ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হাসিনা সরকার পতনে “সক্রিয় ভূমিকা” রেখেছি: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান (ভিডিও)
বাংলাদেশে কি একটা নিরব গণহত্যা চলছে?
ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
হাওয়া ভবন বাজেট ১০১: বাজেটের “আকার” বেড়েছে কিন্তু “উকার” কমেছে
ড. আসিফ নজরুল- আপনার এক অঙ্গে কতো রূপ?
গনতন্ত্র ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
পলাশীর পতনের ঠিক ১৯২ বছর পরে বাংলার জেগে ওঠার উপখ্যান
ইউনূস এবং শান্তির মূল্য
নোবেল শান্তি পুরস্কার—একসময় বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক—আজ বাংলাদেশের জন্য একটি ক্ষতস্থানে পরিণত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, নীতিহীন প্রতিপত্তি কতটা ফাঁপা।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী, একসময় মাইক্রোক্রেডিটের পথিকৃৎ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। কিন্তু আজ তিনি দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে শান্তির প্রতীক নন, বরং বিভাজনের, আর্থিক শোষণের এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের একটি চিহ্ন। তার নোবেল পদকটি আজ বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার ওপর একটি কালো দাগ।
আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য ছিল জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, স্থায়ী সেনাবাহিনীর হ্রাস এবং শান্তি প্রচার। কিন্তু আজকের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভূ-রাজনৈতিক খেলার একটি হাতিয়ার। এটি দেওয়া হয় ক্ষমতাবানদের সন্তুষ্ট
করতে, রাজনৈতিক বয়ানকে পবিত্র করতে অথবা কূটনৈতিক নাটক সাজাতে। ইউনূসের ক্ষেত্রে এই দ্বৈততা সবচেয়ে বেদনাদায়ক। বিদেশি শক্তি আর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার ছায়ায় তার কাজ ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে কলুষিত করেছে। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করেননি; বরং বিদেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছেন। রাজনৈতিক তাত্ত্বিক পেইমান সালেহির কথায়, আজকের শান্তি পুরস্কার সাম্রাজ্যকে আরামদায়ক করার জন্য দেওয়া হয়। শান্তি এখন আলোচনাযোগ্য—প্রতীকী, প্রসাধনী। ন্যায়ের অনুপস্থিতিতে শান্তি কেবল ভ্রম। একসময় হেনরি ডুনান্ট বা এলি উইজেলের মতো ব্যক্তিরা এই পুরস্কার পেয়েছিলেন মানবতার জন্য আত্মত্যাগের কারণে। কিন্তু আজ অর্ধেকেরও বেশি পুরস্কার নোবেলের মূল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুদ্ধে জড়িত রাষ্ট্রপ্রধানদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। শান্তি এখন পারফরম্যান্স, নীতি নয়। এই পরিস্থিতিতে আমাদের
প্রশ্ন করতেই হবে: বিশ্বের কি নতুন একটি শান্তি পুরস্কারের প্রয়োজন নেই? যেটি হবে সততা, ন্যায় এবং রূপান্তরকামী করুণার ওপর প্রতিষ্ঠিত? এমন একটি পুরস্কারের তিনটি স্তম্ভ হওয়া উচিত: ১. সততা ও স্বচ্ছতা: মানদণ্ড স্পষ্ট, জবাবদিহিমূলক এবং যাচাইযোগ্য। ২. ন্যায়ভিত্তিক শান্তি: মার্টিন লুথার কিংয়ের ভাষায়, শান্তি মানে সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়, ন্যায়ের উপস্থিতি। ৩. অদৃশ্য যোদ্ধাদের স্বীকৃতি: সম্প্রদায় সংগঠক, নারী মধ্যস্থতাকারী, স্থানীয় কর্মী—যারা নীরবে শান্তি গড়ে। একটি ‘গ্লোবাল পিস ইন্টিগ্রিটি অ্যাওয়ার্ড’ (জিপিআইএ) কল্পনা করা যায়। এর নির্বাচক কমিটিতে থাকবেন সংঘাতের শিকার মানুষ, মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী। পুরস্কার পাবেন যারা সত্যিই সহিংসতা কমিয়েছেন, মর্যাদা ফিরিয়েছেন। প্রচারের দরকার নেই—সততাই হবে সম্মানের উৎস। নোবেল কমিটির সাবেক সচিব গেইর লুন্ডেস্টাড নিজেই স্বীকার করেছেন, “বিশ্বে
শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই যদি উদ্দেশ্য হতো, তাহলে এটি ব্যর্থ হয়েছে।” স্বীকৃতি রূপান্তর নয়। করতালি শান্তি নয়। ইউনূসের নোবেল পদক বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার ক্ষত মুছে ফেলতে পারবে না। ১৯৭১-এর রক্ত, ত্যাগ, অশ্রু দিয়ে গড়া এই দেশ পশ্চিমা পুরস্কারে মহত্ত্ব মাপে না। মহত্ত্ব মাপে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততায়। বাংলাদেশ ধার করা সম্মানে প্রতারিত হবে না। বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষমা করবে না। ইউনূস তার পদক রাখতে পারেন। কিন্তু জাতির বিশ্বাস তিনি হারিয়েছেন। ইতিহাস এই সত্য লিখবে। এখন সময় এসেছে প্রহসন বন্ধ করার। প্রতীকী শান্তির পরিবর্তে সত্যিকারের ন্যায়, মর্যাদা ও সাহসকে সম্মান করার। ভ্রমের করতালি বন্ধ হোক। প্রকৃত কাজ শুরু হোক। আনোয়ার এ. খান রাজনৈতিক বিশ্লেষক
করতে, রাজনৈতিক বয়ানকে পবিত্র করতে অথবা কূটনৈতিক নাটক সাজাতে। ইউনূসের ক্ষেত্রে এই দ্বৈততা সবচেয়ে বেদনাদায়ক। বিদেশি শক্তি আর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার ছায়ায় তার কাজ ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে কলুষিত করেছে। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করেননি; বরং বিদেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছেন। রাজনৈতিক তাত্ত্বিক পেইমান সালেহির কথায়, আজকের শান্তি পুরস্কার সাম্রাজ্যকে আরামদায়ক করার জন্য দেওয়া হয়। শান্তি এখন আলোচনাযোগ্য—প্রতীকী, প্রসাধনী। ন্যায়ের অনুপস্থিতিতে শান্তি কেবল ভ্রম। একসময় হেনরি ডুনান্ট বা এলি উইজেলের মতো ব্যক্তিরা এই পুরস্কার পেয়েছিলেন মানবতার জন্য আত্মত্যাগের কারণে। কিন্তু আজ অর্ধেকেরও বেশি পুরস্কার নোবেলের মূল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুদ্ধে জড়িত রাষ্ট্রপ্রধানদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। শান্তি এখন পারফরম্যান্স, নীতি নয়। এই পরিস্থিতিতে আমাদের
প্রশ্ন করতেই হবে: বিশ্বের কি নতুন একটি শান্তি পুরস্কারের প্রয়োজন নেই? যেটি হবে সততা, ন্যায় এবং রূপান্তরকামী করুণার ওপর প্রতিষ্ঠিত? এমন একটি পুরস্কারের তিনটি স্তম্ভ হওয়া উচিত: ১. সততা ও স্বচ্ছতা: মানদণ্ড স্পষ্ট, জবাবদিহিমূলক এবং যাচাইযোগ্য। ২. ন্যায়ভিত্তিক শান্তি: মার্টিন লুথার কিংয়ের ভাষায়, শান্তি মানে সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়, ন্যায়ের উপস্থিতি। ৩. অদৃশ্য যোদ্ধাদের স্বীকৃতি: সম্প্রদায় সংগঠক, নারী মধ্যস্থতাকারী, স্থানীয় কর্মী—যারা নীরবে শান্তি গড়ে। একটি ‘গ্লোবাল পিস ইন্টিগ্রিটি অ্যাওয়ার্ড’ (জিপিআইএ) কল্পনা করা যায়। এর নির্বাচক কমিটিতে থাকবেন সংঘাতের শিকার মানুষ, মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী। পুরস্কার পাবেন যারা সত্যিই সহিংসতা কমিয়েছেন, মর্যাদা ফিরিয়েছেন। প্রচারের দরকার নেই—সততাই হবে সম্মানের উৎস। নোবেল কমিটির সাবেক সচিব গেইর লুন্ডেস্টাড নিজেই স্বীকার করেছেন, “বিশ্বে
শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই যদি উদ্দেশ্য হতো, তাহলে এটি ব্যর্থ হয়েছে।” স্বীকৃতি রূপান্তর নয়। করতালি শান্তি নয়। ইউনূসের নোবেল পদক বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার ক্ষত মুছে ফেলতে পারবে না। ১৯৭১-এর রক্ত, ত্যাগ, অশ্রু দিয়ে গড়া এই দেশ পশ্চিমা পুরস্কারে মহত্ত্ব মাপে না। মহত্ত্ব মাপে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততায়। বাংলাদেশ ধার করা সম্মানে প্রতারিত হবে না। বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষমা করবে না। ইউনূস তার পদক রাখতে পারেন। কিন্তু জাতির বিশ্বাস তিনি হারিয়েছেন। ইতিহাস এই সত্য লিখবে। এখন সময় এসেছে প্রহসন বন্ধ করার। প্রতীকী শান্তির পরিবর্তে সত্যিকারের ন্যায়, মর্যাদা ও সাহসকে সম্মান করার। ভ্রমের করতালি বন্ধ হোক। প্রকৃত কাজ শুরু হোক। আনোয়ার এ. খান রাজনৈতিক বিশ্লেষক



