রায়েরবাজার থেকে মিরপুর: মেধাশূন্য করার সেই নীল নকশা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬

রায়েরবাজার থেকে মিরপুর: মেধাশূন্য করার সেই নীল নকশা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬ |
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর-রাজাকাররা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার যে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিল, তার ক্ষতচিহ্ন আজও বয়ে বেড়াচ্ছে ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরের বধ্যভূমিগুলো। তবে এই বধ্যভূমিগুলোর ব্যবহার কেবল ডিসেম্বরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; ২৫শে মার্চের পর থেকেই ঢাকার এই নির্জন স্থানগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল গণহত্যার ভাগাড় হিসেবে। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত রায়েরবাজারের ইটখোলাটি ছিল একাত্তরের সবচেয়ে ভয়ংকর বধ্যভূমি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যখন চারদিকে বিজয়ের ঘ্রাণ, তখন তালিকা ধরে ধরে ধরে আনা হয়েছিল দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের পর সেখানে পাওয়া যায় ড. আলিম চৌধুরী, ড. ফজলে রাব্বি, সাংবাদিক

সেলিনা পারভীনসহ অসংখ্য বর্ধিষ্ণু মানুষের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। তাঁদের চোখ বেঁধে, হাত পেছনে বেঁধে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। মিরপুর ছিল তখনকার সময়ে এক আতঙ্কের জনপদ। এখানকার ‘জল্লাদখানা’ বধ্যভূমি এবং শিয়ালবাড়ী এলাকাটি হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানি ঘাতকদের প্রধান কসাইখানা। বিহারি ও রাজাকারদের সহযোগিতায় প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে বাঙালিদের এখানে আনা হতো। মিরপুরের অগণিত কুয়া এবং পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকে পাওয়া গেছে শত শত মানুষের মাথার খুলি ও কঙ্কাল। বিশেষ করে মিরপুর ১২ নম্বর এবং ১০ নম্বর সেকশনের জলাভূমিগুলো ছিল রক্তের সাগরে নিমজ্জিত। মিরপুরের মুসলিম বাজার বধ্যভূমিটি আবিষ্কৃত হয়েছিল অনেক পরে, ১৯৯৯ সালে একটি মসজিদের সংস্কার কাজের সময়। সেখানে মাটির নিচ থেকে শত শত মানুষের

হাড় ও খুলি বেরিয়ে আসে, যা প্রমাণ করে একাত্তরে এখানে কী পরিমাণ গণহত্যা চালানো হয়েছিল। এছাড়া মিরপুরের কালশীতে হারুন মোল্লা ঈদগাহ মাঠ ছিল আরেকটি বধ্যভূমি, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। ঢাকার এই বধ্যভূমিগুলো কেবল হত্যার স্থান ছিল না, এগুলো ছিল বাঙালির পরিচয় মুছে ফেলার এক জঘন্য প্রচেষ্টা। রায়েরবাজারের সেই কাদা আর মিরপুরের সেই ঝোপঝাড় আজও সাক্ষ্য দেয়—কীভাবে একটি জাতিকে পঙ্গু করে দিতে দেশের মস্তিষ্ক বা বুদ্ধিজীবীদের টার্গেট করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মৌজা রেটে দিতে হবে সম্পদ কর ৪৯ বছরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন বিজয়, সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদ শূন্য, নিয়োগ হচ্ছে না যেসব কারণে বাঘের বাচ্চার মতো লড়বেন মমতা, বিজেপিকে হুঙ্কার ধেয়ে আসছে বন্যা, বিপৎসীমার ওপরে ৭ নদীর পানি বিজেপির পরিকল্পনা ফাঁস করলেন মমতা, ফল মানবেন সূর্যাস্তের পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল সরকার ময়মনসিংহে ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন নারীসহ নিহত ৪ টঙ্গীতে বস্তির বিলাসবহুল এসি রুমে মাদক সেবন করেন নামিদামিরা গজারিয়ায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৩ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে চোরাপথে আসছে ভারতীয় মসলা হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব দিল ইরান টাঙ্গাইলে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঢাকাসহ যেসব অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস সরবরাহ স্বাভাবিক বাজারে অস্থিরতা কুমিল্লায় আটকের সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর ছাড়া পেলেন সেই বিএনপি নেতা এএমজেড হাসপাতাল: ভুল রিপোর্টে শিশু আইরার অপচিকিৎসা ব্যক্তিশ্রেণির করের বোঝা বাড়বে