ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এলপিজি সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য: প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায়
নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ
ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে
দেশে আজ সোনার ভরি কত
৮০% পর্যন্ত বিশাল ছাড়ে শুরু হলো ‘দারাজ বৈশাখী মেলা’
দেশে জ্বালানি মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন
ঢাকায় পরীক্ষামূলক ফুয়েল পাস চালু, যেভাবে নিবন্ধন করবেন
তারল্যচাপে অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ, ৪২ দিনে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ
রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার চাপ মোকাবিলায় ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের ঋণনির্ভরতা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের মাত্র নয় মাসেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঋণগ্রহণের গতি তীব্র হওয়ায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেড় মাসের ব্যবধানে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং সর্বশেষ তিন মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঋণের বড় অংশই পরিচালন ব্যয় ও চলমান দায় পরিশোধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এটি উৎপাদনশীল খাতে সম্পদ প্রবাহ না বাড়িয়ে
উল্টো ব্যাংকিং খাতে তারল্যচাপ তৈরি করছে। অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা—দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি—রাজস্ব আহরণের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের এই ঘাটতি পূরণে সরকার ক্রমেই ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা নীতিগতভাবে ‘ফিসকাল ব্যাকস্টপ’-এর পরিবর্তে একটি অনানুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট ফাইন্যান্সিং মেকানিজম’-এ রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু শুধু ঋণের পরিমাণ নয়; বরং এর ব্যবহার কাঠামো ও পুনঃপ্রবাহের দুর্বলতা। সরকারের উচ্চমাত্রার ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান তারল্য সংকট ও মূলধন ঘাটতির চাপের কারণে
এই ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও আর্থিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে, বর্তমান ব্যাংকিং খাতে চাপ কেবল তারল্য সংকটে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আস্থাজনিত সংকটও। দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের উচ্চমাত্রা নতুন ঋণ সৃষ্টির সক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ধারাবাহিক উচ্চ ঋণগ্রহণ আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও একমুখী ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঋণ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে ঋণ পরিশোধ ও পুনঃঅর্থায়নের চাপ রাজস্ব কাঠামোর ওপর নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে সরকারের নেওয়া ঋণের বড় অংশই স্বল্পমেয়াদি প্রকৃতির হওয়ায় ভবিষ্যতে রিফাইন্যান্সিং ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতির মৌলিক প্রশ্ন তাই ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—রাজস্ব
সংস্কার ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে যদি ঋণনির্ভর ব্যয় ব্যবস্থাপনা চলতেই থাকে, তবে তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে।
উল্টো ব্যাংকিং খাতে তারল্যচাপ তৈরি করছে। অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা—দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি—রাজস্ব আহরণের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের এই ঘাটতি পূরণে সরকার ক্রমেই ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা নীতিগতভাবে ‘ফিসকাল ব্যাকস্টপ’-এর পরিবর্তে একটি অনানুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট ফাইন্যান্সিং মেকানিজম’-এ রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু শুধু ঋণের পরিমাণ নয়; বরং এর ব্যবহার কাঠামো ও পুনঃপ্রবাহের দুর্বলতা। সরকারের উচ্চমাত্রার ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান তারল্য সংকট ও মূলধন ঘাটতির চাপের কারণে
এই ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও আর্থিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে, বর্তমান ব্যাংকিং খাতে চাপ কেবল তারল্য সংকটে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আস্থাজনিত সংকটও। দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের উচ্চমাত্রা নতুন ঋণ সৃষ্টির সক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ধারাবাহিক উচ্চ ঋণগ্রহণ আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও একমুখী ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঋণ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে ঋণ পরিশোধ ও পুনঃঅর্থায়নের চাপ রাজস্ব কাঠামোর ওপর নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে সরকারের নেওয়া ঋণের বড় অংশই স্বল্পমেয়াদি প্রকৃতির হওয়ায় ভবিষ্যতে রিফাইন্যান্সিং ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতির মৌলিক প্রশ্ন তাই ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—রাজস্ব
সংস্কার ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে যদি ঋণনির্ভর ব্যয় ব্যবস্থাপনা চলতেই থাকে, তবে তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে।



