ইসলামে অর্থনৈতিক ন্যায় ও সুদমুক্ত সমাজ গঠনের পথ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ আগস্ট, ২০২৫

ইসলামে অর্থনৈতিক ন্যায় ও সুদমুক্ত সমাজ গঠনের পথ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ আগস্ট, ২০২৫ |
পৃথিবীর ইতিহাসজুড়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য, শোষণ ও অবিচারের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে সুদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। আধুনিক পুঁজিবাদ নির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদের মাধ্যমে এমন এক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যেখানে ধনী আরও ধনী হয়ে ওঠে আর দরিদ্ররা ঋণের বোঝা বইতে বইতে আরও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ইসলাম এই ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি ন্যায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা, সুদমুক্ত ও সহমর্মিতার উপর নির্ভরশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রস্তাব করে। পবিত্র কুরআনে সুদের বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে, যেন শয়তান দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে তারা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। কারণ তারা বলে, বেচাকেনাও তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং

সুদকে হারাম করেছেন। (সূরা বাকারা, আয়াত ২৭৫) সুদের মাধ্যমে মূলত সম্পদ সীমিত এক গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয় এবং দরিদ্র শ্রেণি ঋণের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হতে থাকে। ইসলাম এই শোষণের বিপরীতে একটি বিকল্প ব্যবস্থা উপস্থাপন করে, যেখানে সম্পদ আদান-প্রদান হয় ব্যবসা, বিনিয়োগ, যাকাত, সদকা ও মানবিক সহানুভূতির মাধ্যমে। যাকাত ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ধনীদের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও যাত্রীদের মাঝে বিতরণ করাকে ইসলামে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হলে সমাজে দারিদ্র্য অনেকাংশেই দূর হয়ে যেতে পারে। ইসলামে সম্পদের মালিকানা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সামষ্টিক কল্যাণে ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, ধন-সম্পদ যেন

শুধু ধনীদের হাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। (সূরা হাশর, আয়াত ৭) এই নির্দেশনা একচেটিয়া ধনাগম বন্ধ করে জনকল্যাণে সম্পদের প্রবাহ নিশ্চিত করতে চায়। আধুনিক সময়েও এই শিক্ষার প্রভাব বিস্তার করছে। ইসলামি ব্যাংকিং ও শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করছে। মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, এমনকি যুক্তরাজ্যেও ইসলামি অর্থনীতি অনুযায়ী পরিচালিত নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মুদারাবা, মুশারাকা, ইজারা, বাই মুয়াজ্জাল ইত্যাদি পদ্ধতিতে সুদবিহীন ভিত্তিতে লেনদেন করা হয়, যেখানে লাভ-লোকসানের ঝুঁকি যৌথভাবে ভাগ করা হয়। ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পদের উপর শ্রেণিগত দখলের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ও মানবিকতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ন্যায়ের পথ দেখায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।” (সহিহ বুখারি)

— এই নৈতিকতা নির্ভর আর্থিক আদর্শই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে, যেখানে কেউ নিঃস্ব নয়, সবাই সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে অনুসরণ করতে পারেন এই ১০টি ধাপ বিয়ের স্বপ্নে মালয়েশিয়ায় যেতে মরিয়া রোহিঙ্গা তরুণীরা জাপানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত হরমুজ প্রণালি চালু ও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব ইরানের আসন্ন বাজেট নিয়ে (২০২৬-২৭ ) যত চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয় যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রী বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এআই চালাতে নতুন চিপ উন্মোচন করলো গুগল কিউইদের বিপক্ষে হৃদয়-শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয় বিজেপিতে যোগ দিয়ে তোপের মুখে পরিনীতির স্বামী রাঘব, পেলেন দুঃসংবাদ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু জঙ্গি হামলার শঙ্কা: হযরত শাহজালালসহ ৮ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার ফের ৩ দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ২৭ এপ্রিল: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা ৬ মাস কমল ‘ইরান ভেনেজুয়েলা নয়’ প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের রিট শেনজেন ভিসাধারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪৪, ফিরলেন সাইফ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু