ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রূপপুরের ঋণ পরিশোধে ভারতীয় রুপির প্রস্তাব: মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা, বিপাকে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
এক মাসের ব্যবধানে ফের নিমজ্জিত চট্টগ্রাম: জলাবদ্ধতায় গৃহবন্দী নগরবাসী
১৩ লাখের মধ্যে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার, তবে…
বাংলাদেশের কাছে হারায় কামিন্সদের ধুয়ে দিল অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম
‘জুলাই শহীদ’ সাংবাদিক এসে জানালেন- “আমি মরি নাই”
পে স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে যা জানালেন মন্ত্রী
চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আশার আলো রূপপুর: সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘পরীক্ষামূলক’ ৩০০ মেগাওয়াট
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এখন চলছে শেষ ধাপের কারিগরি পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই।
পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সফল হলে কয়েক মাসের মধ্যেই প্রথম ইউনিট পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি বড় পরিবর্তন আসবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বাড়ছে। জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের
উৎস হিসেবে তাই বারবার আলোচনায় আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটি থেকে কবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দুই ধাপে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করার পর অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর নতুন জ্বালানি লোড করার জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ
প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখতে হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে অন্য উৎসের তুলনায় আরও বেশি নির্ভুলতা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঞ্চালন করতে হয়। এ কারণে রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, গ্রিডে সামান্য ত্রুটির কারণেও যেন বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয় এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো বাধা না আসে, সে জন্য পিডিবি, পিজিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সরকার কাজ করছে। রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের আরও একটি ৪০০ কেভি অবকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এসব অবকাঠামোর
বেশিরভাগের কমিশনিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে রূপপুরের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিতে হলে আরও কিছু কারিগরি প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ভাষ্য, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি। এই সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, পিডিবির সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও গ্রিড প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারিত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে পৃথক ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পের শুরুর দিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বলা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাব এখন অনেকটাই বদলে গেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু অর্থ পরিশোধ এখনও আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকায় অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ নির্ধারিত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও পুরোপুরি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। ‘কৃতিত্ব
যার, নাম নেই তার’ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পেছনে যে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজ করেছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হয় নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা রোসাটমের মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ ঋণ সহযোগিতায় (প্রায় ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি এটি। অথচ এখন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও এসব ইতিহাস ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার প্রকল্পটি প্রসঙ্গে শেখ
হাসিনার নেতৃত্বের কথা এড়িয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রাণলয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগসহ কোনো দপ্তরের কোনো বিবৃতিতে নেই—প্রকল্পটি কবে, কার সময় শুরু হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বলেন, “বিশ্বমানের একটি প্রকল্পের ইতিহাসকে ছেঁটে ফেলা উচিত নয়। এটা কারও দলীয় অর্জন নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ—তবে ইতিহাস তো মুছে ফেলা চলে না।” বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন যেমন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলও। রূপপুর কেন্দ্র তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের এ ধরনের সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দিনের বাংলাদেশকে এনার্জি নিরাপত্তা, দক্ষতা ও শিল্পায়নে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উৎস হিসেবে তাই বারবার আলোচনায় আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটি থেকে কবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দুই ধাপে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করার পর অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর নতুন জ্বালানি লোড করার জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ
প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখতে হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে অন্য উৎসের তুলনায় আরও বেশি নির্ভুলতা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঞ্চালন করতে হয়। এ কারণে রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, গ্রিডে সামান্য ত্রুটির কারণেও যেন বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয় এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো বাধা না আসে, সে জন্য পিডিবি, পিজিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সরকার কাজ করছে। রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের আরও একটি ৪০০ কেভি অবকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এসব অবকাঠামোর
বেশিরভাগের কমিশনিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে রূপপুরের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিতে হলে আরও কিছু কারিগরি প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ভাষ্য, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি। এই সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, পিডিবির সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও গ্রিড প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারিত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে পৃথক ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পের শুরুর দিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বলা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাব এখন অনেকটাই বদলে গেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু অর্থ পরিশোধ এখনও আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকায় অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ নির্ধারিত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও পুরোপুরি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। ‘কৃতিত্ব
যার, নাম নেই তার’ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পেছনে যে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজ করেছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হয় নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা রোসাটমের মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ ঋণ সহযোগিতায় (প্রায় ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি এটি। অথচ এখন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও এসব ইতিহাস ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার প্রকল্পটি প্রসঙ্গে শেখ
হাসিনার নেতৃত্বের কথা এড়িয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রাণলয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগসহ কোনো দপ্তরের কোনো বিবৃতিতে নেই—প্রকল্পটি কবে, কার সময় শুরু হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বলেন, “বিশ্বমানের একটি প্রকল্পের ইতিহাসকে ছেঁটে ফেলা উচিত নয়। এটা কারও দলীয় অর্জন নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ—তবে ইতিহাস তো মুছে ফেলা চলে না।” বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন যেমন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলও। রূপপুর কেন্দ্র তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের এ ধরনের সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দিনের বাংলাদেশকে এনার্জি নিরাপত্তা, দক্ষতা ও শিল্পায়নে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



