ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
‘শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত’
১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের এক স্মৃতি বিজড়িত দিন
আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তিতে প্রথম আলোর জোরালো অবস্থান
অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে জুলাই-আগস্টে ঢাকায় হত্যাকাণ্ড বাড়ানোর নির্দেশ দেয় কে?
সেনা জেনারেলদের গভীর রাতের বৈঠকই শেখ হাসিনার সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়
ইউনূস আমলে এলএনজি ক্রয়ে দুর্নীতি ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার; জুন পর্যন্ত এলএনজি-সার কিনতে দরকার অতিরিক্ত ২.৬১ বিলিয়ন ডলার
মুজিবনগর দিবসে কোনো কর্মসূচি রাখেনি বিএনপির সরকার;স্মৃতিসৌধে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা
জুলাই ২০২৪: যা দেখেছি, যা অভিজ্ঞতা করেছি
চব্বিশের জুলাই–আগস্ট পরবর্তী এই যে জীবন কাটাচ্ছি, এটাকে এক কথায় বোনাস লাইফ বলাই যায়। এসব নিয়ে লিখতে বসলে এখনও শরীরে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে।
১৪ জুলাই ২০২৪। তথাকথিত কোটা আন্দোলন তখন ক্যাম্পাসে চলমান। এর মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয় সংলগ্ন একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হন। নেত্রীকে সালাম দিয়ে আমরা দুপুরের দিকে মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত হই। বাইরে থেকে নানারকম উসকানিমূলক স্লোগান শুরু হয়। ছাত্রলীগের নামে বিকৃত স্লোগান দিতে দিতে তারা লাইব্রেরির সামনে থেকে মধুর ক্যান্টিন হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল—কারও সঙ্গে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক ঘটনায় জড়ানো যাবে না। আমরা হলে ফিরে আসি। রাত বাড়তে থাকে। ঘড়ির কাঁটা
যখন বারোটা পেরিয়েছে—অর্থাৎ ১৫ জুলাই ২০২৪—হঠাৎ করে শুনি সায়েন্সের হলগুলো থেকে মিছিল বের হয়েছে। স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, “তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার!” মিছিলটি টিএসসি হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। সেদিনই প্রথমবার আমরা এই রাজাকারের বাচ্চাগুলোকে চিহ্নিত করতে পারি। কিন্তু ততক্ষণে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ পুরোপুরি পুঁজি করে ফেলেছে। তখন তাদের বিপক্ষে যেকোনো অবস্থান নেওয়া মানেই সেটাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানো হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছিল। তবুও সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে ছাত্রলীগ রাজপথে নামে। “তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি!”—স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। তাৎক্ষণিকভাবে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ মিছিল শেষে একটি সমাবেশ করি। হাজার
হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর স্লোগানে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর আমরা হলে ফিরে যাই। পরদিন সকালে মধুর ক্যান্টিনে অবস্থানকালে দেখি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। স্বঘোষিত রাজাকারেরা সংগঠিত হচ্ছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল—তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। তারা সংগঠিত হয়ে হলপাড়ার দিকে রওনা দেয়। একই সঙ্গে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়—বিজয় একাত্তর হলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে, হল থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে। বিজয় একাত্তর হলের সামনে পৌঁছেই বহিরাগতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থেকে হলের ভেতরে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা হলের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েকজনকে রক্তাক্ত করে। ঠিক
তখন থেকেই শুরু হয় আমাদের প্রতিরোধ। হলপাড়ার সব হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একই সময়ে মধুর ক্যান্টিনে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অগ্রসর হতে থাকে। দ্বিমুখী চাপ সামলাতে না পেরে তারা পিছু হটে। এর মধ্যেই খবর আসে—অস্ত্রধারী বিএনপি–জামায়াতের নেতাকর্মীসহ বহিরাগতরা শহীদুল্লাহ হলে অবস্থান নিয়েছে। রাজু ভাস্কর্যে তখন আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল। আমরা শহীদুল্লাহ হলের সামনে অবস্থান নিই এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করি। আমাদের বাধা দেওয়া হয়। প্রথমে ভেতর থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হলেও একপর্যায়ে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ শুরু হয়। হলের ছাদ, করিডোর, ব্যালকনি—সব দিক থেকে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়। অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন। আমার নিজের পায়ের একটি আঙুলে ইটের
আঘাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়—ভেতরের হাড় ভেঙে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আমাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। আমরা টিএসসিতে ফিরে আসি। আমার হলের এক ছোট ভাই পায়ের রক্ত দেখে আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে ব্যান্ডেজ করা হয়। কিন্তু মানসিকভাবে এতটাই দৃঢ় ছিলাম যে আহত পা নিয়েই আবার রাজু ভাস্কর্যে ফিরে যাই। পরে হলে ফিরে আসি। ১৬ জুলাই সারাদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করি। সেদিন যেন কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি না হয়—সে বিষয়ে হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশনা ছিল। দিনভর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে কর্মসূচি শেষে রাতে টিএসসিতে সবাই একসঙ্গে খাওয়া শেষ করি। তখনও আমাদের নারী নেত্রীরা হলে ফেরেননি। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় তারা হলে ফিরবেন।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হলের প্রভোস্ট ম্যামদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে—রোকেয়া হলে আমাদের নারী নেত্রীদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তা শ্লীলতাহানি ও মারধরে রূপ নেয়। রোকেয়া হলের এক ছোট বোন রক্তমাখা হাতের ছবি পাঠিয়ে দ্রুত উদ্ধারের অনুরোধ জানায়। আমরা অসহায়ের মতো হলের আশপাশে ঘুরতে থাকি। একই সময়ে শামসুন্নাহার হল থেকেও একই ধরনের হামলার আশঙ্কার খবর আসে। একপর্যায়ে মেয়েরা সবকিছু হারিয়ে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে হল ছাড়তে সক্ষম হয়। সেই রাতেই শুরু হয় পরিকল্পিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানো হয়—“মেয়েরা যদি পারে, ছেলেরা কেন পারবে না।” হলে হলে শুরু হয় রাজাকারদের তাণ্ডব। দুপুর পর্যন্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে নির্দেশ আসে হল ছেড়ে দেওয়ার—কারণ মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা চান না বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত হোক, লাশের মিছিল জমুক। আমার হল জগন্নাথ হল ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে ছাত্রলীগের ডাকে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়, যেন কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী ভেতরে ঢুকতে না পারে। গেটগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু খবর আসে—সব হল থেকে একত্রিত হয়ে উগ্রবাদীরা জগন্নাথ হল “স্বাধীন” করার পরিকল্পনা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং হাইকমান্ডের নির্দেশে আমরা যারা ছাত্রলীগের মুখ ছিলাম, হল ছেড়ে দিই। সবার শেষে আমি বের হই—খালি হাতে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় তখন বহিরাগত ও জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। মাথায় একটাই কথা—এই মাটি ছেড়ে কোথাও যাব না। লড়াই চলবেই। শাহবাগে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকত ভাইকে ফোন করি। এক কথার নির্দেশ—ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে। সেখানে সাথে সাথে উপস্থিত হলাম। দেখলাম সেখানে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ খুব অল্প কিছু লোক অবস্থান করছিল, ওইখান থেকে শুরু হলো মিছিল, মিছিল শেষ হলো শাহবাগ মোড়ে এসে।
যখন বারোটা পেরিয়েছে—অর্থাৎ ১৫ জুলাই ২০২৪—হঠাৎ করে শুনি সায়েন্সের হলগুলো থেকে মিছিল বের হয়েছে। স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, “তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার!” মিছিলটি টিএসসি হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। সেদিনই প্রথমবার আমরা এই রাজাকারের বাচ্চাগুলোকে চিহ্নিত করতে পারি। কিন্তু ততক্ষণে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ পুরোপুরি পুঁজি করে ফেলেছে। তখন তাদের বিপক্ষে যেকোনো অবস্থান নেওয়া মানেই সেটাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানো হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছিল। তবুও সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে ছাত্রলীগ রাজপথে নামে। “তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি!”—স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। তাৎক্ষণিকভাবে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ মিছিল শেষে একটি সমাবেশ করি। হাজার
হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর স্লোগানে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর আমরা হলে ফিরে যাই। পরদিন সকালে মধুর ক্যান্টিনে অবস্থানকালে দেখি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। স্বঘোষিত রাজাকারেরা সংগঠিত হচ্ছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল—তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। তারা সংগঠিত হয়ে হলপাড়ার দিকে রওনা দেয়। একই সঙ্গে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়—বিজয় একাত্তর হলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে, হল থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে। বিজয় একাত্তর হলের সামনে পৌঁছেই বহিরাগতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থেকে হলের ভেতরে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা হলের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েকজনকে রক্তাক্ত করে। ঠিক
তখন থেকেই শুরু হয় আমাদের প্রতিরোধ। হলপাড়ার সব হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একই সময়ে মধুর ক্যান্টিনে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অগ্রসর হতে থাকে। দ্বিমুখী চাপ সামলাতে না পেরে তারা পিছু হটে। এর মধ্যেই খবর আসে—অস্ত্রধারী বিএনপি–জামায়াতের নেতাকর্মীসহ বহিরাগতরা শহীদুল্লাহ হলে অবস্থান নিয়েছে। রাজু ভাস্কর্যে তখন আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল। আমরা শহীদুল্লাহ হলের সামনে অবস্থান নিই এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করি। আমাদের বাধা দেওয়া হয়। প্রথমে ভেতর থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হলেও একপর্যায়ে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ শুরু হয়। হলের ছাদ, করিডোর, ব্যালকনি—সব দিক থেকে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়। অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন। আমার নিজের পায়ের একটি আঙুলে ইটের
আঘাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়—ভেতরের হাড় ভেঙে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আমাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। আমরা টিএসসিতে ফিরে আসি। আমার হলের এক ছোট ভাই পায়ের রক্ত দেখে আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে ব্যান্ডেজ করা হয়। কিন্তু মানসিকভাবে এতটাই দৃঢ় ছিলাম যে আহত পা নিয়েই আবার রাজু ভাস্কর্যে ফিরে যাই। পরে হলে ফিরে আসি। ১৬ জুলাই সারাদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করি। সেদিন যেন কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি না হয়—সে বিষয়ে হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশনা ছিল। দিনভর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে কর্মসূচি শেষে রাতে টিএসসিতে সবাই একসঙ্গে খাওয়া শেষ করি। তখনও আমাদের নারী নেত্রীরা হলে ফেরেননি। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় তারা হলে ফিরবেন।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হলের প্রভোস্ট ম্যামদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে—রোকেয়া হলে আমাদের নারী নেত্রীদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তা শ্লীলতাহানি ও মারধরে রূপ নেয়। রোকেয়া হলের এক ছোট বোন রক্তমাখা হাতের ছবি পাঠিয়ে দ্রুত উদ্ধারের অনুরোধ জানায়। আমরা অসহায়ের মতো হলের আশপাশে ঘুরতে থাকি। একই সময়ে শামসুন্নাহার হল থেকেও একই ধরনের হামলার আশঙ্কার খবর আসে। একপর্যায়ে মেয়েরা সবকিছু হারিয়ে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে হল ছাড়তে সক্ষম হয়। সেই রাতেই শুরু হয় পরিকল্পিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানো হয়—“মেয়েরা যদি পারে, ছেলেরা কেন পারবে না।” হলে হলে শুরু হয় রাজাকারদের তাণ্ডব। দুপুর পর্যন্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে নির্দেশ আসে হল ছেড়ে দেওয়ার—কারণ মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা চান না বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত হোক, লাশের মিছিল জমুক। আমার হল জগন্নাথ হল ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে ছাত্রলীগের ডাকে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়, যেন কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী ভেতরে ঢুকতে না পারে। গেটগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু খবর আসে—সব হল থেকে একত্রিত হয়ে উগ্রবাদীরা জগন্নাথ হল “স্বাধীন” করার পরিকল্পনা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং হাইকমান্ডের নির্দেশে আমরা যারা ছাত্রলীগের মুখ ছিলাম, হল ছেড়ে দিই। সবার শেষে আমি বের হই—খালি হাতে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় তখন বহিরাগত ও জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। মাথায় একটাই কথা—এই মাটি ছেড়ে কোথাও যাব না। লড়াই চলবেই। শাহবাগে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকত ভাইকে ফোন করি। এক কথার নির্দেশ—ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে। সেখানে সাথে সাথে উপস্থিত হলাম। দেখলাম সেখানে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ খুব অল্প কিছু লোক অবস্থান করছিল, ওইখান থেকে শুরু হলো মিছিল, মিছিল শেষ হলো শাহবাগ মোড়ে এসে।



