ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক ধর্ষিত নুসরাত জাহান রাফির কথা মনে আছে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ মে, ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক ধর্ষিত নুসরাত জাহান রাফির কথা মনে আছে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ মে, ২০২৬ |
আপনাদের মনে আছে? ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফির কথা? ২০১৯ সালের মার্চ মাসে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা বাদী হয়ে মামলা করেন এবং অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাত ও তাঁর পরিবারকে চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি রাজি হননি। একই বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান। পর্দা, রক্ষণশীল জীবনযাপন, মাদ্রাসার শিক্ষা কোনোকিছুই তাকে বাঁচতে দেয়নি। নুসরাত জাহান রাফি শরীর ভরা দগদগে ক্ষত

আর বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেছে। এদিকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নুসরাত হত্যার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে, প্রতিবেদন অনুযায়ী, দণ্ডিত আসামিদের ফাঁসির রায় এখনো কার্যকর হয়নি, যা নিয়ে পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা আজও উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছেন। আমাদের এই উদ্বেগটুকুই সম্বল। আরো উদ্বেগ আনার জন্য আছে একের পর এক মাদ্রাসা হুজুরদের দণ্ড-প্রতাপ! সম্প্রতি ১১ বছরের মাদরাসা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হবার খবরে আমাদের সবার মাথায় বাজ পড়ার দশা। অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির গর্ভে থাকা শিশুর বয়স প্রায় ২৭ সপ্তাহের বেশি (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস)। শিশুটির বয়স এখন ১২ বছর, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। শিশুটির সরু

কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি। এটি বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া শিশুটির রক্তশূন্যতাও আছে। যা এমনিতেও তার জন্য যেকোনো সময় নানান জটিলতার কারণ হতে পারে। বিকৃত যৌনাচারের বলি হওয়া ১২ বছরের শিশুটির ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা পড়লাম ঢাকা পোস্টের একটা বিস্তারিত প্রতিবেদনে। ধর্ষণের শিকার শিশুটির এখন জীবন নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কখনো মসজিদের বারান্দায় কোলে বসিয়ে, কখনো মাদরাসার রুমে আটকে রেখে যিনি এই পাশবিকতা যে করেছে তার বক্তব্যের একটা ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ভিডিওতে ধর্ষক শিক্ষক সব অস্বীকার করছেন, সবই মিথ্যা বানোয়াট। এই বাচ্চা মেয়ে বোরকা পরতো না, মাথায় হিজাব দিতো না, তাকে

কন্ট্রোল করা যেতো না…..তার মায়ের আবার বিয়ে হয়েছে, সে সৎ বাবার সাথে থেকেছে….ব্লা ব্লা কত অভিযোগ তার! অথচ এই ঘটনার শিকার অন্তঃসত্ত্বা শিশুটিই কেবল নয়, তার অন্যান্য সহপাঠীরাও এই একই লালসার শিকার হয়েছে বলেও শিশুটি জানায়। শিশুটির মা তার সাথে আদতে থাকতেন না। বেশ অনেকদিন পর তিনি বাড়িতে মেয়ের কাছে থাকতে আসেন। তার ভাষ্যমতে, “বাড়িতে আসি, তো আসার পরে ওর কাছে শুইলে আমি দেখলাম, ওর পেটটা একটু বড়। তারপরও আমি এসব ভাবি নাই। ভাবছি, ছোট মানুষের লগে আর কেউ করব এই কাম! তো আমি ডাক্তারের কাছে গেলাম, ডাক্তার কইল ছয় মাসের প্রেগন্যান্ট। পরে আমার মেয়েরে চাপ দিছি। বলি- এই ঘটনা

কার লগে করছস? কয়- আমার লগে সাগর হুজুর এমন করছে। সাগর হুজুর কিন্তু ওই দিন থেকেই ভাগছে যেদিন আমি সিলেট থেকে এলাকায় আসছি। ওই দিন থেকেই সাগর হুজুর পলাতক। তো ওর ভাই মামুন মিয়ারে বললাম, ওর ভাই বলে আমরা এইডা সমাধান কইরা ফেলি। যেটা হইছে, হইছে।” এইসব পড়তে পড়তে মাথাটা খারাপ হয়ে যায়। বাকী কিছু আসলে ভাবা যায় না। এই দেশে, এই সমাজে সুস্থ থাকার কায়দাটা আসলে কী! একটু ভালো কিছু ভাববেন, ভালো কিছু করবেন তার জন্য কীভাবে জীবন যাপন করলে ভালো হয়? কেউ কেউ বলেন ইগনোর করো! কত কিছুই আর ইগনোর করা যায়! আর ইগনোরটাই বা কেন করবো!? অনেক কিছু

লিখতে এসে লিখলামও অনেকটা। তবে খেই হারিয়ে ফেলেছি। মাদ্রাসা, হুজুর, ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন, ভায়োলেন্স এসব নিয়ে ভেবে ভেবে আমরা সবাই পাগল হয়ে যাবো আর রাষ্ট্র শুধু নিয়ম কপচাবে। যে নিয়মে লেখা এসবই হবে, হতেই থাকবে, নাগরিক তথা দর্শক হিসেবে তোমরা এসব বিনা টিকেটে দেখে যাবা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয়