জামায়েতকে ভোট না দিলে পিঠের চামড়া থাকবে না —ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন প্রার্থীরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
     ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

জামায়েতকে ভোট না দিলে পিঠের চামড়া থাকবে না —ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন প্রার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ | ৬:৫৯ 69 ভিউ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়ন নতুন নয়; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের বহু অভিযোগ—জামায়াত ইসলামের একাধিক প্রার্থী ও তাদের সক্রিয় সমর্থকরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ভোট চাইছে। অভিযোগকারীরা জানাচ্ছেন, “জামায়াতকে ভোট না দিলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” এই ভয়াবহ ও অমানবিক হুমকি শুধু নির্বাচনী আচরণের পরিপন্থী নয়, বরং তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। ভোটের মত মৌলিক অধিকার—যেখানে রাষ্ট্র নাগরিককে নিরাপত্তা দেবে, স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ দেবে—সেই অধিকারই এখন নানাভাবে জিম্মি হওয়ার শঙ্কায়। রাজনৈতিক দল যাই হোক, যখন তারা ভোটের নামে মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন সেটা আর প্রচারণা

থাকে না; সেটা পরিণত হয় রাজনৈতিক সন্ত্রাসে। আর যখন এই সন্ত্রাস ধর্মীয় পরিচয়, গোষ্ঠীগত চাপ বা সংগঠিত বলপ্রয়োগের সাথে মিশে যায়, তখন তা সমাজের ভিতকে নড়বড়ে করে দেয়। বহু এলাকায় দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বাজারে কিংবা মসজিদের সামনে সাধারণ মানুষের পথ আটকে প্রশ্ন করা হচ্ছে—কাকে ভোট দেবে? প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের নাম আলাদা করে নোট করা হচ্ছে। এই পরিবেশে সাধারণ ভোটারের মনে জন্ম নিচ্ছে গভীর আতঙ্ক ও হুমকির সংস্কৃতি। ভোটারদের ভাষ্যে ফুটে উঠেছে এক ধরনের অসহায়তা— “আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নয়; এটা যেন কারা ঠিক করে দিচ্ছে। নিজেদের মত প্রকাশ করতে গিয়েও

ভয় লাগে।” গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো—মানুষের স্বাধীন মত ও ভোটাধিকার। কিন্তু হুমকি-ধামকি, সন্ত্রাসী আচরণ এবং জোর-জবরদস্তির মধ্য দিয়ে যখন ভোট আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তখন সেই গণতন্ত্র ক্ষতবিক্ষত হয়। ভোটারকে ভয় দেখিয়ে ভোট কেড়ে নেওয়া মানে শুধু নির্বাচন দুর্নীতিগ্রস্ত করা নয়, বরং নাগরিককে তার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা। এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয় না; এটি সমাজের নৈতিক কাঠামোকেও ধ্বংস করে। কারণ ভয়ভীতির রাজনীতি একবার প্রতিষ্ঠা পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে সহিংসতা, বিভাজন ও রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করে। নির্বাচন তখন আর জনগণের অংশগ্রহণের উৎসব থাকে না; হয়ে উঠতে থাকে ক্ষমতা দখলের নির্মম প্রতিযোগিতা। সুতরাং, ভোটের মাঠে এমন ভয়াবহ হুমকি ও সন্ত্রাসের অভিযোগকে হালকাভাবে

নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া। গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন মানুষ ভয়হীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। আর নির্বাচন হয় তখনই অর্থবহ, যখন ভোটার জানে— “আমার ভোট আমার অধিকার, কেউ আমার পিঠের চামড়া দিয়ে এর মূল্য আদায় করতে পারবে না।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আদালত দখলের রাজনীতি! এজলাসে ভাঙচুর অফিসিয়ালি বিএনপির চাঁদাবাজি যুগের সূচনা চাঁদাবাজির নতুন নাম “সমঝোতা” ইউনূস-জাহাঙ্গীরের জোর করে দেয়া সেই ইউনিফর্ম পরতে চায় না পুলিশ ইউনূস আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি-চাঁদাবাজির হিসাব সামনে আনল ডিসিসিআই রাষ্ট্রপতির বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন ইউনূস Unattended Ballot Boxes: New Questions in Bangladesh’s 2026 Vote টিসিবির ট্রাকের পিছে ছুটছে বাংলাদেশ সংসদের বৈধতার প্রশ্ন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বলে ছোট করতে চাইলে তারা মীর জাফর: ভাইরাল ভিডিওতে তরুণের মন্তব্য পুলিশের নতুন আইজিপি হলেন আলী হোসেন ফকির ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ ক্ষমতায় এসেই নিজেদের লোকদের বাঁচানোর পুরনো খেলায় ফিরলো বিএনপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অবদান দেশজুড়ে একে একে খুলছে আওয়ামী লীগের কার্যালয় হামলা-মামলা-আটকের মধ্যেই সারাদেশে মিছিল-কার্যালয় খুলছে তৃণমুলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নবগঠিত বিএনপি সরকারের সন্মতিতেই ‘কালের কন্ঠে” রাষ্ট্রপতি’র খোলামেলা সাক্ষাৎকার! চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে উদ্যোক্তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন: ডিসিসিআই সভাপতি মার্কিন শুল্কের নতুন অস্থিরতায় বাংলাদেশি রপ্তানিতে আরো তীব্র হবে অনিশ্চয়তা চাগোস দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: স্টারমারকে হুঁশিয়ারি, সামরিক ঘাঁটি নিয়ে উদ্বেগ মেক্সিকোতে কার্টেল সংঘাতের ছায়া, আতঙ্কের মধ্যেই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি