ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
সব দোষ একজনের ওপর চাপিয়ে দায় এড়ানো যাবে না: ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে নঈম নিজাম
তিন সরকার আমলে মাঠে থেকেও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি অধরা: ব্যারাকে কি আদৌ ফিরছে সেনাবাহিনী, উদ্বেগ যাচ্ছে না
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের জানাজায় সাধারণ মানুষের ঢল
গা ঢাকা দিয়েছেন ইউনূসের উপদেষ্টারা: কেউ বিদেশে, কেউ মবের ভয়ে ‘ঠিকানাহীন’
ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্য ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, বাড়ছে সরকারের ঋণনির্ভরতা
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে আবারও ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভর করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মোট বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক
উৎস থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সবচেয়ে বড় অংশই আসবে ব্যাংক ঋণ থেকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই ব্যাংক ঋণ গ্রহণের সীমা অতিক্রম করেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অর্থাৎ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংক ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা বেশি
ঋণ নেওয়া হয়েছে। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক খাতের কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। ১০ মে শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র ১০ মাসে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, যা প্রায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান। অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ, বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে এবং বৈদেশিক অর্থায়ন প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলে প্রকৃত ঋণ
গ্রহণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরেও ব্যাংক খাত সরকারের ঘাটতি অর্থায়নের প্রধান ভরসা হয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তারা বলছেন, এ প্রবণতা সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যাংকনির্ভরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজস্ব আহরণে ধারাবাহিক ঘাটতি এবং বৈদেশিক অর্থায়নে অনিশ্চয়তার কারণে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ক্রমেই ব্যাংক খাতের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইএফডি)–এর নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধারাবাহিকভাবে পূরণ না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। তার মতে, বাজেট ঘাটতি মেটানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত সবচেয়ে সহজলভ্য ও দ্রুত অর্থের উৎস হওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত এ খাতের ওপরই বেশি নির্ভর করছে। তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণ বা সহায়তা
সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সবসময় পাওয়া যায় না। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের দায়ও বাড়ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণই সরকারের জন্য তুলনামূলকভাবে কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সরকারি ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, তখন ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ অর্থনীতিতে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিও সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩
কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব সংগ্রহে এ ধরনের বড় ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরেও সরকারকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হতে পারে।
উৎস থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সবচেয়ে বড় অংশই আসবে ব্যাংক ঋণ থেকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই ব্যাংক ঋণ গ্রহণের সীমা অতিক্রম করেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অর্থাৎ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংক ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা বেশি
ঋণ নেওয়া হয়েছে। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক খাতের কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। ১০ মে শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র ১০ মাসে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, যা প্রায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান। অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ, বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে এবং বৈদেশিক অর্থায়ন প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলে প্রকৃত ঋণ
গ্রহণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরেও ব্যাংক খাত সরকারের ঘাটতি অর্থায়নের প্রধান ভরসা হয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তারা বলছেন, এ প্রবণতা সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যাংকনির্ভরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজস্ব আহরণে ধারাবাহিক ঘাটতি এবং বৈদেশিক অর্থায়নে অনিশ্চয়তার কারণে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ক্রমেই ব্যাংক খাতের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইএফডি)–এর নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধারাবাহিকভাবে পূরণ না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। তার মতে, বাজেট ঘাটতি মেটানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত সবচেয়ে সহজলভ্য ও দ্রুত অর্থের উৎস হওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত এ খাতের ওপরই বেশি নির্ভর করছে। তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণ বা সহায়তা
সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সবসময় পাওয়া যায় না। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের দায়ও বাড়ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণই সরকারের জন্য তুলনামূলকভাবে কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সরকারি ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, তখন ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ অর্থনীতিতে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিও সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩
কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব সংগ্রহে এ ধরনের বড় ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরেও সরকারকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হতে পারে।



