‘টেলিভিশনের খবরে জানতে পারি, আমার বাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ আগস্ট, ২০২৬

‘টেলিভিশনের খবরে জানতে পারি, আমার বাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ আগস্ট, ২০২৬ |
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ভুক্তভোগীর সন্তান। বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষ্য দেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার আগৈলঝাড়া উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লার ছেলে আশিকুর রহমান আছিফ। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম

এহসানউল্লাহ। এর মধ্যে মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার রয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা। অভিযোগে বলা হয়, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহর নির্দেশে তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যরা ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করেন। জবানবন্দিতে আশিকুর রহমান

আছিফ বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়া থানার নগরবাড়ি গ্রামে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমার বাবা ও এ মামলার অপর ভুক্তভোগী টিপু হাওলাদার কাকা একসঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলায় রাজনীতি করতেন।’ তিনি বলেন, ‘আগৈলঝাড়া উপজেলায় তারা অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। অনেক মানুষ তাদের পছন্দ করতেন এবং তাদের ডাকে সাড়া দিতেন। গ্রামের লোকজন যেকোনো বিপদে তাদের পাশে পেতেন। তাদের এই জনপ্রিয়তার কারণে বরিশাল-১ আসনের তৎকালীন এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন।’ আছিফ আরও বলেন, ‘কিছুদিন পরপরই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর লোকজন

আমাদের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার বাবাকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলতেন। অন্যথায় তাঁদের দলে যোগ দিতে বলতেন। এসব হুমকির কারণে আমার বাবা এলাকা ছেড়ে আমার মা, ভাই ও আমাকে নিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থানার কুড়গাঁও এলাকায় চলে আসেন।’ জবানবন্দিতে আছিফ আরও বলেন, ‘আমার বাবা বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং আমার মা গার্মেন্টসে কাজ করতেন। মাঝে মাঝে আমার বাবা গ্রামের বাড়িতে যেতেন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে লোকজন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।’ তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আমার বাবার নামে আগৈলঝাড়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে পারি। ওই দিন ১২-১৩ জন লোক কুড়গাঁওয়ের বাসা থেকে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে আমার বাবাকে

নিয়ে যায়। আমার মা জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা জানান, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির নির্দেশে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ আছিফ বলেন, ‘পরবর্তীতে ২০ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের খবরে জানতে পারি, আমার বাবা ও টিপু হাওলাদার কাকা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গ্রাম থেকে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জানতে পারি, পুলিশ আমার বাবা ও টিপু হাওলাদার কাকাকে হত্যা করেছে। আমি, আমার ছোট কাকা ও আমার মা সন্ধ্যার সময় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পাই, পুলিশ আমার বাবার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে রেখে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমার বাবার লাশ দাফনের সময় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর লোকজন এসে আমাদের গালাগালি করেন

এবং দ্রুত লাশ দাফন করে ঢাকায় চলে যেতে বলেন।’ আছিফের জবানবন্দি অনুযায়ী, ‘আমরা লাশ দাফন করে ঢাকায় চলে আসার পর জানতে পারি, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে বরিশাল জেলার এসপি এহসানউল্লাহর মাধ্যমে উজিরপুর থানার দুজন পুলিশ সদস্যকে দিয়ে আমার বাবা ও টিপু কাকাকে হত্যা করিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উজিরপুর থানার এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসিমকে দিয়ে আমার বাবা ও টিপু কাকাকে হত্যা করা হয়। আমার বাবা ও টিপু কাকা দুজনেই একসঙ্গে রাজনীতি করতেন এবং তাঁদের কোনো দোষ ছিল না। শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা ও তাদের জনপ্রিয়তার কারণে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে এসপি এহসানউল্লাহর মাধ্যমে এএসআই মাহাবুল

ও এএসআই জসিমকে দিয়ে তাঁদের হত্যা করিয়েছেন।’ জবানবন্দিতে আছিফ আরও বলেন, ‘আমার বাবা ও টিপু কাকাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, একইভাবে তৎকালীন সরকারের আমলে বিরোধী দলকে দমন করতে সারা দেশে অনেক মানুষকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও খবরের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার বাবা ও টিপু কাকাসহ বরিশাল জেলায় আরও পাঁচ-ছয়জনকে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে হত্যা করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নতুন কূটনৈতিক ফাঁদ? শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: চিফ হুইপ কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের জন্য হেল্পলাইন চালু সরু সিঁড়ি, নেই জরুরি বহির্গমন পথ, কলকাতার হোটেল নিয়ে নানা প্রশ্ন ২ হাজার টাকার জন্য খুন, বাথরুমে মিললো ছুরি ‘টেলিভিশনের খবরে জানতে পারি, আমার বাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ জালিয়াতির অভিযোগ, হান্নান মাসউদের এমপি পদ শূন্য ঘোষণা চেয়ে রিট ইরানের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত সেবার মান, ইন্টারনেটের ধীরগতি ও ভ্যাস নিয়ে অভিযোগ বেশি ১৫ অগাস্টের কর্মসূচির চেষ্টা করায় বাংলাদেশ জাসদের কার্যালয় উচ্ছেদ করছে সরকার ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী: দ্রব্যমূল্য কমাতে সময় লাগবে, ছয় মাসে দৃশ্যমান ফল চাওয়া ঠিক নয় রাশিয়া থেকে গম আমদানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, ব্যাখ্যা দিলো রুশ দূতাবাস শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ বিএনপি সরকারের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ওয়ার্নারের সাজা ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় রদ্রি ঢাবিতে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বক্তা আনার নেপথ্যে শিবির, অন্ধকারে হল কর্তৃপক্ষ ১,৮৫০ কোটি টাকার এলএনজি কেনাকাটা, কমিশন-বাণিজ্যের ঝুঁকি কতটা শেখ হাসিনার ‘মহিলা বাস’ এবার ‘পিংক বাস’ নামে নতুন যাত্রা বৈছাআ নেতা মাহদীসহ আটক ৩