গকারীদের ওপর
গুলি চালায়। চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হয়। তবে সামগ্রিকভাবে জনতা অহিংস থাকার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধু ২ মার্চের প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরাচার। আমরা প্রতিরোধ করব।” সংবাদপত্রের প্রতিবেদন: “সেনাবাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত। জনতা অস্ত্রহীন প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।” (বিদেশি সংবাদপত্র ও স্থানীয় রিপোর্ট) “৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন হরতাল। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ।” ৭ মার্চের অপেক্ষা বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। জনতা অধীর আগ্রহে সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩ মার্চ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম পূর্ণ দিন। এই দিনের হরতাল ও জনসভা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেন, “এবারের সংগ্রাম
আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই দিনের ঘটনাবলি পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর করে। জনতার প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে পুরো মার্চ মাস ধরেই।
শোভাযাত্রা চলেছে। ঢাকায় পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ছাত্রনেতা রব ও সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকলেও তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন (পাকিস্তান অবজার্ভার, ইত্তেফাক ও অন্যান্য সূত্র অনুসারে): পূর্ব পাকিস্তানে অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। জনতা অস্ত্রহীন অবস্থায় রাস্তায় নেমেছে। ঢাকা শহর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ “জয় বাংলা” স্লোগানে মুখরিত। চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনায় কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অহিংস। বিশেষ ঘটনা: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও জাতীয় শোক পল্টন ময়দানে ছাত্রনেতাদের দ্বারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়েছে:
“বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা বাঙালি জাতি আজ থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করছি।” বঙ্গবন্ধু এই ঘোষণাকে সমর্থন না করে অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমরা অস্ত্র তুলে নেব না, কিন্তু অসহযোগ করব।” এই দিনকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন: “জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে শোকের ছায়া। হরতাল সফল।” (পাকিস্তান অবজার্ভার, ৪ মার্চ ১৯৭১) হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে আলোড়িত পূর্ববঙ্গের কয়েকটি শহর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত। কম করেও ৬৮ জন গুলিবিদ্ধঃ সফল হরতালে জনজীবন স্তব্ধ (যুগান্তর, ৪ঠা মার্চ, ১৯৭১) “ছাত্র-জনতার মিছিলে স্বাধীনতার স্লোগান। বঙ্গবন্ধু অহিংস পথের আহ্বান জানিয়েছেন।” (ইত্তেফাক ও স্থানীয় প্রতিবেদন) পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর গুলি ও প্রতিরোধ কিছু স্থানে সেনাবাহিনী কারফিউ ভঙ্গকারীদের ওপর
গুলি চালায়। চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হয়। তবে সামগ্রিকভাবে জনতা অহিংস থাকার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধু ২ মার্চের প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরাচার। আমরা প্রতিরোধ করব।” সংবাদপত্রের প্রতিবেদন: “সেনাবাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত। জনতা অস্ত্রহীন প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।” (বিদেশি সংবাদপত্র ও স্থানীয় রিপোর্ট) “৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন হরতাল। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ।” ৭ মার্চের অপেক্ষা বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। জনতা অধীর আগ্রহে সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩ মার্চ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম পূর্ণ দিন। এই দিনের হরতাল ও জনসভা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেন, “এবারের সংগ্রাম
আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই দিনের ঘটনাবলি পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর করে। জনতার প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে পুরো মার্চ মাস ধরেই।



