ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজিরও
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ-রুপা, বাজারদর জেনে নিন
স্বর্ণের দাম আরও কমলো
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সিলিন্ডারের দাম কত চান ব্যবসায়ীরা?
বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
ভারতসহ ৭ দেশ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আসছে
বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৩০৬ টাকা
নানা সংকটে রিক্রুটিং এজেন্সি, হুমকির মুখে শ্রম রপ্তানি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। রেমিট্যান্স দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় বাজেট পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ খাত নানা ধরনের সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পুরোনো শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে, নতুন বাজারে প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে, আর এর ফাঁকে ঢালাও মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতায় আস্থার সংকটে পড়েছে পুরো খাত।
অভিযোগ আর হয়রানিতে আস্থা হারাচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সি: সম্প্রতি সিআইডি ও দুদক বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও মানব পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব মামলা অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়াই দায়ের হচ্ছে বলে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
সিআইডি একটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে বলেছে—অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ মেলেনি, ফলে সব ব্যবসায়ী খালাস পেয়েছেন। তবে একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, এ ধরনের তদন্ত-পরবর্তী মামলা দায়েরের আগেই ব্যবসায়ীরা হয়রানির মুখে পড়ছেন, লাইসেন্স নবায়ন জটিল হচ্ছে। তাদের ভাষায়—যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ রয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু এভাবে ঢালাও মামলায় সৎ ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়ছেন এবং প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। মালয়েশিয়া চুক্তি ও বাস্তবতা: অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকার ৭৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ‘লোক দেখানো’ চুক্তি করেছিল, যা বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। কারণ, একমাত্র টিকিটের খরচই অনেক সময় ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল। বর্তমান সরকার বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণে ফি নির্ধারণ করেছে
১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এই কর্মীদের আগেই বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে যাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন ছিল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেয়েছে হাতেগোনা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, কিন্তু মামলা হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এর ফলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মানব পাচার সূচকে তলানিতে পৌঁছেছে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সংকুচিত শ্রমবাজার, বাড়ছে চাপ: মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও বাহরাইন—যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের বড় অংশ কাজ করে, সে বাজারগুলোয় সংকোচনের প্রবণতা পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় ৫৯ হাজার ৯০ জন কর্মী গেলেও ২০২৩ সালে সংখ্যাটি ছিল ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন। ২০২৪ সালে তা
কমে ৯৩ হাজার ৬৩২-তে দাঁড়ায়। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সেখানে গেছেন মাত্র ২ হাজার ৪৮৬ জন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২২ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৫ জন, ২০২৩ সালে ৯৮ হাজার ৪২২ জন গিয়েছেন, ২০২৪ সালে ৪৭ হাজার ১৬৬ জন, আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত গেছেন মাত্র ২ হাজার ৯৯৩ জন। ওমানেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২২ সালে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১২ জন গিয়েছিলেন, যা ২০২৩ সালে কমে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩-তে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে গেছেন মাত্র ৩৫৮ জন এবং চলতি বছরের মে পর্যন্ত মাত্র ৪৩ জন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশে শ্রমিক
প্রেরণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৩ শতাংশ। নতুন বাজারে প্রবেশ ব্যর্থ হচ্ছে প্রস্তুতির ঘাটতিতে: সরকার দীর্ঘদিন ধরে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও পোল্যান্ডে নতুন শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবতা অনেকটাই পিছিয়ে। জাপানের ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি)’ বা দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস প্রোগ্রামের মতো স্কিমে ভাষাগত ও কারিগরি প্রস্তুতির অভাবে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোটা কমেছে ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি করা শ্রমিকের মান নিয়ে সংশয় বাড়ায় দেশগুলো তুলনামূলক দক্ষ দেশ—ফিলিপাইন, নেপাল ও ভিয়েতনামকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও মামলা: দুদক ও সিআইডির মামলা এবং তদন্তের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। মালয়েশিয়া
নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ। কারণ হিসেবে দেশটি দেখিয়েছে—নিয়োগে স্বচ্ছতা ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি অনুমোদন পেতে সময় লাগছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ। এতে করে বিদেশি নিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্টে নেতিবাচক অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টে বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ফের ‘ওয়াচলিস্ট’-এ স্থান পেয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিদেশি নিয়োগকারী দেশগুলো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করছে। বায়রার অভিযোগ: বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) এক নেতা বলেন, ‘পুরো খাতে এখন হযবরল অবস্থা চলছে। কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির দায়ে পুরো খাত ভুগছে। দীর্ঘদিনের চর্চা থাকা পদ্ধতি হঠাৎ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের পথে
বসানো হচ্ছে।’ তার মতে, প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ শ্রমিক বৈধ চুক্তির আওতায় বিদেশে গিয়েছেন, তাদের নিয়েই এখন মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হচ্ছে, যা ‘টিআইপি’ সূচকে বাংলাদেশকে রেড জোনে নিয়ে যেতে পারে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘মন্ত্রণালয় অনেক এজেন্সির লাইসেন্স নবায়ন করছে না। লাইসেন্স নবায়নে জটিল শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। অনেক সময় মন্ত্রণালয়েরই কর্মকর্তাদের অদক্ষতার খেসারত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’ দুদক ও সিআইডির অবস্থান: তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সিআইডি। দুদকের জনসংযোগ উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পেলে তবেই মামলা করে। তদন্তে প্রমাণ না মিললে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।’ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান বলেন, ‘সিআইডি কখনো ঢালাও মামলা করে না। অনুসন্ধান ও প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়। নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হয় না।’ বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত এখন বহুমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। একদিকে বৈধ নিয়োগেও অভিযোগ ও মামলা, অন্যদিকে নতুন বাজারে প্রবেশে ধীরগতি ও অপ্রস্তুতি। এসব সংকট দ্রুত সমাধানে সুনির্দিষ্ট নীতি, স্বচ্ছ তদন্ত ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা ছাড়া এ খাতকে আবার স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।
সিআইডি একটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে বলেছে—অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ মেলেনি, ফলে সব ব্যবসায়ী খালাস পেয়েছেন। তবে একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, এ ধরনের তদন্ত-পরবর্তী মামলা দায়েরের আগেই ব্যবসায়ীরা হয়রানির মুখে পড়ছেন, লাইসেন্স নবায়ন জটিল হচ্ছে। তাদের ভাষায়—যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ রয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু এভাবে ঢালাও মামলায় সৎ ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়ছেন এবং প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। মালয়েশিয়া চুক্তি ও বাস্তবতা: অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকার ৭৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ‘লোক দেখানো’ চুক্তি করেছিল, যা বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। কারণ, একমাত্র টিকিটের খরচই অনেক সময় ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল। বর্তমান সরকার বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণে ফি নির্ধারণ করেছে
১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এই কর্মীদের আগেই বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে যাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন ছিল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেয়েছে হাতেগোনা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, কিন্তু মামলা হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এর ফলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মানব পাচার সূচকে তলানিতে পৌঁছেছে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সংকুচিত শ্রমবাজার, বাড়ছে চাপ: মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও বাহরাইন—যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের বড় অংশ কাজ করে, সে বাজারগুলোয় সংকোচনের প্রবণতা পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় ৫৯ হাজার ৯০ জন কর্মী গেলেও ২০২৩ সালে সংখ্যাটি ছিল ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন। ২০২৪ সালে তা
কমে ৯৩ হাজার ৬৩২-তে দাঁড়ায়। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সেখানে গেছেন মাত্র ২ হাজার ৪৮৬ জন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২২ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৫ জন, ২০২৩ সালে ৯৮ হাজার ৪২২ জন গিয়েছেন, ২০২৪ সালে ৪৭ হাজার ১৬৬ জন, আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত গেছেন মাত্র ২ হাজার ৯৯৩ জন। ওমানেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২২ সালে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১২ জন গিয়েছিলেন, যা ২০২৩ সালে কমে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩-তে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে গেছেন মাত্র ৩৫৮ জন এবং চলতি বছরের মে পর্যন্ত মাত্র ৪৩ জন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদেশে শ্রমিক
প্রেরণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৩ শতাংশ। নতুন বাজারে প্রবেশ ব্যর্থ হচ্ছে প্রস্তুতির ঘাটতিতে: সরকার দীর্ঘদিন ধরে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও পোল্যান্ডে নতুন শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবতা অনেকটাই পিছিয়ে। জাপানের ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি)’ বা দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস প্রোগ্রামের মতো স্কিমে ভাষাগত ও কারিগরি প্রস্তুতির অভাবে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোটা কমেছে ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি করা শ্রমিকের মান নিয়ে সংশয় বাড়ায় দেশগুলো তুলনামূলক দক্ষ দেশ—ফিলিপাইন, নেপাল ও ভিয়েতনামকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও মামলা: দুদক ও সিআইডির মামলা এবং তদন্তের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। মালয়েশিয়া
নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ। কারণ হিসেবে দেশটি দেখিয়েছে—নিয়োগে স্বচ্ছতা ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি অনুমোদন পেতে সময় লাগছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ। এতে করে বিদেশি নিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্টে নেতিবাচক অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টে বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ফের ‘ওয়াচলিস্ট’-এ স্থান পেয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিদেশি নিয়োগকারী দেশগুলো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করছে। বায়রার অভিযোগ: বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) এক নেতা বলেন, ‘পুরো খাতে এখন হযবরল অবস্থা চলছে। কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির দায়ে পুরো খাত ভুগছে। দীর্ঘদিনের চর্চা থাকা পদ্ধতি হঠাৎ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের পথে
বসানো হচ্ছে।’ তার মতে, প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ শ্রমিক বৈধ চুক্তির আওতায় বিদেশে গিয়েছেন, তাদের নিয়েই এখন মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হচ্ছে, যা ‘টিআইপি’ সূচকে বাংলাদেশকে রেড জোনে নিয়ে যেতে পারে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘মন্ত্রণালয় অনেক এজেন্সির লাইসেন্স নবায়ন করছে না। লাইসেন্স নবায়নে জটিল শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। অনেক সময় মন্ত্রণালয়েরই কর্মকর্তাদের অদক্ষতার খেসারত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’ দুদক ও সিআইডির অবস্থান: তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সিআইডি। দুদকের জনসংযোগ উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পেলে তবেই মামলা করে। তদন্তে প্রমাণ না মিললে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।’ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান বলেন, ‘সিআইডি কখনো ঢালাও মামলা করে না। অনুসন্ধান ও প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়। নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হয় না।’ বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত এখন বহুমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। একদিকে বৈধ নিয়োগেও অভিযোগ ও মামলা, অন্যদিকে নতুন বাজারে প্রবেশে ধীরগতি ও অপ্রস্তুতি। এসব সংকট দ্রুত সমাধানে সুনির্দিষ্ট নীতি, স্বচ্ছ তদন্ত ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা ছাড়া এ খাতকে আবার স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।



