টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব বাড়বে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ এপ্রিল, ২০২৫

টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব বাড়বে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ এপ্রিল, ২০২৫ |
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া চেয়ারম্যান-মেয়র নির্বাচনের সুপারিশ নিয়ে ভিন্ন মত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা। আবার পার্বত্য তিন জেলার জন্য যে বিধান সুপারিশ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন পার্বত্যাঞ্চলের বিশিষ্টজন। একই তপশিলের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠানও একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় সরকার নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তি এবং একাধিক জনপ্রতিনিধি মনে করছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচনের সুপারিশের বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাউন্সিলর ও সদস্যদের কাছে মেয়র-চেয়ারম্যানরা জিম্মি হয়ে যেতে পারেন। পার্বত্য তিন জেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পার্বত্য তিনটি জেলার

কার্যক্রম ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। সেই চুক্তির সঙ্গে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনেক জায়গায় সাংঘর্ষিক। তাদের জিজ্ঞাসা, স্থানীয় সার্কেল চিফরা কেন জেলা পরিষদের সদস্য হতে যাবেন? আর একই তপশিলে পাঁচটি নির্বাচন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে এত নির্বাচন আয়োজন করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ পর্যাপ্ত জনবল, যেসব অবকাঠামোগত সুবিধার প্রয়োজন সেগুলো নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিটিতে মেট্রোপলিটন বা সিটি গভর্নমেন্টের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করাও আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইউপি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে বিদ্যমান পদ্ধতিতেই মেয়র নির্বাচনের পক্ষে আমরা

মতামত দিয়েছি। কিন্তু কমিশন এ ব্যাপারে যে সুপারিশ করেছে, সেটি বাস্তবায়ন হলে অর্থ ও পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য বাড়তে পারে।’ মাগুরা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রানা আমির ওসমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের কাজের ধরন কিছুটা হলেও ভিন্ন। কিন্তু সবকটি এক আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে কমিশন। এক আইনের আওতায় এনে কীভাবে সবক’টি কার্যকর ভূমিকা রাখবে– এ নিয়ে সন্দেহ আছে। রানা আমির ওসমান বলেন, ইউপি সদস্য ও কাউন্সিলরদের ভোটে মেয়র-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তাতে দুর্নীতি আরও বাড়বে। কারণ আগে তাদের ভোটারের কাছে যেত হতো। এখন তারা কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যদের কেনার চেষ্টা করবেন। কাউন্সিলর ও ইউপি

সদস্যদের কেউ কেউ নিজেকে চড়া দামে বিক্রি করতেও চাইবেন। এই প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচিত হলে জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা কম থাকবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্টাডিজের পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে কিছু ভালো দিক আছে। তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও আছে। যেমন এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বিপরীতে মেম্বার-কাউন্সিলররা যদি চেয়ারম্যান-মেয়র নির্বাচন করেন, তাহলে চেয়ারম্যান-মেয়রদের দায়বদ্ধতা কার কাছে থাকবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে পৌরসভা আইনটা পৃথক হতে পারে। কারণ পৌরসভার বিষয়টি একটু ভিন্ন। আবার সিটি করপোরেশনের বিষয়টিও ভিন্ন। এটি নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারে আমলাতন্ত্রের প্রভাবের কারণে

স্থানীয় সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ভবিষ্যতে স্থায়ী সংস্কার কমিশন হলে এটা কতটা আমলার প্রভাবমুক্ত রাখা যাবে, সেটাও ভাবতে হবে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবর রহমান বলেন, কাউন্সিলরদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে যারা টাকার মালিক, পেশিশক্তির মালিক– তারা সব ক্ষমতার মালিক হয়ে যাবেন। জনগণের ক্ষমতায়ন আর হবে না। যারা এ প্রস্তাব দিয়েছেন, তারা ভালো কোনো প্রস্তাব দেননি। তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও আপত্তি আসছে। পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠী গবেষক দীপায়ন খীসা বলেন, একজন সার্কেলপ্রধানকে জেলা পরিষদের সদস্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একজন সার্কেলপ্রধান কেন জেলা পরিষদের সদস্য হতে যাবেন। একটি ইউনিটপ্রধান তো একটি পরিষদের সাধারণ সদস্য হতে চাইবেন

না। প্রয়োজন হলে জেলা পরিষদ তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক পদস্থ কর্মকর্তা জেসমিন টুলী। তিনি বলেন, একই দিনে সব নির্বাচন করলে এত জনবল কোথায় পাওয়া যাবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক রকম আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরেক রকম। বাস্তবতার নিরিখে দেখতে হবে। উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি’র নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির বলেন, ‘পর্যায়ক্রমিকভাবে যে এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে, এ জন্যই আমরা এতদিন আন্দোলন করে আসছি।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেট: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ