ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হুথিদের অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরে বাড়ছে সংকট, হুমকিতে বৈশ্বিক বাণিজ্য
ব্রিকসে ভারতের স্বার্থ কোথায়, কেন জোটটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে নয়াদিল্লি
ইসরায়েলের কাছে প্রতিরক্ষা সহায়তা চাইল সৌদি আরব
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল চীন-রাশিয়া
ফলাফলে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা
কাকে বিয়ে করলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ
ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক স্থাপনা, কমেছে অস্ত্রের মজুত
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। পেন্টাগনের পরিদর্শক জেনারেলের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্রটি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের সরবরাহব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সরবরাহ কার্যক্রমের একটি বড় অংশ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌসেনাদের জন্য ডাক ও অন্যান্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে পেন্টাগনের প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে বেশ কিছু তথ্য গোপন থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, কিছু ধ্বংস হওয়া বিমানও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাশাপাশি সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয়েরও কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটির কার্যক্রম দূরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন করা হবে কি না, তা
নিয়েও নতুন করে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পেন্টাগনের হিসাবে সংঘাতের ব্যয় প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মতো হলেও সামরিক অবকাঠামোর ধ্বংস, সহায়ক কার্যক্রম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত করলে দৈনিক ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রণালিটি এখনও স্বাভাবিকভাবে চালু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথই চাপের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২
কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের যে সক্ষমতা ছিল, তা কমে আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরেও পরস্পরবিরোধী দাবি উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজটি মাইনে আঘাত পাওয়ার দাবি করা হলেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে একটি ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজ চলাচলের তথ্যেও প্রণালিটির পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, সাম্প্রতিক এক দিনে মাত্র চারটি এবং তার আগের দিনে
১০টি জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করেছে। তবে কিছু জাহাজ অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশেও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের একাধিক বন্দরনগরী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে বিমানঘাঁটি, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদাম এবং তেল স্থাপনাও রয়েছে। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, ঘাঁটি পুনর্গঠন, গোলাবারুদের মজুত এবং সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে নতুন
করে কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এর ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌসেনাদের জন্য ডাক ও অন্যান্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে পেন্টাগনের প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে বেশ কিছু তথ্য গোপন থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, কিছু ধ্বংস হওয়া বিমানও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাশাপাশি সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয়েরও কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটির কার্যক্রম দূরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন করা হবে কি না, তা
নিয়েও নতুন করে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পেন্টাগনের হিসাবে সংঘাতের ব্যয় প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মতো হলেও সামরিক অবকাঠামোর ধ্বংস, সহায়ক কার্যক্রম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত করলে দৈনিক ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রণালিটি এখনও স্বাভাবিকভাবে চালু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথই চাপের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২
কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের যে সক্ষমতা ছিল, তা কমে আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরেও পরস্পরবিরোধী দাবি উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজটি মাইনে আঘাত পাওয়ার দাবি করা হলেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে একটি ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজ চলাচলের তথ্যেও প্রণালিটির পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, সাম্প্রতিক এক দিনে মাত্র চারটি এবং তার আগের দিনে
১০টি জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করেছে। তবে কিছু জাহাজ অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশেও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের একাধিক বন্দরনগরী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে বিমানঘাঁটি, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদাম এবং তেল স্থাপনাও রয়েছে। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, ঘাঁটি পুনর্গঠন, গোলাবারুদের মজুত এবং সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে নতুন
করে কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।



