ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইমাম-খাদেম সম্মানীর তালিকা তৈরিতে অসততা “সৎ লোকের শাসন” দাবিদার জামায়াতে ইসলামীর
সেনাবাহিনীর দুই বছরের ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানেও অধরা জুলাই আন্দোলনে জেল পালানো ৬৯০ অপরাধী, তালিকায় দুই শীর্ষ জঙ্গি
চাঁদার দাবিতে নোয়াখালীতে বিয়ের গাড়ীতে গুলি : গুলিবিদ্ধ ৫
রাজস্ব ঘাটতির বোঝা এবার হকারদের কাঁধে, নতুন ফি কাঠামোয় ক্ষোভ; মূল্য বৃদ্ধির আশংকায় ক্রেতারা
আরাফাত ময়দানে জিয়াউর রহমানের ‘জিয়া ট্রি’ নিয়ে তারেক রহমানের দাবি: সৌদি ঐতিহাসিক দলিলে মেলেনি সত্যতা
‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একান্তই ভারতীয় আদালতের বিষয়, ভারত সরকারের কিছু করার নেই’, অবস্থান স্পষ্ট দিল্লির
বাদামতলী ঘাট: আওয়ামী লীগ আমলে ছিল সরকারি ফি ১০০ টাকা, এখন বিএনপি নেতাদের চাঁদা ২-৫ হাজার, নিচ্ছে পুলিশও
ফাঁস হয়ে গেলো প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য প্রস্তুত করা দাবিদাওয়ার লম্বা ফর্দ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া নয়াদিল্লি সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর একটি ব্যাপক সংক্ষিপ্তসার (ব্রিফ) তৈরির কাজ শুরু করেছিল। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—এমন বিস্তৃত পরিসরের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য ও অবস্থান জমা দিতে বলা হয়েছিল। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজে চন্দন নন্দীর লেখা এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইং গত ১০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে একটি নোট জারি করে “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ক হালনাগাদ ব্রিফ” তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে তথ্য চেয়ে পাঠায়। এই তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ
করা হয়েছিল ১৩ আগস্ট, যা থেকে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি তখন পুরোদমে চলছিল। চাওয়া তথ্যের পরিধি ছিল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রায় সম্পূর্ণ পরিসর জুড়ে—জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত-পারাপার পানি বণ্টন ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক বিষয়াদি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। পানি, জলবায়ু ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি পানি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় জলবায়ু পরিবর্তন, কপ-৩০ ও কপ-৩১ সম্মেলন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল। রিসোর্সেস উইংকে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়, আর কালচারাল অ্যান্ড স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইংকে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততার বিবরণ তুলে
ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়। চীন ও রাশিয়া-ইউক্রেন প্রসঙ্গ নথিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি মূল্যায়নও চাওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহ। এই অনুরোধ থেকে বোঝা যায়, ঢাকা তার ভারত-বিষয়ক ব্রিফে এশিয়ার দুই প্রধান শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের বৃহত্তর কৌশলগত পরিমণ্ডলকেও বিবেচনায় নিতে চেয়েছিল। রাশিয়া ও ইউক্রেন প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সংঘাত পরিস্থিতির একটি হালনাগাদ মূল্যায়ন দিতে বলা হয়েছিল। কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও বহুপাক্ষিক সংগঠন ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়, আর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস উইংকে ব্রিকস নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে
ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রস্তাবিত এই ব্রিফের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল অর্থনৈতিক কূটনীতি। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি উইংকে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কূটনীতি সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়। মাল্টিল্যাটারাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স উইংকে অর্থনৈতিক কূটনীতি, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অর্জন, বহুপাক্ষিক ফোরাম ও উন্নয়ন ব্যাংক-প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের নির্ধারিত উত্তরণ এবং টাঙ্গাইল শাড়ির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরতে বলা হয়। সামুদ্রিক বিষয়াদি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সামুদ্রিক বিষয়ও এই ব্রিফে অন্তর্ভুক্ত ছিল—মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটকে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ও অগ্রাধিকার সংক্রান্ত তথ্য দিতে
বলা হয়। মিয়ানমার ইস্যুকেও আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের সাধারণত রোহিঙ্গা বলা হয়, তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার একটি হালনাগাদ মূল্যায়ন এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কী ধরনের সহায়তা প্রত্যাশা করে তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, সার্ক-বিমসটেক ও জাতিসংঘ প্রস্তাবিত ব্রিফে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একটি মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। সার্ক অ্যান্ড বিমসটেক উইংকে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের অবস্থান ও উদ্যোগ এবং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরতে বলা হয়। ইউনাইটেড নেশনস উইংকে বহুপাক্ষিক
ফোরামে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা এবং দুই দেশের সম্পৃক্ত প্রার্থিতা সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়। অর্থাৎ, এই ব্রিফের লক্ষ্য ছিল কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সহযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রগুলোও পর্যালোচনা করা। পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপ প্রসঙ্গ মন্ত্রণালয় চেয়েছিল, এই ব্রিফে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও অন্তর্ভুক্ত থাকুক—চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও তার বাংলাদেশের ওপর প্রভাব, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঢাকার অবস্থান, সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনকে দেওয়া মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত তথ্য। ইউরোপ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল—ওয়েস্ট ইউরোপ অ্যান্ড ইইউ উইংকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়। ১০ আগস্টের এই নোটে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপকতা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত নয়াদিল্লি বৈঠকের জন্য সংকীর্ণ পরিসরের কোনো ব্রিফিং নয়, বরং একটি সামগ্রিক নীতিনথি তৈরি করছিল। এই কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব প্রধান পররাষ্ট্রনীতি শাখার তথ্য একত্রিত করা হয়েছিল, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব—সবকিছুকেই আওতাভুক্ত করেছে। তবে নথিটি নিজে থেকে এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা সুপারিশ প্রদান করেনি। এটি মূলত সংশ্লিষ্ট শাখা ও ইউনিটগুলোর কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য চাওয়ার একটি অনুরোধপত্র মাত্র। ফলে এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন কোন বিষয়কে প্রাসঙ্গিক মনে করেছিল তার পরিধি নির্ধারণ করে দেয় ঠিকই, কিন্তু এসব পৃথক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কী অবস্থান গ্রহণ করতে চেয়েছিল, তা এই নথি একা থেকে বোঝা যায় না। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সর্বশেষ অবস্থা তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে এই সফর আপাতত হচ্ছে না। গত ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব একেএম শহীদুল করিম জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ এবং সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন। এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে দেশীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, আগস্টের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে তিনি ভারতে যেতে পারেন এবং সে লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তুতিও চলছিল। তবে বাংলাদেশের এই তিন শর্ত সামনে আসার পর সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে আগে জানা গিয়েছিল, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই অর্থাৎ আগস্টের শেষদিকে বা সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
করা হয়েছিল ১৩ আগস্ট, যা থেকে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি তখন পুরোদমে চলছিল। চাওয়া তথ্যের পরিধি ছিল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রায় সম্পূর্ণ পরিসর জুড়ে—জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত-পারাপার পানি বণ্টন ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক বিষয়াদি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। পানি, জলবায়ু ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি পানি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় জলবায়ু পরিবর্তন, কপ-৩০ ও কপ-৩১ সম্মেলন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল। রিসোর্সেস উইংকে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়, আর কালচারাল অ্যান্ড স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইংকে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততার বিবরণ তুলে
ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়। চীন ও রাশিয়া-ইউক্রেন প্রসঙ্গ নথিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি মূল্যায়নও চাওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহ। এই অনুরোধ থেকে বোঝা যায়, ঢাকা তার ভারত-বিষয়ক ব্রিফে এশিয়ার দুই প্রধান শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের বৃহত্তর কৌশলগত পরিমণ্ডলকেও বিবেচনায় নিতে চেয়েছিল। রাশিয়া ও ইউক্রেন প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সংঘাত পরিস্থিতির একটি হালনাগাদ মূল্যায়ন দিতে বলা হয়েছিল। কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও বহুপাক্ষিক সংগঠন ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়, আর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস উইংকে ব্রিকস নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে
ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রস্তাবিত এই ব্রিফের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল অর্থনৈতিক কূটনীতি। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি উইংকে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কূটনীতি সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়। মাল্টিল্যাটারাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স উইংকে অর্থনৈতিক কূটনীতি, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অর্জন, বহুপাক্ষিক ফোরাম ও উন্নয়ন ব্যাংক-প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের নির্ধারিত উত্তরণ এবং টাঙ্গাইল শাড়ির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরতে বলা হয়। সামুদ্রিক বিষয়াদি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সামুদ্রিক বিষয়ও এই ব্রিফে অন্তর্ভুক্ত ছিল—মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটকে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ও অগ্রাধিকার সংক্রান্ত তথ্য দিতে
বলা হয়। মিয়ানমার ইস্যুকেও আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের সাধারণত রোহিঙ্গা বলা হয়, তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার একটি হালনাগাদ মূল্যায়ন এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কী ধরনের সহায়তা প্রত্যাশা করে তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, সার্ক-বিমসটেক ও জাতিসংঘ প্রস্তাবিত ব্রিফে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একটি মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। সার্ক অ্যান্ড বিমসটেক উইংকে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের অবস্থান ও উদ্যোগ এবং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরতে বলা হয়। ইউনাইটেড নেশনস উইংকে বহুপাক্ষিক
ফোরামে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা এবং দুই দেশের সম্পৃক্ত প্রার্থিতা সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়। অর্থাৎ, এই ব্রিফের লক্ষ্য ছিল কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সহযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রগুলোও পর্যালোচনা করা। পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপ প্রসঙ্গ মন্ত্রণালয় চেয়েছিল, এই ব্রিফে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও অন্তর্ভুক্ত থাকুক—চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও তার বাংলাদেশের ওপর প্রভাব, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঢাকার অবস্থান, সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনকে দেওয়া মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত তথ্য। ইউরোপ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল—ওয়েস্ট ইউরোপ অ্যান্ড ইইউ উইংকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়। ১০ আগস্টের এই নোটে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপকতা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত নয়াদিল্লি বৈঠকের জন্য সংকীর্ণ পরিসরের কোনো ব্রিফিং নয়, বরং একটি সামগ্রিক নীতিনথি তৈরি করছিল। এই কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব প্রধান পররাষ্ট্রনীতি শাখার তথ্য একত্রিত করা হয়েছিল, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব—সবকিছুকেই আওতাভুক্ত করেছে। তবে নথিটি নিজে থেকে এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা সুপারিশ প্রদান করেনি। এটি মূলত সংশ্লিষ্ট শাখা ও ইউনিটগুলোর কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য চাওয়ার একটি অনুরোধপত্র মাত্র। ফলে এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন কোন বিষয়কে প্রাসঙ্গিক মনে করেছিল তার পরিধি নির্ধারণ করে দেয় ঠিকই, কিন্তু এসব পৃথক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কী অবস্থান গ্রহণ করতে চেয়েছিল, তা এই নথি একা থেকে বোঝা যায় না। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সর্বশেষ অবস্থা তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে এই সফর আপাতত হচ্ছে না। গত ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব একেএম শহীদুল করিম জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ এবং সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন। এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে দেশীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, আগস্টের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে তিনি ভারতে যেতে পারেন এবং সে লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তুতিও চলছিল। তবে বাংলাদেশের এই তিন শর্ত সামনে আসার পর সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে আগে জানা গিয়েছিল, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই অর্থাৎ আগস্টের শেষদিকে বা সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।



