ইউনুসের অবৈধ শাসনে বাংলাদেশিরা এখন বিশ্বের অচ্ছুত – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৮:৩১ অপরাহ্ণ

ইউনুসের অবৈধ শাসনে বাংলাদেশিরা এখন বিশ্বের অচ্ছুত

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৮:৩১ 10 ভিউ
বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা ভিসা দিচ্ছে না, ইউরোপ দিচ্ছে না, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শ্রমিক নিচ্ছে না, এমনকি প্রতিবেশী ভারত পর্যন্ত পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে? মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সেই তথাকথিত সরকার যেটা ক্ষমতায় এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটা রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। ইউনুসের কাছে কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে পাঠায়নি। সংবিধান তাকে ক্ষমতায় বসায়নি। তাহলে কীভাবে সে ক্ষমতায় এলো? বিদেশি টাকা, ইসলামি জঙ্গিদের সশস্ত্র সমর্থন আর সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায়। রাস্তায় মানুষ মেরে, সরকারি ভবনে আগুন দিয়ে, পুলিশ হত্যা করে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। এটা কোনো গণআন্দোলন ছিল

না, এটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত ক্যু। আর এখন সেই ক্যুর নায়ক বসে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, সুদের ব্যবসা থেকে উঠে এসে দেশ চালানোর ভান করছে। বিশ্ব কিন্তু বোকা নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঠিকই বুঝে গেছে বাংলাদেশে কী ঘটেছে। যে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে ক্ষমতা দখল করা হয়, যে দেশে সংবিধান পদদলিত হয়, যে দেশে জনগণের রায় ছাড়া একজন লোক ক্ষমতায় বসে, সেই দেশের মানুষদের কেন তারা বিশ্বাস করবে? আমেরিকা এখন বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার জামানত চাইছে ভিসার জন্য। এটা কি শুধুই একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? না, এটা একটা রাজনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায়। ভারত পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে ২০২৪ সালের আগস্ট

থেকে। ঠিক যখন ইউনুস ক্ষমতায় এলো। কাকতালীয়? মোটেও না। ভারত বুঝে গেছে বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা একটা রাষ্ট্রীয় অভ্যুত্থান, এবং এই অস্থিতিশীল শাসনের অধীনে বাংলাদেশিরা তাদের দেশে গেলে কী ঝামেলা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সৌদি আরব ছাড়া কার্যত আর কোনো দেশেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার নেই। কেন? কারণ তারা জানে এই অবৈধ সরকারের অধীনে থাকা মানুষদের কাগজপত্র বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন অসম্ভব। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জীবনরেখা। প্রবাসীরা বছরে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার পাঠায়। কিন্তু যখন শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়, যখন নতুন শ্রমিক যেতে পারে না, তখন কয়েক বছরের মধ্যেই এই রেমিট্যান্স প্রবাহ শুকিয়ে যাবে। ইউনুস, যে নিজেকে

অর্থনীতিবিদ বলে পরিচয় দেয়, সে কি এই মৌলিক অর্থনীতিটা বোঝে না? নাকি সে বোঝে কিন্তু তার কিছু যায় আসে না? কারণ তার আসল লক্ষ্য তো দেশ চালানো নয়, ক্ষমতায় টিকে থাকা। শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন ভাঙছে প্রতিদিন। যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে আগে বছরে পাঁচ-ছয় লাখ ভিসা দেওয়া হতো, সেখানে এখন দুই লাখেরও কম দেওয়া হচ্ছে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের দেশগুলো স্টুডেন্ট ভিসা দিতে গড়িমসি করছে। কেন? কারণ তারা দেখছে বাংলাদেশ এখন একটা অস্থিতিশীল রাষ্ট্র, যেখানে রাতারাতি সরকার পরিবর্তন হয়, যেখানে রাস্তায় মানুষ খুন হয়, যেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চলে। এমন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের তারা কেন ঝুঁকি নেবে? ইউনুস এবং তার দল বলছে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। কোন

স্থিতিশীলতা? রাস্তায় ছাত্ররা শিক্ষককে পিটিয়ে মারছে। সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিকমতো চলছে না। বিদেশি বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায়। কোন বিদেশি কোম্পানি এসে বিনিয়োগ করবে এমন দেশে যেখানে সরকারই অবৈধ? আজকে ইউনুস আছে, কালকে আরেকটা অভ্যুত্থান হলে আরেকজন আসবে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কে টাকা লগ্নি করবে? অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ঠিকই বলেছেন, অর্থনীতির সঙ্গে ভিসার সম্পর্ক আছে। কিন্তু আরো বড় সম্পর্ক আছে বৈধতার সঙ্গে। যে দেশের সরকারের কোনো সাংবিধানিক বৈধতা নেই, সেই দেশের নাগরিকদের কাগজপত্রের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ। ইউনুসের সরকার যে পাসপোর্ট ইশু করছে, যে ডকুমেন্ট দিচ্ছে, সেগুলোর স্বীকৃতি কোথায়? আন্তর্জাতিক আইনে একটা অবৈধ সরকারের জারি করা ডকুমেন্ট কি বৈধ? এই প্রশ্নগুলোর

উত্তর ইউনুসের কাছে নেই। তার কাছে আছে শুধু ফাঁকা বুলি। তিনি বলেন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন। কবে? কীভাবে? কোন প্রক্রিয়ায়? নির্বাচন কবে হবে? সংসদ কবে বসবে? সংবিধান কবে মানা হবে? এই প্রশ্নগুলোর কোনো সদুত্তর নেই। কারণ ইউনুসের লক্ষ্যই নির্বাচন দেওয়া নয়, লক্ষ্য ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখা। যে মানুষটা সারাজীবন সুদের ব্যবসা করে গরিব মানুষদের শোষণ করেছে, সেই মানুষ হঠাৎ করে দেশপ্রেমিক হয়ে গেল? যে লোক নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর নিজেকে দেবতা মনে করতে শুরু করেছিল, সে এখন জনসেবক? হাস্যকর। ইউনুসের একমাত্র যোগ্যতা হলো পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার সংযোগ। সেই সংযোগ কাজে লাগিয়েই তো সে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সেই পশ্চিমা দেশগুলোও এখন

বুঝে গেছে ইউনুস একটা ব্যর্থ প্রকল্প। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এর মূল্য দিচ্ছে। যে তরুণ স্বপ্ন দেখেছিল আমেরিকায় পড়তে যাবে, তার ভিসা রিজেক্ট হচ্ছে। যে শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতে চেয়েছিল, সে বেকার বসে আছে। যে ব্যবসায়ী বিদেশে যাতায়াত করে ব্যবসা চালাত, সে এখন ভিসা পাচ্ছে না। তিন কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আর এসবের দায় কার? মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার অবৈধ সরকারের। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিশ্ব যখন বাংলাদেশিদের প্রত্যাখ্যান করছে, তখন তারা আসলে ইউনুসের অবৈধ শাসনকেই প্রত্যাখ্যান করছে। এটা বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়, এটা সেই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অবস্থান নৈতিকভাবে সঠিক। তারা একটা ক্যু সরকারকে স্বীকৃতি দিতে পারে না। কিন্তু এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যারা এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ছিল না, যারা শুধু তাদের জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। ইউনুস যদি সত্যিই দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চান, তাহলে তার উচিত অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া। নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। জনগণকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। একটা বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তিনি তা করবেন না। কারণ ক্ষমতার স্বাদ তিনি পেয়ে গেছেন। আর যে ক্ষমতা অবৈধভাবে পাওয়া, সেটা সহজে ছাড়তে কেউ চায় না। বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু একটা কূটনৈতিক সমস্যা নয়, এটা একটা জাতীয় সংকট। আর এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো ইউনুসের অবৈধ শাসনের অবসান ঘটানো এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। যতদিন এটা না হবে, ততদিন বাংলাদেশিরা থাকবে বিশ্বের অচ্ছুত, প্রত্যাখ্যাত, অবাঞ্ছিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬ তেহরানসহ একাধিক জায়গায় ফের জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা বাড়ল স্বর্ণের দাম আবারও বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান ইরানে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা সরকারি অনুদানের সিনেমায় রাজ-মিম জুটি নিউজিল্যান্ড সিরিজে কোহলি-রোহিতের ওপর ভরসা রাখছেন গিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নেতাদের হাতে শিক্ষক হেনস্তা সার্চের ফলাফল থেকে বাদ দেওয়া যাবে ইউটিউবের শর্টস ১৫ লাখ পোস্টাল ভোট: অদৃশ্য খামের ভেতরেই কি লুকিয়ে নির্বাচনের ভাগ্য? সুদখোর আর জামায়াতের হাতে স্বাধীনতার ইতিহাস ইউনুসের অবৈধ শাসনে বাংলাদেশিরা এখন বিশ্বের অচ্ছুত গোপালগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে আতঙ্ক, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের ধ্রুবতারা ও ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য: ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এক ফিরে দেখা শেখ হাসিনাকেই চাই, মরতেও রাজি আওয়ামী লীগ আমলেই ভালো ছিলাম”: চাল ও গ্যাসের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ ১৬ বছরের উন্নয়ন আগামী ৫০ বছরেও কেউ করতে পারবে না: সাধারণ নাগরিকের অভিমত পিতার নামে শপথ নেওয়ার দিন আজ গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট