একটা আদর্শ রাষ্ট্র দেড় বছর, দুই বছর সময়ের ব্যাপার না: রিজওয়ানা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

একটা আদর্শ রাষ্ট্র দেড় বছর, দুই বছর সময়ের ব্যাপার না: রিজওয়ানা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, একটা আদর্শ রাষ্ট্র পাওয়া দেড় বছর, দুই বছর সময়ের ব্যাপার না। যাত্রাটা আমাদের যেন দৃঢ়ভাবে শুরু হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন চাই, চিন্তার স্বাধীনতাও তেমন চাই। সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হচ্ছে আমি আমার বিচার পাব। এমন একটা সমাজ চাই, যেখানে সময়মতো বিচার হবে। অনুরোধ থাকবে, কথা যেহেতু বলতে পারছি, যত সমালোচনা করা যায় করি, কিন্তু ফোকাস যেন নষ্ট না হয়ে যায়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে শনিবার সকালে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, একটা ফ্যাসিস্ট রেজিম একা একা ফ্যাসিস্ট হয় না। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ, ব্যুরোক্রেসি,

পুলিশ প্রশাসনকে নেয়। এমনকি সে গণমাধ্যমকেও নেয়। বুদ্ধিজীবীদেরও সঙ্গে নেয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তো একটা ফ্যাসিস্ট রেজিম গড়ে ওঠে। সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, বাস্তবতার কথা বললে, আমি কেন মনে করব আমার স্বপ্ন আপনাদের স্বপ্ন থেকে ভিন্ন? আমরা কিছু লোক দায়িত্ব পেয়েছি, কেউ পাইনি, কিন্তু মোটা দাগে স্বপ্ন ভিন্ন হওয়ার কারণ দেখতে পাই না। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেড় মাস সময় লাগবে, নাকি দেড় বছর লাগবে, দেড় যুগ লাগবে সেটা বোঝা যাবে আপনি কতটা সূক্ষ্ম স্বপ্নের দিকে নিয়ে যেতে চান। আমি যেটা বুঝি সমাজের প্রতিটা জায়গায় যেভাবে ফ্যাসিবাদের দোসররা গ্রথিত হয়ে আছে, সেটা ওভার নাইট একটা টান দিয়ে সমাধান করা সম্ভব না। রাষ্ট্র

সংস্কার প্রসঙ্গে এ উপদেষ্টা বলেন, এটা আমার নিজের মতামত সরকারের ভাষ্য হিসেবে নেবেন না। যেমন ধরেন, আপনি পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে একটা বিস্তারিত সংস্কার করলেন। ধরলাম, সংস্কার হলো, প্রস্তাব পাস হলো, আমরা সকলে একমত হলাম। এটা বাস্তবায়ন করবে কারা? যে লোকগুলো বাস্তবায়ন করবে, তারা তো প্রায় সবাই রয়ে যাচ্ছে। এখন ধরেন ওপর থেকে আপনি ডাইরেক্ট দোসর ভেবে সরাতে পারলেন। কিন্তু বাকি যে বাস্তবায়ন করবে, সেই দায়িত্বে থাকবে কারা? পুলিশ থেকে সরে আসি, আমাদের সাধারণ মানুষে আসি; দীর্ঘদিন ফ্যাসিজমের আবহে থেকে থেকে আমরা কি চিন্তা চেতনায় যথেষ্ট মুক্ত ও স্বাধীন? এই জায়গায়ও একটা বড় চিন্তার ব্যাপার আছে। আমরা সংস্কার করে দিয়ে গেলেও

মুক্তভাবে, স্বাধীনভাবে অনেকেই ভাবতে পারি? নাকি এভাবেই অ্যাডজাস্ট করে সমাজে চলতে হবে? এটা আমাদের আচরণে চলে এসেছে। ফলে নিয়মে কাগজে সংস্কার করা সম্ভব। এখনো বাংলাদেশে যে আইনকানুন আছে, সেগুলো যদি জনস্বার্থে প্রয়োগ হতো, তাহলে হয়তো এই অসহায়ত্বের মধ্যে আমরা পড়তাম না। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র নিয়ে নিজের স্বপ্ন সম্পর্কে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, আমার কাছে স্বপ্ন হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ের স্বাধীনতা, পেশাগত পর্যায়ে স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা। আজকে যে কথাগুলো বলতে পারলেন, কত দিন আগে তো বলতে পারেননি। আমার বড় কথা হলো স্বপ্ন যেন ছোট না হয়। অনেক দিন দলীয় অপশাসন ফ্যাসিবাদের মধ্যে থেকে থেকে কতগুলো জিনিস সমাজে নর্মস হিসেবে ধরে নিয়েছি, কিন্তু সেগুলো

হতে পারে না। ‘দুঃসময়ের কণ্ঠস্বর: তাদের স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, সেভেনটি ইয়ারস ইন বাংলাদেশ ওয়ার্কিং টুগেদার রিয়ালাইজিং পটেনশিয়াল, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। ‘দুঃসময়ের কণ্ঠস্বর: তাদের স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আয়োজনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষেরা তাদের কথা এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন। আয়োজনে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আজকের বাস্তবতায় আমরা এখনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছি বিভিন্নভাবে। অনেক রকম অপপ্রচার অবিচারের স্বীকার হচ্ছি এখনো।

আমি বলতে চাই, আজকে আমাদের অপূর্ব সুযোগ। অন্তর্ভুক্তিকরণের পরিবর্তে বিভক্তির রাজনীতি যদি করি, অবশ্যই আমাদের দায়বদ্ধ করতে হবে। আমাদের একে অপরকে টেনে নামানোর প্রবণতা যদি বন্ধ না করি, তাহলে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপায়িত করা হবে না। আমাদের সবারই যার যার জায়গা থেকে ক্ষমতা আছে। এটা আমরা কিভাবে ব্যবহার করি। ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না হয়, তার জন্য নজরদারি থাকতে হবে। বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান বলেন, মানুষটা ভালো হতে হবে। ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসতে হবে। আপনি খারাপ মানুষ এনে যেই সংস্কারই করেন, আমরাই সিস্টেমকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেলব। আর ভালো মানুষ হলে খারাপ সিস্টেমের মধ্যেও ভালো কিছু করবে। এই ভালো মানুষ আসার সুযোগ

করে দিতে হবে। এ ছাড়া আরও নানা পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন। বক্তব্য দেন ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসিরুদ্দিন এলান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, গণঅধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্ট নুরুল হক নুর, রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ড. জাহেদুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল, এএফপি বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেক এডিটর কদরুদ্দিন শিশির, ডিএসএ ভিকটিম নেটওয়ার্কের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভুইয়া, ‘জবান’–এর সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) রেজাউল করিম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ, ইউপিডিএফের সংগঠক মাইকেল চাকমা, সাংবাদিক এম ইউ মিমি মারমা মিমি, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য প্রীতম দাশ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক মামুন আব্দুল্লাহি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপির পর এবার এনসিপিতে যোগ দিলেন পুরান ঢাকার কুখ্যাত চাঁদাবাজ ইসহাক সরকার মার্কিন দূতাবাসের জন্য বিশেষ স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিটঃ বুরকিনা ফাসো’র কাতারে বাংলাদেশ বাংলাদেশকে হামের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সক্ষমতা তলানিতে তিন বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের, ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে তারেক রহমানকে ঘিরে দুর্নীতির আশঙ্কায় আইএমএফ ঋণ বন্ধ: রেজা কিবরিয়া ধানের নতুন দাম নির্ধারণ, হাওরে বোরো চাষিরা হতাশ ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি: লেবাননে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত, তেহরানের জন্য কমল সময় অসামান্য প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকাপ মাতাতে পারেন ফ্রান্সের অলিসে ইউনূস সরকারের “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল করাটাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশে তালেবান নেটওয়ার্কের বিস্তার: কূটনীতির নামে উগ্রবাদী তৎপরতা, উদ্বেগ ও বিবিধ প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে একদিনেই ছাত্রলীগের তিন মিছিল, উদ্দীপ্ত সারাদেশের নেতাকর্মীরা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ মিত্রদের জন্য হরমুজে ফি মওকুফ করল ইরান, কারা আছেন তালিকায় ঢাবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ তদন্ত কমিটি গঠন ক্যাম্পাসে উত্তেজনার ঝড় বড় সংঘাতের আশঙ্কা সালাউদ্দিন আম্মারকে সতর্ক করে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি ইরানে পারমাণবিক হামলা করবেন কি না, জানালেন ট্রাম্প আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল তেহরান তেলের সংকট আরও তীব্র হতে পারে, বাড়ছে দাম