ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
একটির খরচে ৫টি দূরে থাক, উল্টো মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমিক আমদানি ও ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করল লাওস
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি ক্লোজড
বিএনপি-জামায়াতপন্থি ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন দপ্তরে হুমকি-ধমকি: এমপি-মন্ত্রীদের চাপ
পাকিস্তানের ফুললি ফান্ডেড স্কলারশিপের মুলা: উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের হাহাকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা চুরি করে ট্রান্সফরমার
৭ নেতার ফাঁসির রায়: সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব প্রতিবাদ
তিস্তা প্রকল্পে নতুন মেরুকরণ, বেইজিংয়ের পর নজর ওয়াশিংটনেরও: কৌশলগত নতুন ক্ষেত্র উত্তরাঞ্চল?
দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী প্রকল্পকে ভারত-চীন প্রতিযোগিতার আলোকে দেখা হলেও এবার সেই সমীকরণে যুক্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ। কূটনৈতিক ও পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিস্তাকে ঘিরে উত্তর বাংলাদেশে নতুন কৌশলগত প্রতিযোগিতার আভাস মিলছে।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার বিষয়ে সমঝোতা হয়। চীন সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সহায়তার আগ্রহ দেখায়।
এই প্রেক্ষাপটে গত ৩০শে আগস্ট মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেচ, পানি বণ্টন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা
করেন এবং ব্যারেজের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বাংলাবান্ধা পরিদর্শন করেন। তবে এই সফরই প্রমাণ করে না যে ওয়াশিংটন তিস্তা প্রকল্পের দায়িত্ব নিচ্ছে। এ সংক্রান্ত কোনো গোপন মার্কিন নির্দেশনা বা পেন্টাগন-সিআইএর কার্যকরী ভূমিকার কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্নটি তিস্তায় “লাস ভেগাস” বানানোর গুজব নয়। প্রশ্ন হলো, বেইজিং যখন কারিগরি পর্যায়ে এগোচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন কেন তিস্তায় নজর দিচ্ছে। তিস্তা কেবল সেচ প্রকল্প নয়। এটি পানি নিরাপত্তা, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে চীনের কৌশলগত উপস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। তাই যে কোনো বড় বাহ্যিক সম্পৃক্ততার প্রভাব প্রকৌশলের বাইরেও বিস্তৃত। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন প্রধান অংশীদার হলে উত্তরাঞ্চলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক
প্রবেশাধিকার বাড়বে। ভারত যুক্ত হলে এটি আন্তঃসীমান্ত পানি আলোচনার নতুন ক্ষেত্র হবে। আর যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হলে উন্নয়ন অর্থায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা ও কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৌশলগত সমীকরণ আরও জটিল হবে। এ অবস্থায় ঢাকার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো তিস্তাকে সার্বভৌম বাংলাদেশি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে ধরে রাখা, যাতে এটি বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার হাতিয়ারে পরিণত না হয়। সরকার চীনা প্রযুক্তি, ভারতীয় সহযোগিতা বা মার্কিন দক্ষতা— যে কোনো সহযোগিতাই স্বাগত জানাতে পারে, তবে ব্যয়, অর্থায়নের শর্ত, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামোর মালিকানা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে প্রতিটি প্রস্তাব আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
করেন এবং ব্যারেজের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বাংলাবান্ধা পরিদর্শন করেন। তবে এই সফরই প্রমাণ করে না যে ওয়াশিংটন তিস্তা প্রকল্পের দায়িত্ব নিচ্ছে। এ সংক্রান্ত কোনো গোপন মার্কিন নির্দেশনা বা পেন্টাগন-সিআইএর কার্যকরী ভূমিকার কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্নটি তিস্তায় “লাস ভেগাস” বানানোর গুজব নয়। প্রশ্ন হলো, বেইজিং যখন কারিগরি পর্যায়ে এগোচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন কেন তিস্তায় নজর দিচ্ছে। তিস্তা কেবল সেচ প্রকল্প নয়। এটি পানি নিরাপত্তা, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে চীনের কৌশলগত উপস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। তাই যে কোনো বড় বাহ্যিক সম্পৃক্ততার প্রভাব প্রকৌশলের বাইরেও বিস্তৃত। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন প্রধান অংশীদার হলে উত্তরাঞ্চলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক
প্রবেশাধিকার বাড়বে। ভারত যুক্ত হলে এটি আন্তঃসীমান্ত পানি আলোচনার নতুন ক্ষেত্র হবে। আর যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হলে উন্নয়ন অর্থায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা ও কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৌশলগত সমীকরণ আরও জটিল হবে। এ অবস্থায় ঢাকার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো তিস্তাকে সার্বভৌম বাংলাদেশি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে ধরে রাখা, যাতে এটি বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার হাতিয়ারে পরিণত না হয়। সরকার চীনা প্রযুক্তি, ভারতীয় সহযোগিতা বা মার্কিন দক্ষতা— যে কোনো সহযোগিতাই স্বাগত জানাতে পারে, তবে ব্যয়, অর্থায়নের শর্ত, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামোর মালিকানা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে প্রতিটি প্রস্তাব আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।



