অস্ত্রের ভাণ্ডারে পরিণত হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বাড়ছে জঙ্গি আতঙ্ক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৬ July, ২০২৬

অস্ত্রের ভাণ্ডারে পরিণত হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বাড়ছে জঙ্গি আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ July, ২০২৬ |
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। অপহরণ, চাঁদাবাজি, মুক্তিপণ আদায়, মাদক ও অস্ত্রের কারবারের পাশাপাশি বিভিন্ন উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সদস্য সংগ্রহের খবরও সামনে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা, এনজিওকর্মী ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ঢুকে ক্যাম্পের ভেতরে পৌঁছাচ্ছে। ফলে ক্যাম্পের ভেতরে অপরাধী চক্রগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং নানা ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এসব গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে অবৈধ অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে কাজ করা কয়েকটি আন্তর্জাতিক

ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা জানান, ক্যাম্পের ভেতরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে। রাত নামলেই অনেক এলাকায় সাধারণ রোহিঙ্গারা ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পান। বিভিন্ন ব্লকে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে চলাফেরা, গোপন বৈঠক এবং শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ছোট ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং বিস্ফোরকসামগ্রী চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো ক্যাম্পের ভেতরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, অপহরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শুধু রোহিঙ্গারাই নন, স্থানীয় লোকজনও এখন অপহরণের শিকার হচ্ছেন।

অনেককে জোর করে ক্যাম্পের ভেতরে অথবা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। মুক্তিপণ না পেলে শারীরিক নির্যাতন এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, অপহরণের পর তাদের চোখ বেঁধে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দিনের পর দিন আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। টাকা পরিশোধের পরই কেবল তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শুধু অপহরণ নয়, ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে মাদক পাচার, মানবপাচার, জাল মুদ্রা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবসাও বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপরাধ থেকে অর্জিত

অর্থই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও নতুন সদস্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন উগ্রপন্থি ও সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা ক্যাম্পের তরুণদের টার্গেট করে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। অর্থের লোভ, ভয়ভীতি কিংবা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের দলে টেনে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের ভেতরে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর সক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে তা শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের নিরাপত্তার জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক

করছেন, ক্যাম্পে অপরাধী ও উগ্রপন্থি নেটওয়ার্কের ঝুঁকি রয়েছে এবং তা কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার, ক্যাম্পে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান, অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ভাবি, দাও কই’ বলার পর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ চুরির অভিযোগে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা’র প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অপতথ্য প্রচার দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর কূটনৈতিক কর্মকর্তার কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম ন্যূনতম মজুরির জন্য শ্রমিক যখন মরছে, তখন ২০০ কোটি টাকা খরচে সরকারি কর্মচারীদের ফ্ল্যাট তৈরির ঘোষণা তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার সিলেট টেস্ট: ক্যারিবীয় পেসারদের তোপে দিনশেষে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি