নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পরিণতি : ব্যাংকিং খাতে ২৫ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট, দেড় বছরে ছয় লাখ কোটি টাকার লুটপাট – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
     ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পরিণতি : ব্যাংকিং খাতে ২৫ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট, দেড় বছরে ছয় লাখ কোটি টাকার লুটপাট

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ | ৬:৫০ 13 ভিউ
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন এমন এক অতল গহ্বরে দাঁড়িয়ে আছে যেখান থেকে ফিরে আসার পথ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪.৬ শতাংশ ঋণ ডিফল্টের হার শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি জাতির আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। যে দেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে হিংসাত্মক দাঙ্গার মাধ্যমে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা হয়, সেই দেশের অর্থনীতি যে এভাবে ধসে পড়বে তা আর আশ্চর্যের কি। মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে যা করেছে তা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। ২০২৩ সালের জুনে যেখানে ডিফল্ট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১

হাজার কোটি টাকা, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায়। এই বিশাল লাফ দেওয়া বৃদ্ধি কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক মন্দার ফল নয়, এটি পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনা এবং ইচ্ছাকৃত উপেক্ষার ফসল। যখন একটি দেশে সংবিধান লঙ্ঘন করে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয় এমন কিছু মানুষকে যাদের কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই, তখন এই ধরনের বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতের তদারকি এতটাই শিথিল হয়ে পড়েছে যে বড় ঋণগ্রহীতারা নির্দ্বিধায় কোটি কোটি টাকা মেরে দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা তো আরও ভয়াবহ, যেখানে ৪৪.৬ শতাংশ ঋণই এখন ডিফল্ট। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট

করে দেয় যে সরকারি ব্যাংকগুলো এখন কার্যত লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। যে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় এই অবৈধ ক্ষমতা দখল সম্ভব হয়েছিল, তারা হয়তো ভেবেছিল অর্থনীতি এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে না, যখন একটি নির্বাচিত সরকারকে জবরদস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রশ্ন তোলে এবং দেশীয় ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকে। ইউনুসের এই তথাকথিত সরকারের অধীনে সেটাই ঘটেছে। ব্যাংকগুলো এখন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা নতুন ঋণ দিতে ভয় পাচ্ছে, আর পুরনো ঋণ আদায়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও নেই। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল, তার পেছনে বিদেশি অর্থায়ন এবং চরমপন্থী ইসলামিক

সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অস্থিরতার সময় বড় ঋণখেলাপিরা সুযোগ বুঝে ব্যাপক আকারে ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বল তদারকির সুযোগে তারা নির্বিঘ্নে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন যে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মূল কারণ হলো ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং তদারকির অভাব। তাহলে প্রশ্ন আসে, এই তদারকির দায়িত্ব কার? যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে তাদের কি কোনো জবাবদিহিতা আছে? ইউনুস যিনি নিজেকে দারিদ্র্যবিমোচনের নায়ক হিসেবে প্রচার করেন, তার আমলেই দেশের সাধারণ মানুষের আমানত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। যখন ব্যাংকগুলোর মূলধন ক্ষয় হতে থাকে, যখন তারা বাধ্য হয়ে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়,

তখন সাধারণ আমানতকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যারা তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রাখে, তারা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমন একটি দেশে টাকা ঢালতে চান না যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো লেনদেন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে কারণ তারা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংকিং খাতকেই নয়, পুরো অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা দেখলে বোঝা যায় কীভাবে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার ডিফল্ট ঋণ মানে এই ব্যাংকগুলো এখন কার্যত দেউলিয়া। কিন্তু ইউনুসের

সরকার কি এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে? উত্তর হলো না। তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করা এবং যারা তাদের এই অবৈধ শাসনকে সমর্থন করছে তাদের খুশি রাখা। ইসলামিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পূর্ববর্তী নির্বাচিত সরকারের আমলে যেসব অনিয়ম হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করার বদলে বর্তমান অবৈধ সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিজের কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থমকে আছে, ঋণ আদায় জটিল হয়ে পড়েছে। এর কারণ সুস্পষ্ট। যখন একটি দেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল হয়, যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পদদলিত করা হয়, তখন অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে না। যে সুদী মহাজন বলে

ইউনুসকে অনেকে চিনতেন, তিনি এখন দেশের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে মহাজনি কারবারে পরিণত করে ফেলেছেন। যেখানে নিয়ম নেই, শৃঙ্খলা নেই, শুধু লুটপাট আর অব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ যে সরাসরি ব্যাংকগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে, সেটাও প্রমাণ করে যে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বিআরপিডি যে তথ্য প্রকাশ করেনি সেটাও প্রশ্নের জন্ম দেয়। কী এমন ভয়াবহ তথ্য আছে যা তারা লুকাতে চাইছে? ১৯৯৯ সালে যখন ডিফল্ট ঋণ ৪১ শতাংশে পৌঁছেছিল, তখন দেশ ছিল অনেক দুর্বল অবস্থায়। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল, ২০১১ সালে তা নেমে এসেছিল ৬.১ শতাংশে। এই অগ্রগতি রাতারাতি হয়নি, এর পেছনে ছিল সুদৃঢ় নীতি, কঠোর তদারকি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু এখন ইউনুসের অবৈধ শাসনামলে আবারও সেই ১৯৯৯ সালের দিকে ফিরে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ। পার্থক্য শুধু এটুকু যে এবার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক কারণ অর্থনীতির আকার অনেক বড় হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণও তাই বিশাল। যারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দাঙ্গা ঘটিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তারা হয়তো ভেবেছিল তারা দেশের উন্নতি করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা দেশকে অর্থনৈতিক ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাংকিং খাত যে কোনো অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। সেই হৃদপিণ্ড যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, পুরো শরীর অচল হয়ে যায়। ইউনুস এবং তার সমর্থকরা মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ে সেই হৃদপিণ্ডকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। এই বিপর্যয়ের দায় এড়ানোর কোনো উপায় নেই। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে, যারা সামরিক সমর্থন নিয়ে টিকে আছে, যারা বিদেশি অর্থায়নে চলা দাঙ্গার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কাছে জবাব চাওয়ার অধিকার জনগণের আছে। প্রশ্ন হলো, কে তাদের কাছে জবাব চাইবে? যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা ছিল জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর, তারা এখন নীরব। যে গণমাধ্যমের কথা ছিল সত্য প্রকাশ করার, তাদের অনেকেই এখন এই অবৈধ ব্যবস্থার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এই ধ্বংসলীলা শুধু একটি অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি একটি রাজনৈতিক এবং নৈতিক সংকটও। যখন অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করা হয়, যখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়, তখন এমন বিপর্যয় অনিবার্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পরিণতি : ব্যাংকিং খাতে ২৫ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট, দেড় বছরে ছয় লাখ কোটি টাকার লুটপাট নারায়ণগঞ্জে আস্ত জাহাজ চুরি : বিএনপির লুটেরা চরিত্রের নতুন নমুনা অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে গভীর খাদের কিনারে: প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে, খেলাপি ঋণে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ । ড.মামুনুর রশিদ কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ক্র্যাকপ্লাটুন বাংলাদেশ বিপিএল এক সপ্তাহ পেছাল, শুরু ২৬ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, নিহত ৪৪ প্রথম টি২০তে ৩৯ রানে হারল বাংলাদেশ চীনে দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় ১১ রেলকর্মীর মৃত্যু ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প যত ইচ্ছা সমালোচনা করতে বললেন তাওহিদ দেশ ছেড়ে পালালেন গিনি-বিসাউয়ের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ১২৮, আহত ৭৬ গোপন বৈঠক: আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ও হাসিনার অবস্থান নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ-কাতার আলোচনা সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি জামায়াতের কর্মসূচির মঞ্চসজ্জা ঘিরে তীব্র বিতর্ক জাতীয় পতাকার রঙ ‘পদদলিত’ করার অভিযোগ, আইনগত প্রশ্নেও আলোচনা সংকটে দীপিকার স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে প্রার্থী যারা বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ , সমুদ্রবন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত আরও ৩৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে স্থায়ীভাবে অভিবাসন বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের