ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
টাকায় বাঘের দুধ না মিললেও ১৫ মিনিটেই মিলছে যে কারও এনআইডি, কললিস্ট, কারেন্ট লোকেশনসহ সকল নথিপত্র
শেখ হাসিনা: উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে বাংলাদেশে জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে
১২ ও ৪ বছর আগে প্রয়াত দুই আওয়ামী লীগ নেতাকেও মামলার আসামি করল পুলিশ
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘নেট মিটারিং নীতি’ নতুন মোড়কে ‘রুফটপ সোলার’ রূপে হাজির!
হাসপাতালে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং
বিমানবন্দরে ৪৭৫ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ আটক ২
বাজারে দেশি প্যাকেটজাত চিনির আকাল, ছেয়ে গেছে আমদানি করা বস্তার চিনি — অস্তিত্ব সংকটে দেশের চিনি পরিশোধন শিল্প
ধানের ন্যায্যমূল্য পায় না কৃষক, দামে ধস অথচ চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী!
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। অন্যদিকে ধানের দাম কমলেও বাজারে চালের দাম কমেনি; বরং ঊর্ধ্বমুখী। ফলে ধান উৎপাদনকারী কৃষক যেমন লোকসানের মুখে পড়েছেন, তেমনি বাড়তি দামে চাল কিনতে গিয়ে ভোক্তারাও বিপাকে পড়েছেন। বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগও নেই।
কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ধান কেনা ও চাল বিক্রির ক্ষেত্রে একটি অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা সুনামগঞ্জে ধান ও চালের বাজারে এমন বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, আগাম বন্যা ও বৃষ্টির কারণে কাটা এবং স্তুপ করে রাখা ধান কালচে হয়ে গুণগত মান হারিয়েছে। এ কারণে এসব ধান কম
দামে কিনতে হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয় জানা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় পোনে চার লাখ চাষী পরিবার রয়েছে। যারা হাওরে ধান চাসবাসে জড়িত। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতায় হাওরের প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরও চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে কৃষকরা অবশিষ্ট ফসল ঘরে তুলেছেন। কিন্তু সরকার সেই ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখিয়েছে। এতে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকরা। এদিকে লাখো কৃষকের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০ হাজার কৃষককে সরকার তিন মাসের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা
এবং ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছে। সরকারি হিসাবে জেলায় মোট ১৫ হাজার ৭৮৬ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। তবে কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। কৃষকরা জানান, সরকার কৃষক পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা মোট উৎপাদনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন ও ভোগান্তিরর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি হুদামে বিএনপির নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটই এবার ধান দিয়েছে গুদামে। এতে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত কৃষক। ফলে অধিকাংশ কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। এতে বিপুল পরিমাণ ধান কৃষকের বাড়িতে পড়ে রয়েছে। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ থেকে ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক
টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অথচ সরকারি নির্ধারিত ধানের মূল্য প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। ধান সস্তা চালের দাম চড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো ও নতুন সরু চাল প্রতি মণ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ভালো উৎপাদনের পরও হাওরের বাজারে চালের দামে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অথচ ধানের
বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। কালিপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক বদিউজ্জামানকে গত ২৭শে আগস্ট তিনটি অটোগাড়িতে ধানের বস্তা নিয়ে একটি অটো মিলে যেতে দেখা যায়। তিনি জানান, বেশি দামে বিক্রির আশায় খেতের ধান সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু এখন ধানের দাম কমতির দিকে। তার ওপর সংরক্ষণের অভাবে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি প্রতি মণ ৬৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছেন। বদিউজ্জামান বলেন, ‘এ দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। প্রতি ৩০ শতাংশ জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ ধান উৎপাদন হয়। কৃষক কোনো রকমে টিকে
থাকতে পারে, যদি ধানের ন্যায্য দাম পায়।’ মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বড় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, আমি প্রায় এক হাজার মণ ধান পেয়েছি। সরকারি গুদামে ধান দিতে পারিনি। এখন ধান বিক্রিও করতে পারছি না। পাইকাররা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি দিতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় আমার এলাকার শত শত কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা মোনাজ্জির হোসেন সুজন বলেন, সুনামগঞ্জের কৃষক হাওরের ধানের ওপরই নির্ভরশীল। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে তাদের নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কৃষকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ধান-চালের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকলে তা ভেঙে দিয়ে কৃষকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। হাওর
বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করা পর্যন্ত তাদের বঞ্চনা দূর হবে না। এবার কৃষকরা বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ উৎপাদন ভালো হওয়ার পরও চালের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। চালের দামও কমেনি। তিনি বলেন, পাইকাররা ধান কালচে হয়ে গুণগত মান নষ্ট হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে কম দামে ধান কিনছেন। এতে কৃষকরা সরাসরি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফেরদৌস জাহান নিশাত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
দামে কিনতে হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয় জানা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় পোনে চার লাখ চাষী পরিবার রয়েছে। যারা হাওরে ধান চাসবাসে জড়িত। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতায় হাওরের প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরও চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে কৃষকরা অবশিষ্ট ফসল ঘরে তুলেছেন। কিন্তু সরকার সেই ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখিয়েছে। এতে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকরা। এদিকে লাখো কৃষকের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০ হাজার কৃষককে সরকার তিন মাসের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা
এবং ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছে। সরকারি হিসাবে জেলায় মোট ১৫ হাজার ৭৮৬ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। তবে কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। কৃষকরা জানান, সরকার কৃষক পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা মোট উৎপাদনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন ও ভোগান্তিরর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি হুদামে বিএনপির নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটই এবার ধান দিয়েছে গুদামে। এতে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত কৃষক। ফলে অধিকাংশ কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। এতে বিপুল পরিমাণ ধান কৃষকের বাড়িতে পড়ে রয়েছে। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ থেকে ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক
টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অথচ সরকারি নির্ধারিত ধানের মূল্য প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। ধান সস্তা চালের দাম চড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো ও নতুন সরু চাল প্রতি মণ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ভালো উৎপাদনের পরও হাওরের বাজারে চালের দামে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অথচ ধানের
বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। কালিপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক বদিউজ্জামানকে গত ২৭শে আগস্ট তিনটি অটোগাড়িতে ধানের বস্তা নিয়ে একটি অটো মিলে যেতে দেখা যায়। তিনি জানান, বেশি দামে বিক্রির আশায় খেতের ধান সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু এখন ধানের দাম কমতির দিকে। তার ওপর সংরক্ষণের অভাবে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি প্রতি মণ ৬৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছেন। বদিউজ্জামান বলেন, ‘এ দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। প্রতি ৩০ শতাংশ জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ ধান উৎপাদন হয়। কৃষক কোনো রকমে টিকে
থাকতে পারে, যদি ধানের ন্যায্য দাম পায়।’ মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বড় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, আমি প্রায় এক হাজার মণ ধান পেয়েছি। সরকারি গুদামে ধান দিতে পারিনি। এখন ধান বিক্রিও করতে পারছি না। পাইকাররা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি দিতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় আমার এলাকার শত শত কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা মোনাজ্জির হোসেন সুজন বলেন, সুনামগঞ্জের কৃষক হাওরের ধানের ওপরই নির্ভরশীল। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে তাদের নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কৃষকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ধান-চালের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকলে তা ভেঙে দিয়ে কৃষকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। হাওর
বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করা পর্যন্ত তাদের বঞ্চনা দূর হবে না। এবার কৃষকরা বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ উৎপাদন ভালো হওয়ার পরও চালের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। চালের দামও কমেনি। তিনি বলেন, পাইকাররা ধান কালচে হয়ে গুণগত মান নষ্ট হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে কম দামে ধান কিনছেন। এতে কৃষকরা সরাসরি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফেরদৌস জাহান নিশাত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।



