ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
৪০০ বিলিয়ন রপ্তানির কানাডা বলছে ‘না’, অথচ ৮ বিলিয়ন রপ্তানির বাংলাদেশ মানছে সব মার্কিন শর্ত
৬ মাসে কর্মহীন ৬২ হাজার মানুষ, তারেক রহমানের বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ
রাশিয়ার মিগ-২৯ থেকে চীনা জে-১০: গল্পটি সক্ষমতার, মিথ্যা এবং ধোঁকাবাজিরও
বাণিজ্যে ভারত-নির্ভরতা বাড়ছেই, দুই বছরে বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট
পায়রা ও আদানিকে রেকর্ড ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান: গত অর্থবছরে কেন এত বেশি দিতে হলো?
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের নামে এলজিবিটি কোটায় আবেদনের শীর্ষে পাকিস্তান, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
জাতীয় চার নেতার ম্যুরালকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করে অপসারণ, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা
একটির খরচে ৫টি মেট্রো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না: লাইন-২ রুটে খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি
আওয়ামী লীগ সরকার মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ৫-১০ গুণ বেশি অর্থ খরচ করেছে, অপচয় কিংবা বিদেশে পাচার করেছে- এমন তথ্য শোনা গিয়েছিল বেশ কয়েক বছর ধরে। সমালোচকরা বলে এসেছিল, ১টি প্রকল্পের অর্থে ৫-১০টি প্রকল্প করা যেত। বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির কথিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উচ্চারিত হয়েছিল এমন বক্তব্য।
তবে বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে ভিন্ন। এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় বাড়ছে ১২৬%, ৪১ হাজার কোটি থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। লাইন-১-এর ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে ১৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি ১৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প- রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয়ের কাছাকাছি। একটি প্রকল্পের টাকায় ৫টি মেট্রোরেল নির্মাণের যে আকাশকুসুম প্রস্তাবনা ছিল জুলাই আন্দোলনকারীদের, সেসব উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে চলছে তুমুল সমালোচনা। যদিও অর্থাভাবে চলমান প্রকল্প বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সরকারকে। এরইমধ্যে ‘এমআরটি লাইন-২’ নামে আরেকটি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাবতলী থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকা অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রুটটি। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার অন্যান্য চালু ও প্রস্তাবিত মেট্রো লাইনগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ সুগম হবে। সমগ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এই সুবিশাল বাজেটের সিংহভাগ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে
বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) এতে অর্থায়নে সম্মতি প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষভাগে কিংবা আগামী বছরের শুরুর দিকে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই রুটে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই বড় উদ্যোগটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, প্রস্তাবিত এই মেট্রো লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং এতে ২৪টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পুরো রুট জুড়ে মাটির নিচ দিয়ে (পাতাল) এবং ওপর দিয়ে (উড়াল)—এই দুই পদ্ধতির মিশ্রণে লাইন তৈরি করা হবে। প্রাথমিক সমীক্ষায় গাবতলী থেকে ডেমরা এবং গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পথটি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা
হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রুট বিন্যাসে নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করে গত মে মাসে একটি প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়। চলতি পরিকল্পনামতে, গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। এর অন্তর্বর্তীকালীন স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সাইন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার এবং ডেমরা। মূল রুটের পাশাপাশি গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন (স্পার লাইন) যুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অর্থায়নের জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষ
হয়েছে। অতি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং এমআরটি-২ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনাও প্রদান করে। বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এআইআইবির আর্থিক অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেই আলোকেই পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশন এই প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কমিশন সবুজ সংকেত দিলেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপরই পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও মূল অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রকল্প প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো
বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এবার বৈদেশিক ঋণের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়ার লক্ষ্যে এটি ইআরডিতে পাঠানো হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ রুট হতে যাচ্ছে, কারণ এটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকাকে সরাসরি যুক্ত করবে। তবে ইআরডির বিশ্বব্যাংক উইংয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এমআরটি লাইন-২-এ বিনিয়োগে বিশ্বব্যাংকের নীতিগত কোনো দ্বিমত ছিল না। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার ঝুঁকি বিবেচনা করে এই মেগাপ্রকল্পটি হাতে নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এমনকি প্রাথমিক সমীক্ষা চালানোর জন্য বিশ্বব্যাংক যে অর্থ দিতে চেয়েছিল, সেটিও গ্রহণ করা
হয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমান সরকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সব ঝুলে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করার কৌশল গ্রহণ করেছে। এর প্রতিফলন হিসেবেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেট্রোরেল খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। উপরন্তু, ভবিষ্যতে এই এমআরটি লাইন-২-কে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত করার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনাও রয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে এমআরটি লাইন-২-এর সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য মেট্রো নেটওয়ার্কের সংযোগ বা ইন্টারচেঞ্জ রাখা হচ্ছে। ফলে গাবতলীতে এটি এমআরটি-৫ (উত্তর ও দক্ষিণ), কমলাপুরে এমআরটি-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে গিয়ে এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প- রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয়ের কাছাকাছি। একটি প্রকল্পের টাকায় ৫টি মেট্রোরেল নির্মাণের যে আকাশকুসুম প্রস্তাবনা ছিল জুলাই আন্দোলনকারীদের, সেসব উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে চলছে তুমুল সমালোচনা। যদিও অর্থাভাবে চলমান প্রকল্প বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সরকারকে। এরইমধ্যে ‘এমআরটি লাইন-২’ নামে আরেকটি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাবতলী থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকা অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রুটটি। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার অন্যান্য চালু ও প্রস্তাবিত মেট্রো লাইনগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ সুগম হবে। সমগ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এই সুবিশাল বাজেটের সিংহভাগ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে
বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) এতে অর্থায়নে সম্মতি প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষভাগে কিংবা আগামী বছরের শুরুর দিকে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই রুটে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই বড় উদ্যোগটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, প্রস্তাবিত এই মেট্রো লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং এতে ২৪টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পুরো রুট জুড়ে মাটির নিচ দিয়ে (পাতাল) এবং ওপর দিয়ে (উড়াল)—এই দুই পদ্ধতির মিশ্রণে লাইন তৈরি করা হবে। প্রাথমিক সমীক্ষায় গাবতলী থেকে ডেমরা এবং গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পথটি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা
হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রুট বিন্যাসে নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করে গত মে মাসে একটি প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়। চলতি পরিকল্পনামতে, গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। এর অন্তর্বর্তীকালীন স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সাইন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার এবং ডেমরা। মূল রুটের পাশাপাশি গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন (স্পার লাইন) যুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অর্থায়নের জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষ
হয়েছে। অতি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং এমআরটি-২ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনাও প্রদান করে। বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এআইআইবির আর্থিক অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেই আলোকেই পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশন এই প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কমিশন সবুজ সংকেত দিলেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপরই পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও মূল অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রকল্প প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো
বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এবার বৈদেশিক ঋণের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়ার লক্ষ্যে এটি ইআরডিতে পাঠানো হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ রুট হতে যাচ্ছে, কারণ এটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকাকে সরাসরি যুক্ত করবে। তবে ইআরডির বিশ্বব্যাংক উইংয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এমআরটি লাইন-২-এ বিনিয়োগে বিশ্বব্যাংকের নীতিগত কোনো দ্বিমত ছিল না। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার ঝুঁকি বিবেচনা করে এই মেগাপ্রকল্পটি হাতে নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এমনকি প্রাথমিক সমীক্ষা চালানোর জন্য বিশ্বব্যাংক যে অর্থ দিতে চেয়েছিল, সেটিও গ্রহণ করা
হয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমান সরকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সব ঝুলে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করার কৌশল গ্রহণ করেছে। এর প্রতিফলন হিসেবেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেট্রোরেল খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। উপরন্তু, ভবিষ্যতে এই এমআরটি লাইন-২-কে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত করার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনাও রয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে এমআরটি লাইন-২-এর সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য মেট্রো নেটওয়ার্কের সংযোগ বা ইন্টারচেঞ্জ রাখা হচ্ছে। ফলে গাবতলীতে এটি এমআরটি-৫ (উত্তর ও দক্ষিণ), কমলাপুরে এমআরটি-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে গিয়ে এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।



