হামে শিশু মৃত্যু সংখ্যা হাজার পারঃ ভ্যাক্সিন সংগ্রহে ইউনূস সরকারের সংস্কার তত্ত্ব আর খামখেয়ালীপনায় ঝরে গেল সহস্রাধিক শিশুপ্রাণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ September, ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যু সংখ্যা হাজার পারঃ ভ্যাক্সিন সংগ্রহে ইউনূস সরকারের সংস্কার তত্ত্ব আর খামখেয়ালীপনায় ঝরে গেল সহস্রাধিক শিশুপ্রাণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ September, ২০২৬ |
দেশে হাম ও হাম-উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম-উপসর্গে মারা গেছে ৯০২ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছে আরও ১০০ শিশু—সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার দুই জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও প্রায় ১,২০০ শিশু। অথচ কয়েক বছর আগেও হাম বাংলাদেশে প্রায় নির্মূলের পথে ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকার কভারেজ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চহারে বজায় ছিল এবং হাম-প্রতিরোধী টিকার কভারেজ ক্রমাগত বৃদ্ধির পথে ছিল, যার ফলে ল্যাবে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে

কমে এসেছিল। আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে সম্মিলিত এমআর টিকা চালুর পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই টিকার কভারেজ ছিল ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের ঘরে—যা হাম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি। কিন্তু এই অর্জন ধরে রাখা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ-সংকট দেখা দেয়, যার সঙ্গে যুক্ত হয় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর ২০২৫এ নির্ধারিত হাম-রুবেলা সম্পূরক গণটিকাদান কর্মসূচি আয়োজিত না হওয়া—এসব কারণেই সংক্রমণ-ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়ে যায়। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই এই সংকট

ঘনীভূত হয়। ওই সময় ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং চার বছর অন্তর নির্ধারিত হাম-রুবেলা সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়নি। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা ২০২৫ সালের মে মাসে ইউনিসেফকে জানিয়েছিলেন যে দেশে টিকার মজুত মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু নতুন বরাদ্দ আসতে বিলম্ব হয়, ইউনূস সরকারের টিকা সরবরাহে সংস্কার করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতি প্রবর্তন করায়। ইউনিসেফের একটি বিবৃতিতেও সময়মতো টিকা সরবরাহ না হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। এই সংকটের প্রভাব প্রকট হয়ে ওঠে চলতি বছরের শুরু থেকেই—এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেড়ে যায়,

আর হাসপাতালগুলোতে ভর্তি, আইসিইউ ও আইসোলেশন সুবিধার ওপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সংকট সৃষ্টির দায় নিয়ে এখন সরকারি পর্যায়েও চাপান-উতোর চলছে। সম্প্রতি সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টিকার তীব্র সংকট ও তার ফলে টিকাদান ব্যাহত হওয়ার পেছনে থাকা প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ভুলের জন্য দায়ী পূর্ববর্তী (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকার। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও কেন সংকট নিরসনে কার্যকর ও জরুরি ব্যবস্থা নিতে এত সময় লাগল, যার মধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা হাজার পার হয়ে গেল। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করে বলেছেন, হামে এত শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি এবং এত রোগীও দেখা যায়নি কোনো

বছরে। তার ভাষায়, সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো—এই মূল্য দিতে হচ্ছে নিরপরাধ শিশুদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রায়-নির্মূল হওয়া, সহজে প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু কোনো “দুর্ভাগ্য” নয়—বরং এটি টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক ব্যর্থতার সরাসরি পরিণতি, যার শুরু হয় এক সরকারের আমলে এবং যা চলমান থাকে পরের সরকারের সময়েও।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ হাতিয়ায় পুলিশকে ঘিরে হত্যা মামলার আসামির পলায়ন হাতিয়ায় পুলিশকে ঘিরে হত্যা মামলার আসামির পলায়ন এম্বাপ্পের ওপর ক্ষোভের কারণ চীনারা জিজ্ঞেস করেও জানে না বিজ্ঞাপনে এআইয়ের প্রভাব, ৫০০ বিলিয়ন ডলার কমল গুগলের বাজারমূল্য তিনজনকে আহত করা চিতা বাঘের গন্তব্য অজানা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের নৌযানে পর্যটকদের ঘোরাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ২৮শে অক্টোবর, বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পিলার এলাকা এবং শিমুলিয়া ঘাটের সার্বিক নৌ-নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। এ সময় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদ্মা সেতু এলাকায় বিশেষ সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। পরিদর্শনকালে শিমুলিয়া ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি, নদীপথে পর্যটকদের চলাচল, নৌযানের নিরাপত্তা এবং পদ্মাসেতুর সংশ্লিষ্ট পিলার এলাকার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় নদীপথে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর পিলার সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো পর্যটক যাতে নদীতে ঘোরাফেরা করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু তিনি জানান, মাওয়া ও শিমুলিয়া ঘাট পদ্মা নদী কেন্দ্রিক পর্যটন ও নৌ-যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লৌহজং উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ সাগর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা নেয়াজ মোহাম্মদ খান, নৌ-পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মালেক খসরু, টুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক শেখ মো. সোহেল রানা ও শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার মো. কাওছার সহ আরও অনেকে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন। সন্ধ্যার পর পদ্মা সেতু ও মাওয়া ঘাটে পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি বিশ্বব্যাংক: বছর শেষে জ্বালানির দাম ৩২%, খাদ্যপণ্যে ১০% আর পণ্যমূল্য গড়ে ২৩% বাড়বে অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন: দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, নেই বড় অঙ্কের এলসি খোলার গ্রাহকও সুনামগঞ্জে যুদ্ধাপরাধের মামলার সাক্ষীর বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, নারীদের শ্লীলতাহানী-তাণ্ডব চালাল রাজাকারের দোসররা জুয়ার টাকা জোগাড়ে মসজিদে ইমামতি: ১৫ লাখ টাকা লোপাটের পর গ্রেপ্তার মুফতি মিজান গরুর মাংস ভুনা রেসিপি: নরম ও মসলাদার ভুনা রান্নার সহজ নিয়ম মাদারীপুরে বন্ধুসভা ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে চারা গাছ বিতরণ করেছে ছোবল খেয়ে মুঠোফোনের আলোতে সাপ ধরা, হাসপাতালে নেওয়া হল বাংলাদেশ জাপানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ১৫ মিনিটের হ্যাটট্রিকে ১,০০০ গোলের আরও কাছে রোনালদো পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের ওপর অকথ্য নির্যাতন, সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ চট্টগ্রামে বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী নুর নাহারের মরদেহ উদ্ধার দেশের অর্থনীতি ইতিমধ্যে লাইনচ্যুত, সরকারের ঋণ বেড়ে চলেছে, শঙ্কিত অর্থনীতিবিদরা