এক সপ্তাহে ৮ বার অগ্নিসংযোগ: মিরসরাইয়ে ‘টার্গেট’ হিন্দু পরিবার, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে জাফরাবাদের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৫:১০ অপরাহ্ণ

এক সপ্তাহে ৮ বার অগ্নিসংযোগ: মিরসরাইয়ে ‘টার্গেট’ হিন্দু পরিবার, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে জাফরাবাদের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৫:১০ 57 ভিউ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রাম। এক সময় শান্ত এই জনপদটি এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্কের অপর নাম। গত এক সপ্তাহে গ্রামটির হিন্দুপাড়ায় অন্তত আটবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খড়ের গাদা, রান্নাঘর থেকে শুরু করে বসতবাড়ি—আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাদ যাচ্ছে না কিছুই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বেছে বেছে কেবল হিন্দু পরিবারগুলোকে টার্গেট করেই এই ‘অগ্নিসন্ত্রাস’ চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘটনাগুলোর ধরণ ও সময়কাল স্পষ্ট করে দেয় যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। গত সাত দিনে খড়ের গাদা, শুকনা পাতার স্তূপ, রান্নাঘর এবং সর্বশেষ বসতঘরের একাংশে আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগুনের লক্ষ্যবস্তু ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থাপনা। একাধিক ঘটনায় ঘরে নারী ও শিশুরা অবস্থান

করাকালীন আগুন দেওয়া হয়, যা বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি করেছিল। ভাগ্যক্রমে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। নিরাপত্তাহীনতায় ২ শতাধিক পরিবার জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বাস। ধারাবাহিক এই হামলার মুখে গ্রামটি এখন ভয়ের জনপদ। রাষ্ট্র বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নিরাপত্তা না পেয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী নিজেরাই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। লাঠি ও বাঁশি হাতে পালাক্রমে চলছে এই পাহারা, তবুও আতঙ্ক কাটছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা এই দেশের নাগরিক, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। এক সপ্তাহে ৮ বার আগুন লাগল, অথচ আমরা কোনো প্রতিকার

পেলাম না। রাতে ঘুমাতে পারি না, কখন জানি আমাদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়।” প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশি তৎপরতা দৃশ্যমান কোনো ফল বয়ে আনেনি। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অগ্নিসন্ত্রাস বন্ধে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও। প্রশাসনের একাংশের ধারণা, সামনে কোনো নির্বাচন বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে এই ভীতি প্রদর্শন করা হতে পারে। তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—কারণ রাজনৈতিক হোক বা সাম্প্রদায়িক, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া। সেই নিরাপত্তা আজ কোথায়? সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন প্রতীক ‘জাফরাবাদ’ মিরসরাইয়ের এই ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চলমান পরিস্থিতির

একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাফরাবাদ এখন আর কেবল একটি গ্রামের নাম নয়, এটি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকে রূপ নিচ্ছে। ধারাবাহিক এই হামলার ঘটনাগুলো আবারও আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ১. হিন্দুদের ঘরবাড়ি কেন বারবার টার্গেট হচ্ছে? ২. ধর্মীয় ও আবাসিক স্থাপনা কেন আজ অরক্ষিত? ৩. দোষীরা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে? অবিলম্বে এই অগ্নিসন্ত্রাস বন্ধ না হলে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে, জাফরাবাদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আদালত দখলের রাজনীতি! এজলাসে ভাঙচুর অফিসিয়ালি বিএনপির চাঁদাবাজি যুগের সূচনা চাঁদাবাজির নতুন নাম “সমঝোতা” ইউনূস-জাহাঙ্গীরের জোর করে দেয়া সেই ইউনিফর্ম পরতে চায় না পুলিশ ইউনূস আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি-চাঁদাবাজির হিসাব সামনে আনল ডিসিসিআই রাষ্ট্রপতির বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন ইউনূস Unattended Ballot Boxes: New Questions in Bangladesh’s 2026 Vote টিসিবির ট্রাকের পিছে ছুটছে বাংলাদেশ সংসদের বৈধতার প্রশ্ন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বলে ছোট করতে চাইলে তারা মীর জাফর: ভাইরাল ভিডিওতে তরুণের মন্তব্য পুলিশের নতুন আইজিপি হলেন আলী হোসেন ফকির ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ ক্ষমতায় এসেই নিজেদের লোকদের বাঁচানোর পুরনো খেলায় ফিরলো বিএনপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অবদান দেশজুড়ে একে একে খুলছে আওয়ামী লীগের কার্যালয় হামলা-মামলা-আটকের মধ্যেই সারাদেশে মিছিল-কার্যালয় খুলছে তৃণমুলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নবগঠিত বিএনপি সরকারের সন্মতিতেই ‘কালের কন্ঠে” রাষ্ট্রপতি’র খোলামেলা সাক্ষাৎকার! চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে উদ্যোক্তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারেন: ডিসিসিআই সভাপতি মার্কিন শুল্কের নতুন অস্থিরতায় বাংলাদেশি রপ্তানিতে আরো তীব্র হবে অনিশ্চয়তা চাগোস দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: স্টারমারকে হুঁশিয়ারি, সামরিক ঘাঁটি নিয়ে উদ্বেগ মেক্সিকোতে কার্টেল সংঘাতের ছায়া, আতঙ্কের মধ্যেই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি