বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
     ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ | ৬:৪৫ 43 ভিউ
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা খাদ্যদামে আগুন, আয় বাড়ছে না মূল্যস্ফীতির চাপে দিশাহারা সাধারণ মানুষ কঠোর মুদ্রানীতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দেশে মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই বৃদ্ধি নতুন করে মূল্যচাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বাস্তবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় তাতে কমেনি। খাদ্যদ্রব্যের লাগামহীন দাম, টাকার অবমূল্যায়ন ও মজুরি বৃদ্ধির স্থবিরতায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় আরও সংকুচিত হচ্ছে। খাদ্যদামই এখন মূল্যস্ফীতির প্রধান চালক নভেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক

৩৬ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং গ্রামে তা ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। শীত মৌসুমে কৃষিপণ্যের সরবরাহ বাড়লে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা পিস, বেগুন ৮০ টাকা কেজি, মুলা ৪০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, শসা ও গাজর ৮০ টাকা, শালগম ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা কেজি, পেঁপে ৪০ টাকা এবং নতুন আলু ১২০ টাকা কেজি দরে। এই দরে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজার ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে

তুলেছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “তিন দিনে পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা বাড়া কোনোভাবেই উৎপাদন বা সরবরাহ সংকটের কারণে হতে পারে না। এটি বাজার নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সৃষ্ট কারসাজি।” বিগত সরকারের সময় বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়েও বিগত সরকার বাজারে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সে সময়ে টিসিবির মাধ্যমে নিয়মিত ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, আমদানিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে সরকারি সহায়তা ছিল দৃশ্যমান। এসব পদক্ষেপের কারণে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক দামের ঊর্ধ্বগতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার জায়গা যেখানে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরকারের বড় ব্যর্থতা তিনটি

জায়গায় স্পষ্ট। এক. বাজার তদারকির দুর্বলতা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, “শীতকালেও সবজির দাম না কমা সরবরাহ শৃঙ্খলে কারসাজির স্পষ্ট প্রমাণ। কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সহজেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।” দুই. টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি-নির্ভর খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, ডাল ও গমের দাম বেড়েছে। অথচ সরকার কৌশলগত মজুত বা ভর্তুকি কার্যক্রম জোরদার করতে পারেনি। তিন. উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা জ্বালানি, সার, কৃষি উপকরণ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উৎপাদক পর্যায়েই খরচ বেড়ে গেছে। এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মজুরি বাড়লেও প্রকৃত আয় কমছে নভেম্বরে সার্বিক মজুরি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা

একই মাসের মূল্যস্ফীতির ৮ দশমিক ২৯ শতাংশের নিচে। ফলে দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। টানা ৪৫ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। খাতভিত্তিক হিসাবে কৃষিখাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, শিল্পখাতে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবাখাতে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মজুরি বৃদ্ধি উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষ সঞ্চয় হারাচ্ছে, পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং ঋণনির্ভর হয়ে পড়ছে। নন-ফুড মূল্যস্ফীতিও স্বস্তি দিচ্ছে না নভেম্বরে নন-ফুড মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে গ্রামে এর হার ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং শহরে ৮

দশমিক ৯১ শতাংশ। বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে চলে যাচ্ছে। কারসাজির দায় কার বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যদাম বৃদ্ধির পেছনে উৎপাদন সংকটের চেয়ে বাজার কারসাজির ভূমিকা বেশি। প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতা অসাধু ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মজুরি বৃদ্ধি টানা মূল্যস্ফীতির কাছে পরাজিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা। দেশের মূল্যস্ফীতি এখন আর শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন টিকে থাকার লড়াইয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। খাদ্যদাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মজুরি পিছিয়ে, টাকার মান কমছে এবং বাজার তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা

ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর মুদ্রানীতির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী বাজার নজরদারি, সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমজীবী মানুষের আয় বাড়ানোর বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ। তা না হলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
স্বর্ণের দাম আরও কমলো সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় বন্ধ কাজ ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা ‘সীমিত’ করল বাংলাদেশ গাজীপুরে ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন নবম পে-স্কেল নিয়ে কমিশনের ৩ প্রস্তাব, সর্বনিম্ন বেতন যত বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন তামিম সিরিয়ায় কারফিউ, শহর ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দা রাজধানীতে তীব্র গ্যাসের সংকট কেন, জানাল তিতাস ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সিলিন্ডারের দাম কত চান ব্যবসায়ীরা? মেডিকেলে চান্স পেয়েও পড়া অনিশ্চিত তিথির হরর সিনেমায় জ্যাজি বিটজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিখোঁজ দাবি করা এনসিপি সদস্য ওয়াসিমকে পাওয়া গেল মাদক নিরাময় কেন্দ্রে! প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০ লাখ টাকায় চাকরির চুক্তি, পরীক্ষা ডিভাইসে! সনাতনী ধর্মালম্বীদেরকে হত্যার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ কেরানীগঞ্জ কারাগারে ‘মানবেতর’ জীবন: ১৮০০ বন্দিকে ২৪ ঘণ্টা লকআপ ও খাবার বঞ্চনার অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার যমুনায় বসে গবেষণার বিলাসিতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রির নীল নকশা: কার স্বার্থে এই মহাপরিকল্পনা? রাষ্ট্র ব্যর্থ বলেই বাড়ছে উগ্রবাদ: শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ও সংগ্রামের ডাক। বিশেষ কলাম ‘বাংলাদেশে কেন জন্ম নিলাম? এটা অভিশাপ’—গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে এক অসহায় বাবর্চির আর্তনাদ ‘বঙ্গবন্ধু কেবল দলের নন, তিনি আমাদের ঘরের মানুষ, তাকে কেন খলনায়ক বানানো হচ্ছে?’—তরুণের প্রশ্ন