‘টাকা খরচ হলেও যদি ছেলেদের ফিরে পেতাম’: ১২ দিনের ব্যবধানে হাম কেড়ে নিল মিরসরাইয়ের সেই যমজ ছেলেকে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৫ জুন, ২০২৬

‘টাকা খরচ হলেও যদি ছেলেদের ফিরে পেতাম’: ১২ দিনের ব্যবধানে হাম কেড়ে নিল মিরসরাইয়ের সেই যমজ ছেলেকে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ জুন, ২০২৬ |
‘সব হারিয়ে আমি এখন পথের ভিখারি। স্বজন, এনজিও—সবার কাছে হাত পেতেছি শুধু সন্তানদের বাঁচাতে। ৬ লাখ টাকা খরচ করলাম, নিজের নাওয়া-খাওয়া ভুললাম, তবু আমার বুক খালি হয়ে গেল।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকার হারুনুর রশিদ। হামের ভয়াল থাবায় মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে তাঁর এক বছর বয়সী ফুটফুটে দুই যমজ সন্তান—আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও আবদুল্লাহ আল নোমান না ফেরার দেশে চলে গেছে। এক বুক শোক আর পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে এখন দিশাহারা এই হতভাগ্য পিতা। হারুনুর রশিদ পেশায় একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানদার। গত বছরের ১৬ই এপ্রিল তাঁর ঘর আলো করে এসেছিল যমজ দুই সন্তান। গত ৮ মার্চ

বড় ছেলে ফাহিমের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৮ই মার্চ তার শরীরে হাম শনাক্ত হয়। ফাহিম কিছুটা সুস্থ হতে না হতেই এপ্রিলের মাঝামাঝি ছোট ছেলে নোমানও হামে আক্রান্ত হয়। শুরু হয় দুই সন্তানকে বাঁচানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা। কিন্তু গত ২২শে মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নোমান। বড় ভাই ফাহিমের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে তাকে নেওয়া হয় ঢাকায়। আইসিইউ সংকটে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। সেখানে লড়াই চালিয়ে অবশেষে গত মঙ্গলবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় ফাহিমও। গতকাল বুধবার রাতে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আজ ৪ঠা মে, বৃহস্পতিবার

সকালে হারুনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক শোকাতুর পরিবেশ। মা ইসরাত জাহান নির্বাক পাথরের মতো বসে আছেন। হারুনুর রশিদ জানান, সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে গত তিন মাস তাঁর ছোট দোকানটি বন্ধ ছিল। চিকিৎসার খরচ মেটাতে এনজিও এবং পরিচিতদের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা ঋণ করেছেন। হারুনুর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, “টাকা খরচ হয়েছে হোক, যদি আমার ছেলেদের ফিরে পেতাম তবে কোনো আফসোস থাকত না। এখন আমি দেনার দায়ে জর্জরিত, আর আমার দুই বুকের ধন কবরে।” প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন বলেন, “বাচ্চা দুটি এত সুন্দর আর হাসিখুশি ছিল যে এলাকার সবাই তাদের কোল নিত। ১২ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই শিশুর এমন চলে

যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারছি না।” স্বাস্থ্যকর্মীরা ইতিমধ্যে হারুনুর রশিদের বাড়ি পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে ৬ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে এই দম্পতি এখন কীভাবে এই বিশাল ঋণের বোঝা বইবেন আর সন্তানের শোক সামলাবেন, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরো মিরসরাইয়ে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেট: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ