ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?
গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি: ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও পরিবহন খাত
জাতিসংঘের ‘নিহত’দের তালিকায় নাম, ভিডিও বার্তায় জীবিত হাজির পাবনার রাফি
কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? যা বলছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল
মেট্রো স্টেশন থেকে উদ্ধার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাইপবোমার ছাতা খুললেই ঘটাত বিস্ফোরণ
‘পুর্ব শত্রুতার জেরে’ পুলিশের এসবি কর্মকর্তার ওপর হামলা, পিঠে ৪৩টি সেলাই
প্রশাসনকে দলীয়করণে অতীতের সকল রেকর্ড ভাঙ্গলো বিএনপি
সরকারি প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থায় দলীয়করণের ইতিহাস বাংলাদেশে নতুন নয়। কিন্তু বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এক নজিরবিহীন উদাহরণ স্থাপন করেছে। কোনো আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা খোলস ছাড়াই সরাসরি দলের সক্রিয় ও পদধারী ১২ জন শীর্ষ নেতাকে একযোগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও কর্পোরেশনের শীর্ষ নির্বাহী পদে (চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের সবাই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা।
নিয়োগপ্রাপ্ত নেতাদের তালিকা:
১. মো. সামসুল আলম (বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব) — অতিরিক্ত
সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ২. মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার (জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি) — মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন। ৩. মোহাম্মদ রাশেদুল হক (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক) — ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। ৪. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন। ৫. এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। ৬. মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল) (জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি) — নির্বাহী সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। ৭. আবদুল খালেক (বিএনপির রংপুর বিভাগীয়
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। ৮. শামসুজ্জামান (সুরূজ) (বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। ৯. কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু) (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক) — ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট। ১০. মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী (জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। ১১. বেনজীর আহমেদ (বেনজীর আহমেদ টিটো) (বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। ১২. মামুন হাসান (বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত আওয়ামী
লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ থাকলেও তারা সাধারণত সরাসরি রাজপথের পদধারী রাজনৈতিক নেতাদের কর্পোরেশন বা অধিদপ্তরের প্রধান পদে বসাত না। বর্তমান নিয়োগগুলো সেই সীমা অতিক্রম করে প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত মো. সামসুল আলম ২০১৮ সালের মার্চ মাসে স্বাভাবিক অবসরে যান। বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি পাননি বলে জানা যায়। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে আগারগাঁও থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘রাতের ভোট’ সংক্রান্ত গোপন ফলাফল ফাঁস করা। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি। অবসরের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৫ সালের ৩
আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সামসুল আলম। বর্তমানে তার বয়স ৬৭ বছর। বিশ্লেষকদের মতে, চাকরিজীবনে বঞ্চনার কারণে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি বা প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চুক্তিতে ফিরিয়ে এনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া নজিরবিহীন। উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত আবদুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় তিনি সরাসরি যুক্ত
থাকবেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না— তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বিএনপি সরকারের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে “প্রশাসনের পুরোপুরি দলীয়করণ” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন, এতে সরকারি সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ২. মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার (জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি) — মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন। ৩. মোহাম্মদ রাশেদুল হক (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক) — ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। ৪. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন। ৫. এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। ৬. মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল) (জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি) — নির্বাহী সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। ৭. আবদুল খালেক (বিএনপির রংপুর বিভাগীয়
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। ৮. শামসুজ্জামান (সুরূজ) (বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। ৯. কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু) (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক) — ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট। ১০. মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী (জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। ১১. বেনজীর আহমেদ (বেনজীর আহমেদ টিটো) (বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। ১২. মামুন হাসান (বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক) — চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত আওয়ামী
লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ থাকলেও তারা সাধারণত সরাসরি রাজপথের পদধারী রাজনৈতিক নেতাদের কর্পোরেশন বা অধিদপ্তরের প্রধান পদে বসাত না। বর্তমান নিয়োগগুলো সেই সীমা অতিক্রম করে প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত মো. সামসুল আলম ২০১৮ সালের মার্চ মাসে স্বাভাবিক অবসরে যান। বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি পাননি বলে জানা যায়। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে আগারগাঁও থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘রাতের ভোট’ সংক্রান্ত গোপন ফলাফল ফাঁস করা। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি। অবসরের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৫ সালের ৩
আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সামসুল আলম। বর্তমানে তার বয়স ৬৭ বছর। বিশ্লেষকদের মতে, চাকরিজীবনে বঞ্চনার কারণে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি বা প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চুক্তিতে ফিরিয়ে এনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া নজিরবিহীন। উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত আবদুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় তিনি সরাসরি যুক্ত
থাকবেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না— তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বিএনপি সরকারের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে “প্রশাসনের পুরোপুরি দলীয়করণ” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন, এতে সরকারি সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।



