ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
‘বিদেশের বন্ধু নিয়ে শোকাতুর ইউনূস নিজের দেশের শিশুদের গণমৃত্যুতে নির্বিকার’
হিমাগারে সংরক্ষন ব্যায়বহুল বিধায় আলু ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা, সামনে কৃষি সংকটের আশঙ্কা
ইউনূস-নুরজাহানের সৃষ্ট হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুঃ সাবেক মুখপাত্র শফিকুল ইউনিসেফ-আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপালেন দুর্নীতির দায়
বাংলাদেশে ধর্ষণ মহামারি: মাদ্রাসা থেকে রাজপথ — নিরাপদ নয় কোনো শিশু, কোনো নারী
বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স-২০২৬ কি আদৌ মুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে?
‘সক্ষমতা বাড়াতে’ দরপত্র ছাড়াই র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন
মুন্সীগঞ্জে হত্যাকাণ্ড: নিউইয়র্কে ভাতিজার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
বাংলাদেশে সাংবাদিক নিপিড়ন ও বিশ্ব প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা ও দীর্ঘমেয়াদী কারাবাস গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এক কালো ছায়া ফেলেছে। একদিকে যেমন একাত্তর টিভির মোজাম্মেল হক বাবুর জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) জানিয়েছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাংবাদিক কারাবন্দিতে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় গত মঙ্গলবার তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০০৭ সালে তিনি বৈশাখী টিভির একজন শেয়ারহোল্ডারকে অপহরণ করে জোরপূর্বক শেয়ার হস্তান্তর এবং সাড়ে ৪ কোটি টাকা
আদায় করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা চলছে, যার মধ্যে চারটিই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ের হত্যা মামলা। বাংলাদেশে বর্তমানে মোজাম্মেল বাবু ছাড়াও কারাবন্দি রয়েছেন, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা,শওকত মাহমুদ। সিপিজে-র তথ্যমতে, এসব সাংবাদিকদের অনেককেই প্রায় ৬০০ দিন ধরে কোনো চার্জশিট বা বিচার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার একে ‘দণ্ডিত হওয়ার আগেই শাস্তি ভোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিপিজে-র ২০২৫ সালের ‘প্রিজন সেন্সাস’ অনুযায়ী, টানা পঞ্চম বছরের মতো বিশ্বজুড়ে ৩০০-র বেশি সাংবাদিক কারাবন্দি। চীনে ৫০ জন, মিয়ানমারে ৩০ জন, এবং ইসরায়েলে ২৯ জন। বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪তম। প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনেক সাংবাদিককে ‘জীবিতদের কবরস্থান’
সমতুল্য নির্মম পরিবেশে দীর্ঘ সময় (৫ বছরের বেশি) বিচারহীন অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছ। যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা দীর্ঘ সময় ধরে ‘পন্থাভিত্তিক’ বা রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানের মতে, অনেক স্থানীয় সাংবাদিক সরাসরি রাজনৈতিক পদের অধিকারী হওয়ায় পালাবদলের সময় তাঁরা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই প্রতিহিংসার শিকার হন। তবে সিপিজে স্পষ্ট জানিয়েছে, সাংবাদিকতা পক্ষপাতদুষ্ট বা বিতর্কিত হওয়া কোনো ‘ফৌজদারি অপরাধ’ নয়। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সাংবাদিকদের হত্যা মামলার আসামি করা আইনের অপব্যবহারের শামিল। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা ব্যবসায়ীদের হাতে, যারা গণমাধ্যমকে ‘ব্যবসায়িক শিল্ড’ বা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। সরকারি বিজ্ঞাপন, নিউজপ্রিন্ট শুল্ক এবং ব্যক্তিগত প্লট
বা সুবিধার বিনিময়ে সাংবাদিকদের একটি অংশ সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথে অন্তরায়। এই সংকট থেকে উত্তরণে সিপিজে এবং সাংবাদিক সাহেদ আলমের মতো বিশেষজ্ঞরা কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা। তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক সার্ভিস গঠন করা, যাতে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ হয়। বিএনপি তাদের ইশতেহারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দমনমূলক আইন বাতিলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় বিনা বিচারে আটকে রাখা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে,
সরকার যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে না আসে, তবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর আরও সংকুচিত হবে এবং গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আদায় করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা চলছে, যার মধ্যে চারটিই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ের হত্যা মামলা। বাংলাদেশে বর্তমানে মোজাম্মেল বাবু ছাড়াও কারাবন্দি রয়েছেন, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা,শওকত মাহমুদ। সিপিজে-র তথ্যমতে, এসব সাংবাদিকদের অনেককেই প্রায় ৬০০ দিন ধরে কোনো চার্জশিট বা বিচার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার একে ‘দণ্ডিত হওয়ার আগেই শাস্তি ভোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিপিজে-র ২০২৫ সালের ‘প্রিজন সেন্সাস’ অনুযায়ী, টানা পঞ্চম বছরের মতো বিশ্বজুড়ে ৩০০-র বেশি সাংবাদিক কারাবন্দি। চীনে ৫০ জন, মিয়ানমারে ৩০ জন, এবং ইসরায়েলে ২৯ জন। বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪তম। প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনেক সাংবাদিককে ‘জীবিতদের কবরস্থান’
সমতুল্য নির্মম পরিবেশে দীর্ঘ সময় (৫ বছরের বেশি) বিচারহীন অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছ। যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা দীর্ঘ সময় ধরে ‘পন্থাভিত্তিক’ বা রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানের মতে, অনেক স্থানীয় সাংবাদিক সরাসরি রাজনৈতিক পদের অধিকারী হওয়ায় পালাবদলের সময় তাঁরা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই প্রতিহিংসার শিকার হন। তবে সিপিজে স্পষ্ট জানিয়েছে, সাংবাদিকতা পক্ষপাতদুষ্ট বা বিতর্কিত হওয়া কোনো ‘ফৌজদারি অপরাধ’ নয়। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সাংবাদিকদের হত্যা মামলার আসামি করা আইনের অপব্যবহারের শামিল। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা ব্যবসায়ীদের হাতে, যারা গণমাধ্যমকে ‘ব্যবসায়িক শিল্ড’ বা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। সরকারি বিজ্ঞাপন, নিউজপ্রিন্ট শুল্ক এবং ব্যক্তিগত প্লট
বা সুবিধার বিনিময়ে সাংবাদিকদের একটি অংশ সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথে অন্তরায়। এই সংকট থেকে উত্তরণে সিপিজে এবং সাংবাদিক সাহেদ আলমের মতো বিশেষজ্ঞরা কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা। তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক সার্ভিস গঠন করা, যাতে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ হয়। বিএনপি তাদের ইশতেহারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দমনমূলক আইন বাতিলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় বিনা বিচারে আটকে রাখা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে,
সরকার যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে না আসে, তবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর আরও সংকুচিত হবে এবং গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



