আরাফাত ময়দানে জিয়াউর রহমানের ‘জিয়া ট্রি’ নিয়ে তারেক রহমানের দাবি: সৌদি ঐতিহাসিক দলিলে মেলেনি সত্যতা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৬

আরাফাত ময়দানে জিয়াউর রহমানের ‘জিয়া ট্রি’ নিয়ে তারেক রহমানের দাবি: সৌদি ঐতিহাসিক দলিলে মেলেনি সত্যতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৬ |
তারেক রহমান সম্প্রতি এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালনে গিয়ে আরাফাতের ময়দানে ধু ধু মরুভূমি দেখে দেশে ফিরে সৌদি আরবে এক লাখ নিম গাছের চারা পাঠান। তার দাবি অনুযায়ী, আরাফাত ময়দান এখন সেই নিম গাছে ভরে আছে এবং সৌদি আরবের মানুষ গাছগুলোকে ‘জিয়া ট্রি’ নামে ডাকে। তবে অনুসন্ধানে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক বা ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আরব নিউজের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য সৌদি আরবের প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম আরব নিউজে ২০১১ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে হজযাত্রীদের ছায়া দিতে নিম গাছ রোপণের এই প্রকল্প মূলত একটি জনকল্যাণমূলক ‘ওয়াকফ’ (দাতব্য) প্রকল্প, যা ১৯৮৬ সালে শুরু করেন

সৌদি ব্যবসায়ী আব্দুল রহমান ফাকিহ্। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পটির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল এবং ফজরের নামাজের পর প্রতিদিন তিনি এটি পরিদর্শন করতেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় আরাফাতে মোট ৩ লাখ নিম গাছ ছিল বলে জানানো হয়। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আদেল খামিসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অঞ্চলের জলবায়ুর সঙ্গে নিম গাছ বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ এটি বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছায়া দেয় এবং বায়ু পরিশোধনে সহায়ক। প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমান বা বাংলাদেশ থেকে নিম গাছের চারা পাঠানোর কোনো উল্লেখ নেই। বরং প্রকল্পটির সূচনা, উদ্যোক্তা ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেও নিম গাছ সৌদি আরবে নতুন নয় সংশ্লিষ্ট তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সৌদি আরবে নিম গাছের

উপস্থিতি নতুন কিছু নয়—১৯৪০-এর দশক থেকেই দেশটিতে এই গাছ রোপিত হয়ে আসছে। ফলে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো নিম গাছ পরিচিতি লাভের দাবিটিও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও মেলে ভিন্ন তথ্য নিম গাছের বিস্তার নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্ভিদবিজ্ঞান গবেষণাতেও তারেক রহমানের দাবির বিপরীত তথ্য পাওয়া যায়। সালিম প্রমুখের (১৯৮৯) গবেষণা অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কা সংলগ্ন আরাফাতের সমতলে প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশ্বের বৃহত্তম নিম গাছের বাগান গড়ে উঠেছে, যেখানে এক সৌদি জনহিতৈষী ব্যক্তির উদ্যোগে প্রায় পঞ্চাশ হাজার নিম গাছ রোপণের মাধ্যমে এই বাগান শুরু হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, সৌদি আরবে নিম গাছের উপস্থিতি বহু পুরনো বলেও প্রমাণ মেলে বৈজ্ঞানিক নথিতে। খাত্তাব

ও এল-হাদিদির (১৯৭১) গবেষণা অনুসারে, ১৯৪৪-৪৫ সালে সৌদি আরবে পরিচালিত এক উদ্ভিদবিজ্ঞান অভিযানে মদিনার পশ্চিমে একটি বাগানে পূর্ণবয়স্ক নিম গাছের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে জেদ্দার অনেক বাড়িতে প্রায় ৫০-৬০ বছর বয়সী পরিণত নিম গাছ দেখা যায়, আর মক্কায় এমন একটি গাছও পাওয়া গেছে যার বয়স ১০০ বছরেরও বেশি। সালিম প্রমুখের (১৯৮৯) গবেষণা অনুযায়ী, মদিনা, তায়েফ ও অন্যান্য এলাকাতেও বহু পরিণত নিম গাছের অস্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে নিম গাছ ভূদৃশ্য-সজ্জার (ল্যান্ডস্কেপিং) কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং জেদ্দা শহরে এটি সাধারণ সড়ক-তরু হিসেবেও দেখা যায়। এই বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ স্পষ্ট করে দেয় যে, সৌদি আরবে নিম গাছের ব্যাপক উপস্থিতি বহু দশকের পুরনো একটি ঘটনা,

যা তারেক রহমানের দাবিকৃত সময়কাল ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর্টিকেল লিংকঃ Distribution of Neem in Saudi Arabia সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দাবিটি প্রামাণ্য তথ্য ও ঐতিহাসিক নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আরাফাতের নিম গাছ রোপণ প্রকল্পের প্রামাণ্য ইতিহাস, এর উদ্যোক্তা এবং সময়কাল সংক্রান্ত তথ্য বিবেচনায় নিলে দাবিটি অসত্য ও ভিত্তিহীন বলেই প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে তারেক রহমানের কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
সার সংকট নিয়ে উদ্বেগ সংসদে এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে রুমিন ফারহানার যে বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল ‘বিয়ে হয়ে গেছে’ বলে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ এজবাস্টনে পাকিস্তানের লজ্জার রেকর্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রাণনাশের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন হাটহাজারীতে সেনা প্রশিক্ষণে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাঃ ট্যাঙ্কের গোলাবর্ষণে ২ সৈনিকের মৃত্যু, আহত ১ লোডশেডিংয়ের সুযোগে চোরের পৌষ মাস: দুই মাসে ২৬ ট্রান্সফরমার চুরি, অন্ধকারে মাদারগঞ্জ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বাড়িতেই পড়লো হাইভোল্টেজ বজ্রপাত হামে শিশু মৃত্যু সংখ্যা হাজার পারঃ ভ্যাক্সিন সংগ্রহে ইউনূস সরকারের সংস্কার তত্ত্ব আর খামখেয়ালীপনায় ঝরে গেল সহস্রাধিক শিশুপ্রাণ সড়কে দীর্ঘ লাইন, বাসায় বন্ধ চুলা: গ্যাস সংকটে হাহাকার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বাঁধন, আপনার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি ব্যালন ডি’অরের মনোনয়নে নানা চমক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকান্ড: ৪০ ঘন্টা ধরে পুড়েছে সার্ভার রুম ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ইন্টারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করল রিয়াল “এক দেশের উপর হামলা মানেই তিন দেশের উপর হামলা”: সৌদিতে হুতিদের হামলায় শুধুই সমবেদনা ‘মক্কা জোট’ মিত্রদের নোয়াখালীতে মাদ্রাসায় শিশু ছাত্রী ধর্ষণঃ ধর্ষক ‘মুহতারাম’-কে আচ্ছামতো গণধোলাই দিলো এলাকাবাসী সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে দুর্নীতি ও অনিয়ম এর দায়ে গুপ্ত সংগঠন নেতা প্রেসক্লাব সভাপতি তৌহিদকে বহিষ্কার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত