ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে গুপ্ত সম্পর্ক, এবার বাঁশখালীর জামায়াত এমপি জহিরুলকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর দাবি
এগারো দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
জামায়াত এমপির পর এবার বিএনপি নেতারও ‘বিশেষ ভিডিও’ ভাইরাল
আমাদের কাফেলা মদিনা থেকে ঘুরে আমেরিকার দিকে চলে গেছে: ইআবা নেতা ফয়জুল করিম
এমপি গাজী নজরুল এখন কোথায়?
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রাম এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেফতার
বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ, চট্টগ্রামে এনসিপির বিবাহিত নেতা গ্রেপ্তার
জুলাই সংক্রান্ত অসংখ্য ভুয়া মামলা: তদন্তে উঠে আসছে একে একে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মিলেছে জালিয়াতির প্রমাণ
জুলাই ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসছে উদ্বেগজনক তথ্য। পুলিশের বিভিন্ন বিশেষ ইউনিটের তদন্তে দেখা গেছে, জীবিত ব্যক্তিকে নিহত দেখানো, বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে আসামি করা, এমনকি অস্তিত্বহীন ব্যক্তি ও ভুয়া পরিচয়ে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একটি সংঘবদ্ধ চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মামলা করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছে।
এমন একটি ঘটনায় যাত্রাবাড়ীর রোজভিউ হোটেলের ম্যানেজার রাহাত হাসান বিপুকে জুলাইয়ে নিহত হিসেবে দেখিয়ে হত্যা মামলা করা হয়। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি ভিন্ন ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১৪ই আগস্ট সকালে সায়েদাবাদ এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে
গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের একজন, রাহাত হাসান বিপু মারা যান। পরে তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার তাকে জুলাইয়ে নিহত দাবি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-২০/২০২৪) করেন। ওই মামলায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে পৃথক আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। (সূত্র: দৈনিক মানবজমিন) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারেও তদন্তে মিলেছে একই ধরনের তথ্য। ২০২৩ সালে মারা যাওয়া দুস্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বাবুল মিয়াকে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট নিহত দেখিয়ে হত্যা মামলা করা হয়। আড়াইহাজার থানার মামলা নং-০৮/২৪-এ ১৩১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে প্রমাণিত
হয়, মামলার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। রাজধানীর উত্তর-পূর্ব থানার একটি মামলায় জীবিত জানে আলমকে জুলাইয়ে নিহত দাবি করে আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করা হয় (সিআর মামলা নং-৩৫/২০২৪)। এতে শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, কথিত নিহত ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন এবং হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে আশুলিয়ায়। সেখানে ভুয়া নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জুলাইয়ে নিহত হিসেবে দেখিয়ে হত্যা মামলা (সিআর মামলা নং-১৬২৭/২৪) করা হয়। তদন্তে পুলিশ বাদীর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। তবে এই মামলাতেও আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে একাধিক হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এখানেও
অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, শুধু হত্যা মামলাই নয়; দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, ব্যক্তিগত মারামারিতে জখম হওয়া কিংবা আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনাকেও জুলাইয়ে আহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখিয়ে শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মামলার অনেক বাদী পরে অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেন কিংবা আসামিদের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন। পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি ও অন্যান্য তদন্ত সংস্থার একাধিক প্রতিবেদনে অন্তত ১১০টি সন্দেহজনক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে যেসব মামলায় মিথ্যা তথ্য, ভুয়া অভিযোগ বা জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে, সেসব ঘটনায় বাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকটি মামলায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং
বাকি তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) কয়েকটি মামলার তদন্তে ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে জুলাইয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করার অভিযোগও পেয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, পাওনা টাকা আদায়, পারিবারিক বিরোধ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এমনকি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনাকেও জুলাই বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট বলে উপস্থাপনের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি তদন্ত সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মামলা দায়ের করে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করে তাদের কাছে এজাহারের কপি পাঠিয়ে অর্থ দাবি করত। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক মামলায় কথিত ভিক্টিম, বাদী এবং ঘটনাস্থল—সবই ছিল মনগড়া। আবার কিছু মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে অভিযোগ আনা
হয়েছে। এমনকি ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তি কিংবা বহু আগেই মারা যাওয়া মানুষের নামও আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, পুলিশের বিশেষ ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনে বহু ভুয়া বাদীর তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানান, চিফ প্রসিকিউটর ইতোমধ্যে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে এ ধরনের মামলার তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই শেষে ভুয়া মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাইব্যুনালে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থা নেবে এবং অন্যান্য মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। তার ভাষায়, মিথ্যা মামলা করে
কাউকে হয়রানি করলে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের একজন, রাহাত হাসান বিপু মারা যান। পরে তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার তাকে জুলাইয়ে নিহত দাবি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-২০/২০২৪) করেন। ওই মামলায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে পৃথক আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। (সূত্র: দৈনিক মানবজমিন) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারেও তদন্তে মিলেছে একই ধরনের তথ্য। ২০২৩ সালে মারা যাওয়া দুস্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বাবুল মিয়াকে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট নিহত দেখিয়ে হত্যা মামলা করা হয়। আড়াইহাজার থানার মামলা নং-০৮/২৪-এ ১৩১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে প্রমাণিত
হয়, মামলার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। রাজধানীর উত্তর-পূর্ব থানার একটি মামলায় জীবিত জানে আলমকে জুলাইয়ে নিহত দাবি করে আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করা হয় (সিআর মামলা নং-৩৫/২০২৪)। এতে শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, কথিত নিহত ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন এবং হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে আশুলিয়ায়। সেখানে ভুয়া নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জুলাইয়ে নিহত হিসেবে দেখিয়ে হত্যা মামলা (সিআর মামলা নং-১৬২৭/২৪) করা হয়। তদন্তে পুলিশ বাদীর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। তবে এই মামলাতেও আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে একাধিক হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এখানেও
অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, শুধু হত্যা মামলাই নয়; দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, ব্যক্তিগত মারামারিতে জখম হওয়া কিংবা আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনাকেও জুলাইয়ে আহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখিয়ে শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মামলার অনেক বাদী পরে অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেন কিংবা আসামিদের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন। পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি ও অন্যান্য তদন্ত সংস্থার একাধিক প্রতিবেদনে অন্তত ১১০টি সন্দেহজনক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে যেসব মামলায় মিথ্যা তথ্য, ভুয়া অভিযোগ বা জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে, সেসব ঘটনায় বাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকটি মামলায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং
বাকি তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) কয়েকটি মামলার তদন্তে ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে জুলাইয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করার অভিযোগও পেয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, পাওনা টাকা আদায়, পারিবারিক বিরোধ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এমনকি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনাকেও জুলাই বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট বলে উপস্থাপনের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি তদন্ত সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মামলা দায়ের করে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করে তাদের কাছে এজাহারের কপি পাঠিয়ে অর্থ দাবি করত। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক মামলায় কথিত ভিক্টিম, বাদী এবং ঘটনাস্থল—সবই ছিল মনগড়া। আবার কিছু মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে অভিযোগ আনা
হয়েছে। এমনকি ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তি কিংবা বহু আগেই মারা যাওয়া মানুষের নামও আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, পুলিশের বিশেষ ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনে বহু ভুয়া বাদীর তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানান, চিফ প্রসিকিউটর ইতোমধ্যে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে এ ধরনের মামলার তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই শেষে ভুয়া মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাইব্যুনালে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থা নেবে এবং অন্যান্য মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। তার ভাষায়, মিথ্যা মামলা করে
কাউকে হয়রানি করলে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।



