ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জ্বালানী নিরাপত্তাঃ শেখ হাসিনার এনার্জি ডিপ্লোম্যাসি বনাম ইউনুস-তারেকের উচ্চমূল্যের বিদেশী স্বার্থরক্ষা চুক্তি
রূপপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে সংসদের বিরোধীদল এনসিপির অপতথ্য ও মিথ্যার ফ্লাডিং: জুলাই এর মতো গুজব ছড়িয়ে জনমানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা
এবার ঢাকায় ভারতীয় কাশ্মীরি নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু: সন্দেহজনক ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বহারাদের পুনরুত্থান: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে চরমপন্থীরা
রুপপুরে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোড: ইউরেনিয়াম দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কেমন হতে পারে?
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আর্জি
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যে বাতিল হয়েছিল রূপপুর: বিরোধীদের সকল বাধা উপেক্ষা করে বঞ্চিত বাংলাদেশের ৬৫ বছরের স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পের ইতিহাস ও বাস্তবায়ন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant – RNPP) বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি দুটি ইউনিটে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট (প্রতি ইউনিট ১২০০ মেগাওয়াট VVER-1200 রিঅ্যাক্টর) বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকারের সবচেয়ে সফল উন্নয়ন আর পররাষ্ট্রনীতির ফসল এই বিদ্যুতকেন্দ্র বাংলাদেশের পরমবন্ধু রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মিতে হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটম (Rosatom) এর কারিগরি সহায়তায় নির্মাণাধীন এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান আমলে উদ্যোগ ও বাতিল
১৯৬১ সালে
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম প্রস্তাব উঠে। ১৯৬৩ সালে পাবনার রূপপুরকে স্থান নির্বাচন করা হয় এবং প্রায় ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেন্দ্র নির্মাণ, যার জন্য বেলজিয়ামের সহায়তায় ১৯৬৯ সাল নাগাদ কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়। তবে ১৯৬৯-১৯৭১ সালের মধ্যে পাকিস্তান সরকার এই প্রকল্প বাতিল করে দেয়। পশ্চিম পাকিস্তানের করাচীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্থানে। ১৯৬৬ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া Karachi Nuclear Power Plant (KANUPP) ১৯৭১ সালের আগস্টে ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করে এবং অক্টোবর ১৯৭১-এ গ্রিডে যুক্ত হয় (পূর্ণাঙ্গভাবে ১৯৭২ সালে)। এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম পারমাণবিক
বিদ্যুৎ কেন্দ্র (CANDU প্রযুক্তির ১৩৭ মেগাওয়াট)। ১৯৬৯ সালের ৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুতের অভাবকে তুলে ধরেন। ১৯৭০ সালের ৮ মার্চ পাবনায় আরেকটি সভায়ও তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। স্বাধীনতার পর রুপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেন। তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) গঠন করেন এবং ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ১৯৭৭-১৯৮৬ সালে ফ্রান্সের Sofratom কোম্পানি সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্পটিকে যৌক্তিক বলে মত দেয়। পরবর্তীতে ১২৫ মেগাওয়াটের একটি
প্রকল্প অনুমোদন হলেও বিভিন্ন কারণে (অর্থায়ন, প্রযুক্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতা) তা বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বাস্তবায়ন রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ দশক (১৯৭০-এর দশক থেকে ২০১০-এর দশক) স্থগিত থাকে। ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে আন্তঃসরকারি চুক্তি (IGA) স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে (প্রথম ইউনিট) এবং ২০১৮ সালের জুলাইয়ে (দ্বিতীয় ইউনিট)। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার ৯০% রাশিয়া ঋণ হিসেবে দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর রূপপুরে প্রথম পরমাণু জ্বালানি (nuclear fuel) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা
হয়। এর মাধ্যমে সাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক সুবিধা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যোগ দেয়। সেদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র “জনগণের কাজে আসবে না”। এই মন্তব্যটি বিতর্কের জন্ম দেয়, যেখানে সরকারি দল এটিকে প্রকল্পবিরোধী অবস্থান বলে সমালোচনা করে। ২০২৩ সালের একইদিনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সংবাদ সন্মেলনের তথ্য প্রকাশ করা হয় বিএনপি’র মিডিয়া সেল এর ফেসবুক পোস্ট থেকে। সেখানে বলা হয় “পরিবর্তিত বিশ্বে পাবনার রুপপুরে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ প্রকল্পকে অপ্র্যোজনীয় উল্লেখ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড আবদুল মঈন খান বলেছেন,
বাংলাদেশ সরকার সেই অপ্রয়োজনীয় জিনিষ আঁকড়ে ধরে বাহাদুরি নিতে চাচ্ছে। এটা একটা বাচ্চা ছেলের কাজ।” বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব আজ ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং (Fuel Loading) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA) কর্তৃক কমিশনিং লাইসেন্স প্রদানের পর এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হলো। প্রায় ৪০-৪৫ দিনব্যাপী এই জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। কর্তৃপক্ষের আশা, সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে—জুলাইয়ের শেষভাগ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে—রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে ধাপে ধাপে
পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতায় উন্নীত হবে। রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশবান্ধব (কম কার্বন নিঃসরণ), নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলে, সেটা হবে এযাবতকালের সবচেয়ে কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক। রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক যাত্রা। পাকিস্তান আমলের বৈষম্যমূলক নীতি, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী উদ্যোগ থেকে শুরু করে পাঁচ দশকের প্রতীক্ষা—এই প্রকল্পটি দেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। ২০২৩ সালের জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফল বাস্তবায়ন হলে এটি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের পথে সহায়ক হবে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম প্রস্তাব উঠে। ১৯৬৩ সালে পাবনার রূপপুরকে স্থান নির্বাচন করা হয় এবং প্রায় ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেন্দ্র নির্মাণ, যার জন্য বেলজিয়ামের সহায়তায় ১৯৬৯ সাল নাগাদ কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়। তবে ১৯৬৯-১৯৭১ সালের মধ্যে পাকিস্তান সরকার এই প্রকল্প বাতিল করে দেয়। পশ্চিম পাকিস্তানের করাচীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্থানে। ১৯৬৬ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া Karachi Nuclear Power Plant (KANUPP) ১৯৭১ সালের আগস্টে ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করে এবং অক্টোবর ১৯৭১-এ গ্রিডে যুক্ত হয় (পূর্ণাঙ্গভাবে ১৯৭২ সালে)। এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম পারমাণবিক
বিদ্যুৎ কেন্দ্র (CANDU প্রযুক্তির ১৩৭ মেগাওয়াট)। ১৯৬৯ সালের ৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুতের অভাবকে তুলে ধরেন। ১৯৭০ সালের ৮ মার্চ পাবনায় আরেকটি সভায়ও তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। স্বাধীনতার পর রুপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেন। তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) গঠন করেন এবং ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ১৯৭৭-১৯৮৬ সালে ফ্রান্সের Sofratom কোম্পানি সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্পটিকে যৌক্তিক বলে মত দেয়। পরবর্তীতে ১২৫ মেগাওয়াটের একটি
প্রকল্প অনুমোদন হলেও বিভিন্ন কারণে (অর্থায়ন, প্রযুক্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতা) তা বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বাস্তবায়ন রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ দশক (১৯৭০-এর দশক থেকে ২০১০-এর দশক) স্থগিত থাকে। ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে আন্তঃসরকারি চুক্তি (IGA) স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে (প্রথম ইউনিট) এবং ২০১৮ সালের জুলাইয়ে (দ্বিতীয় ইউনিট)। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার ৯০% রাশিয়া ঋণ হিসেবে দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর রূপপুরে প্রথম পরমাণু জ্বালানি (nuclear fuel) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা
হয়। এর মাধ্যমে সাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক সুবিধা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যোগ দেয়। সেদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র “জনগণের কাজে আসবে না”। এই মন্তব্যটি বিতর্কের জন্ম দেয়, যেখানে সরকারি দল এটিকে প্রকল্পবিরোধী অবস্থান বলে সমালোচনা করে। ২০২৩ সালের একইদিনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সংবাদ সন্মেলনের তথ্য প্রকাশ করা হয় বিএনপি’র মিডিয়া সেল এর ফেসবুক পোস্ট থেকে। সেখানে বলা হয় “পরিবর্তিত বিশ্বে পাবনার রুপপুরে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ প্রকল্পকে অপ্র্যোজনীয় উল্লেখ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড আবদুল মঈন খান বলেছেন,
বাংলাদেশ সরকার সেই অপ্রয়োজনীয় জিনিষ আঁকড়ে ধরে বাহাদুরি নিতে চাচ্ছে। এটা একটা বাচ্চা ছেলের কাজ।” বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব আজ ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং (Fuel Loading) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA) কর্তৃক কমিশনিং লাইসেন্স প্রদানের পর এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হলো। প্রায় ৪০-৪৫ দিনব্যাপী এই জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। কর্তৃপক্ষের আশা, সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে—জুলাইয়ের শেষভাগ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে—রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে ধাপে ধাপে
পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতায় উন্নীত হবে। রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশবান্ধব (কম কার্বন নিঃসরণ), নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলে, সেটা হবে এযাবতকালের সবচেয়ে কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক। রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক যাত্রা। পাকিস্তান আমলের বৈষম্যমূলক নীতি, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী উদ্যোগ থেকে শুরু করে পাঁচ দশকের প্রতীক্ষা—এই প্রকল্পটি দেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। ২০২৩ সালের জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফল বাস্তবায়ন হলে এটি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের পথে সহায়ক হবে।



