রূপপুরের ঋণ পরিশোধে ভারতীয় রুপির প্রস্তাব: মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা, বিপাকে বাংলাদেশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৬

রূপপুরের ঋণ পরিশোধে ভারতীয় রুপির প্রস্তাব: মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা, বিপাকে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৬ |
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধে বিকল্প পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন জটিল হয়ে পড়ায় এবার ভারতীয় রুপিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। তবে এই বিকল্প ব্যবস্থাও বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা Agreement on Reciprocal Trade (ART)-এর বিভিন্ন শর্ত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার রাশিয়ার দেওয়া ঋণ, যা প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৯০

শতাংশ। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রূপপুর প্রকল্পের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রুশ ব্যাংক VEB.RF-ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। ফলে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রাশিয়ায় অর্থ পাঠানো বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে চীনা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে ব্যাংকগুলো সেই লেনদেনে আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে রাশিয়ার পাওনা অর্থ সোনালী ব্যাংকে থাকা একটি হিসাবে জমা রাখার অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রূপপুরের মূল ঋণের নিয়মিত আসল পরিশোধ এখনো শুরু হয়নি। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রথম কিস্তি ২০২৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়ার

কথা। এই পরিস্থিতিতে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশকে ভারতীয় রুপিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। পাশাপাশি ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলা এবং দুই দেশের মধ্যে বিকল্প পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে মস্কো। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকেই ভারতীয় রুপিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেই বিদ্যমান কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের বিকল্প পথ তৈরি করা যায় কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। তবে বাংলাদেশ চাইলেই এই ব্যবস্থা চালু করতে পারবে—বিষয়টি এতটা সহজ নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, পেমেন্ট চ্যানেল, নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বিধিবিধান—সবকিছু বিবেচনায় নিতে

হবে। রাশিয়ার প্রস্তাবের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র Agreement on Reciprocal Trade বা ART সই করে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। চুক্তির Article 4.2-এ জাতীয় নিরাপত্তাসংবেদনশীল প্রযুক্তি ও পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এমন লেনদেন সীমিত করতে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বা কোনো মার্কিন ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন হতো। তবে চুক্তিতে এমন কোনো সরাসরি ধারা নেই যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দেশের

ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। বরং বাংলাদেশকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। ART-এর Article 4.3-এ পারমাণবিক খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, ফুয়েল রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনবে না, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘essential U.S. interests’-এর জন্য হুমকি তৈরি করে। তবে বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে সম্পাদিত কিছু চুক্তি এবং বিকল্প সরবরাহকারী না থাকলে কিছু proprietary materials-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ফলে এই শর্ত ভবিষ্যতে রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন পারমাণবিক প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে

যেকোনো ধরনের পারমাণবিক প্রকল্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিতে ‘non-market country’-এর সঙ্গে নতুন bilateral free trade agreement বা preferential economic agreement নিয়েও বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের কোনো চুক্তি যদি ART-এর কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাতিল করে আগের reciprocal tariff rate পুনর্বহাল করতে পারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি করলেই মার্কিন চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে—এমন সরাসরি বিধান নেই। তবে নির্দিষ্ট ধরনের preferential economic agreement এবং সেটির ART-এর ওপর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এখন মূল প্রশ্ন—ভারতীয় রুপিতে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের প্রস্তাব কি

বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব? বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে রুপির ব্যবহার আগে থেকেই থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে একই ব্যবস্থায় লেনদেন করতে নতুন ব্যাংকিং ও পেমেন্ট কাঠামোর প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ART-এর আওতায় বাংলাদেশের নেওয়া প্রতিশ্রুতিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিকল্প মুদ্রা নির্বাচন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কোন ব্যাংক লেনদেন পরিচালনা করবে, অর্থ কোথায় রাখা হবে, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থ গ্রহণ করতে পারবে কি না এবং পুরো লেনদেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে কি না—এসব প্রশ্নের সমাধান করতে হবে। ফলে রূপপুরের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি এখন কেবল বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, ভারতীয় রুপির ব্যবহার, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা নতুন বাণিজ্য চুক্তির শর্ত। রাশিয়ার প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার পরই স্পষ্ট হবে—ভারতীয় রুপির মাধ্যমে এই লেনদেন বাস্তবে কতটা সম্ভব এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির শর্তের সঙ্গে তা কীভাবে সামঞ্জস্য করা যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রূপপুরের ঋণ পরিশোধে ভারতীয় রুপির প্রস্তাব: মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা, বিপাকে বাংলাদেশ ঝিনাইদহে ১৫ই আগস্টে শোকপালন: প্রবাসী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ মামলায় আসামি ১৫ নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ ও তদন্তের নামে হেনস্তা: বিশ্বজুড়ে শিক্ষক-গবেষকদের উদ্বেগ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক মাসের ব্যবধানে ফের নিমজ্জিত চট্টগ্রাম: জলাবদ্ধতায় গৃহবন্দী নগরবাসী কাশিয়ানীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি ১৩ লাখের মধ্যে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার, তবে… চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আশার আলো রূপপুর: সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘পরীক্ষামূলক’ ৩০০ মেগাওয়াট বাংলাদেশের কাছে হারায় কামিন্সদের ধুয়ে দিল অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ‘জুলাই শহীদ’ সাংবাদিক এসে জানালেন- “আমি মরি নাই” বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর হামাসের সঙ্গে বিরল আলোচনা শেষে ইসরাইল কুশনার পে স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে যা জানালেন মন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্বাচনি পোস্টারে খামেনি-এরদোয়ান-মামদানি, নেপথ্যে কী? ৫০ বছর পর সাক্ষাৎকারে খুনি ডালিম: একাত্তরেই মুজিবহত্যার ছক- সম্পৃক্ত জিয়া, কোরান ছুঁয়ে নেন শপথও এমআরটি-৫-এর পর এবার লাইন-১-এর ব্যয় বৃদ্ধি ১৩০ শতাংশ: রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় ছুঁইছুঁই আগামী বছরই অবসরের ইঙ্গিত দিলেন রোনালদো এলএনজি ক্রয়ে লেজেগোবরে অবস্থা, অপরিকল্পিত লাখ লাখ ডলার খরচ কিন্তু কাটছে না গ্যাস সংকট