ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিহিংসামূলক নীতি তা নষ্ট করছে: আজিজ খান
রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ থেকে এখন বিশ্বের তীব্র খাদ্য সংকটের শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ
টিটিপির নিশানায় বাংলাদেশ: সারাদেশে ‘রেড অ্যালার্ট
বহুমুখী সংকটে শিল্পখাত, টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে সিমেন্টসহ উৎপাদন খাত
মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকার ছবি তুলে বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই
দুর্নীতির আখড়া ডিএনসিসি: বাজারদরের ৬ গুণ বেশি দামে পণ্য ক্রয়, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ দিতে বারবার দরপত্র বাতিল, শর্ত বদল
রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের মানবিক ও আর্থিক চাপে রয়েছে। এই বাস্তবতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই তহবিল থেকেই সম্প্রতি ইউরোপের তিন দেশ—ফ্রান্স, ইতালি ও তুরস্ক—সফর করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার World Bank–এর অর্থায়নে “ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্ট (ইএমসিআরপি)” বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এই প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো জরুরি খাতে কাজ হওয়ার কথা।
তবে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যখন
ব্যয় সংকোচনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন এই প্রকল্পের অর্থে বিদেশ সফরের ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে। ইউরোপ সফর: কারা গেলেন, কীভাবে গেলেন সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো. তাসনিমুজ্জামানকে ফ্রান্স ও ইতালি সফরে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের ১লা এপ্রিল জারি করা আদেশে বলা হয়, তিনি ৭ই এপ্রিল থেকে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত এই সফরে অংশ নেবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়: বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা, সরকারি সংস্থা পরিদর্শন, সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়। এই সফরের ব্যয় বহন করা হবে রোহিঙ্গা প্রকল্পের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে। তার সঙ্গে আরও সাতজন কর্মকর্তা অংশ নেন, যাদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। তুরস্ক
সফর: প্রশিক্ষণ নাকি অন্য কিছু একই সময়ে প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. তৌহিদুল ইসলাম তুরস্ক সফর করেন। ২৯শে মার্চ থেকে ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত এই সফরও একই প্রকল্পের অর্থে পরিচালিত হয়। তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে আরও সাতজন কর্মকর্তা তুরস্কে যান। সফরের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তুরস্কে আমরা মূলত রিফিউজি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তুরস্কে যেহেতু অনেক সিরীয় শরণার্থী আছে, তারা কিভাবে বিষয়গুলো ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করে—আমাদের দেশেও সেই মডেল অনুসরণ করা যায় কি না—এসব বিষয়েই প্রশিক্ষণ ছিল। এটা রোহিঙ্গা প্রকল্পের একটা অংশ।” নিজের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের সঙ্গে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট। এখানে মন্ত্রণালয় থেকে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ—দুই জায়গা থেকেই লোক ছিল। লোকজন মন্ত্রণালয় সিলেক্ট
করছে।” জবাবদিহির অভাব এই সফর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চাইলেও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পিএস মো. তাসনিমুজ্জামান ফোন বা বার্তার জবাব দেননি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানও সাড়া দেননি। এমনকি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনেরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদেশে স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তা জেসমিন প্রধান বলেন, “আমাদের কাছে নির্দেশনা এলে আমরা জিও (সরকারি আদেশ) দেই। কী বিষয়ে প্রশিক্ষণ, সেটা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলতে পারবে।” এদিকে এলজিইডির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ জানান, “এই প্রকল্পটি এখন প্রায় শেষের দিকে। এটি এখন আল আমিন ফয়সল দেখছেন।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গাদের মতো সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশ্ন উঠছে— এই বিদেশ সফরগুলো কতটা প্রয়োজনীয় ছিল? প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে এর সরাসরি প্রভাব কী? ব্যয়ের যৌক্তিকতা কতটুকু? রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক শক্তি। তবে সেই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রকল্পের কার্যকারিতা নয়—আন্তর্জাতিক আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এই ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
ব্যয় সংকোচনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন এই প্রকল্পের অর্থে বিদেশ সফরের ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে। ইউরোপ সফর: কারা গেলেন, কীভাবে গেলেন সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো. তাসনিমুজ্জামানকে ফ্রান্স ও ইতালি সফরে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের ১লা এপ্রিল জারি করা আদেশে বলা হয়, তিনি ৭ই এপ্রিল থেকে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত এই সফরে অংশ নেবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়: বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা, সরকারি সংস্থা পরিদর্শন, সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়। এই সফরের ব্যয় বহন করা হবে রোহিঙ্গা প্রকল্পের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে। তার সঙ্গে আরও সাতজন কর্মকর্তা অংশ নেন, যাদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। তুরস্ক
সফর: প্রশিক্ষণ নাকি অন্য কিছু একই সময়ে প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. তৌহিদুল ইসলাম তুরস্ক সফর করেন। ২৯শে মার্চ থেকে ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত এই সফরও একই প্রকল্পের অর্থে পরিচালিত হয়। তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে আরও সাতজন কর্মকর্তা তুরস্কে যান। সফরের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তুরস্কে আমরা মূলত রিফিউজি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তুরস্কে যেহেতু অনেক সিরীয় শরণার্থী আছে, তারা কিভাবে বিষয়গুলো ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করে—আমাদের দেশেও সেই মডেল অনুসরণ করা যায় কি না—এসব বিষয়েই প্রশিক্ষণ ছিল। এটা রোহিঙ্গা প্রকল্পের একটা অংশ।” নিজের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের সঙ্গে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট। এখানে মন্ত্রণালয় থেকে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ—দুই জায়গা থেকেই লোক ছিল। লোকজন মন্ত্রণালয় সিলেক্ট
করছে।” জবাবদিহির অভাব এই সফর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চাইলেও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পিএস মো. তাসনিমুজ্জামান ফোন বা বার্তার জবাব দেননি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানও সাড়া দেননি। এমনকি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনেরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদেশে স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তা জেসমিন প্রধান বলেন, “আমাদের কাছে নির্দেশনা এলে আমরা জিও (সরকারি আদেশ) দেই। কী বিষয়ে প্রশিক্ষণ, সেটা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলতে পারবে।” এদিকে এলজিইডির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ জানান, “এই প্রকল্পটি এখন প্রায় শেষের দিকে। এটি এখন আল আমিন ফয়সল দেখছেন।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গাদের মতো সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশ্ন উঠছে— এই বিদেশ সফরগুলো কতটা প্রয়োজনীয় ছিল? প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে এর সরাসরি প্রভাব কী? ব্যয়ের যৌক্তিকতা কতটুকু? রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক শক্তি। তবে সেই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রকল্পের কার্যকারিতা নয়—আন্তর্জাতিক আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এই ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।



