মাদক সিন্ডিকেটের হোতাকে ছাড়াতে থানায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩ জুলাই, ২০২৬

মাদক সিন্ডিকেটের হোতাকে ছাড়াতে থানায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ জুলাই, ২০২৬ |
গত ১ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের চানফর আলীর পুত্র রেজাউল করিমকে ৮০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তারের পর সদর থানার ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টেটাস দেওয়া হয় ‘মোহনপুরের মাদকের গডফাদার রেজাউল পুলিশ হেফাজতে’। পুলিশ যখন রেজাউলকে মাদকের গডফাদার হিসেবে জানে তখন তাকে ছাড়ানোর জন্য দ্রুত থানায় ছুটে আসেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মমিনুল হক কালাচান। ৫ই আগস্টের পর এই দুইজন নদী, ঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বালু পাথর মহাল, সীমান্তের চোরাচালান, মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন বলে অভিযোগ আছে। এই অভিযোগের কারণে বিএনপির তৃণমূলের স্বচ্ছা রাজনৈতিক কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম নূরুল ও তার নির্বাচনী সেল কামরুল হাসান রাজু, মমিনুল হক কালাচান ও সোহেল আহমদ নামের বিতর্কিত তিনজনকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিরত রেখেছিলেন। নির্বাচনের পর আবার স্বমূর্তিতে ফিরে চাদাবাজি, চোরাচালান ও মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে মাদকের ডিলার রেজাউলকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে কামরুল হাসান রাজু ও কালাচান দ্রুত সদর থানায় ছুটে আসেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সদর থানার ওসি তদন্ত আরিফ উল্লার সঙ্গে। আরিফ উল্লাহ মাদকের গডফাদার রেজাউলসহ মাদক ও চোরাচালান চক্রের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আনেন বলে অভিযোগ আছে। জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি তদন্ত আরিফুল্লাহ, এএসআই আবুবকর বাকি, মোহাম্মদ আলী, সাবেক এসআই

মাহমুদুলসহ পুলিশের কিছু দুর্নীতিবাজ চক্র মাদক কারবারি রেজাউলসহ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে তাদের হয়ে মাদকবিরোধী লোকদের হুমকি-ধমকি দেন ও মামলায় আসামি করেন। প্রতিবাদকারী একাধিকজনকে ইতোমধ্যে মিথ্যা মামলায় ডুকিয়ে দিয়েছে এই চক্র। কালাচান ও রাজু সব মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে পুলিশের দুর্নীতিবাজ চক্রের মাধ্যমে তাদের রক্ষা করে আসছেন। তারা মাদক ও ইয়াবা চক্রের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসোহারা নেন। গোয়েন্দা রিপোর্টেও কিছুদিন আগে তাদের নাম উঠে এসেছিল। জাতীয় দৈনিক যুগান্তরেও এই নামগুলো এসেছিল। মাদকের গডফাদার রেজাউলকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাকে ছাড়াতে থানায় চলে যান যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজু ও কালারচান। কিন্তু পুলিশ সুপার বিএম জাকির

হোসেন মাদক কারবারি রেজাউলের ইয়াবা সেবন, ইয়াবার ডিপোর ভিডিওসহ তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের স্পষ্ট প্রমাণ পেয়ে সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২০শে জুন মোহনপুর মাদক প্রতিরোধ কমিটির সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সদর থানার ওসি রতন শেখ মাদকের গডফাদার রেজাউলকে গ্রেপ্তারের ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু তার পুলিশের একটি চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তিনি গ্রেপ্তার করতে পারছিলেন না। পুলিশের দুর্নীতিবাজ চক্র ও রাজু-কালারচানের প্রশ্রয় ও আদেশে যারা তার বিরোধিতা করতো তাদেরকেই ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিতো এবং কয়েকজন প্রতিবাদকারীকে মিথ্যা মামলায় আসামিও করা হয়েছে। গত ২০শে জুন ওসির সামনেই ভুক্তভোগীরা সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন। গত ৯ই মে ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে

পুলিশের এসআই আশরাফুল মাদক কারবারি রেজাউলকে ইয়াবার চালানসহ গ্রেপ্তার করলেও রাজু-কালাচান ও ওসি তদন্ত আরিফুল্লাহসহ পুলিশের দুর্নীতিবাজ চক্রের প্রভাবে তাকে ৫৪ ধারায় চালান দেখানো হয়। মাদকের মামলার বদলে তার বিরুদ্ধে নন এফআইর প্রসিকিউশন নং ৭৬২০২৬ তারিখ ১০.০৫.২০২৬ আদালতে প্রেরণ করলে ওইদিনই জামিন নিয়ে আসে। ওইদিন রেজাউল রাজু-কালাচান ও ওসি তদন্তকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দেয়। তবে ওসি রতন শেখও মাদক কারবারিসহ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্র প্রতিদিন তাকে নিত্য নতুন কাপড়, উন্নত পছন্দের মুখরোচক খাবার উপহার দেয়। পুলিশ মাদকের ডিলার রেজাউলকে গ্রেপ্তারের পর রাতে থানায় ছুটে যাওয়া যুবদল নেতা কামরুল হাসান রাজু ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কালাচান

তাকে ছাড়াতে যাওয়ায় স্থানীয় এমপি নুরুল ইসলাম নূরুলকে অবগত করেন এলাকাবাসী। তারপর তিনি রাজু ও কালারচানকে তিরস্কার করেন। উল্লেখ্য এর আগে নির্বাচনের আগে রাজু-সোহেল-কালাচানের চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে নূরুল ইসলাম নূরুল তাদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় না যেতে কড়া নিষেধ করেছিলেন। তারা নির্বাচনের আগে শহরের আহনাফ রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও চাদাবাজি করতে গিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ আমলেও কালাচান সোহেল জুটি ডলুড়া বর্ডার হাট ও ধোপাজান নদীতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করতো। অন্যদিকে এমপির তিরস্কারের পরেও বৃহষ্পতিবার দুপুরে কালাচান মাদকের ডিলার রেজাউলকে ছাড়াতে থানায় চলে যান। থানায় গিয়ে লকাপে দেখা করে ছাড়ানোর আশ্বাস দেন। জানা গেছে, মোহনপুর মাদকপ্রতিরোধ কমিটি রেজাউলসহ এলাকার

মাদক কারবারিদের মুচলেকা নেন গত মার্চ মাসে। সে সমাবেশে মাদক কারবারের কথা স্বীকার করে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাদক কারবারি নয় মর্মে প্রত্যয়নপত্র এনে নির্বিঘ্নে মাদকের কারবার চালানোয় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গত ১৫ই জুন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ও দৈনিক সুনামকণ্ঠ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে রেজাউলের প্রত্যয়নপত্র বাতিল করেন। ভবিষ্যতে এই প্রত্যয়নপত্র ব্যবহারে করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ওসি, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের অনুলিপি দেন চেয়ারম্যান। এদিকে রেজাউলকে গ্রেপ্তারের পর মোহনপুর এলাকাবাসী আনন্দ মিছিল করেছেন। মাদকপ্রতিরোধ কমিটি পত্রিকায় বিবৃতি পাঠিয়ে পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়ে এলাকার অন্য কারবারিদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছে। মাদক ডিলার রেজাউলকে গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রী, তার চাচা আফিজ মিয়া, চাচা আব্দুর রহমান আইন শৃঙ্খলাবাহিনীসহ সদর এমপি নূরুল ইসলাম নূরুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আব্দুর রহমান ও আফিজ মিয়া এমপির সঙ্গে দেখা করে রেজাউল ও রেজাউলের পুলিশ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাদের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, মাদকের গডফাদার রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে তার আগের মামলার রেফারেন্সও উল্লেখ করা হয়েছে। সে প্রকৃত মাদক কারবারি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যেসব কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ককটেল নিক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক চুরি গুরু পাপে লঘু দণ্ড পুঁজিবাজারে, উৎসাহিত হচ্ছে কারসাজি চক্র সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার, ৩৪৫৩ কেজি মাংস উদ্ধার! কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি চুয়াত্তরেও সেই জাদু রুনা লায়লার কণ্ঠে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮ কোরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যারা মানুষ কেন নাক খোঁটে জানেন? বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির: দেশের জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই চরম গ্যাস সংকটে উৎপাদনে ধস: সংকটে শিল্প, শঙ্কায় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল ঘোষণা: ফিরলেন সৌম্য ও জাকের, বাদ জয় ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ৪২% খেলাপি, বাড়ছে বড় ঋণের ঝুঁকি বিএনপি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প: নির্মাণের এক মাসেই সড়কে ধস, জলাবদ্ধতায় স্থবির পাঁচ গ্রামের জনজীবন আগস্টে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন না হলে সরকারি কর্মচারীদের বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা ‘লীগ নেতা’ ট্যাগে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না পেয়ে ব্যবসায়ীকে আয়নাঘরে নির্যাতনের পর পুলিশে দিল বিএনপি নেতা জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ফাঁড়ির খাবার পানিতে বিষ: নাশকতার শঙ্কা, নমুনা পাঠানো হলো ল্যাবে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে ডিগবাজি দেওয়া নেতা চাঁদাবাজির দায়ে গ্রেপ্তার অস্ত্রের ভাণ্ডারে পরিণত হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বাড়ছে জঙ্গি আতঙ্ক