ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রুমিন: জুলাই-আগষ্টে আমরা প্রতারিত হয়েছি, আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণ–আন্দোলন হবে না
প্রভাবশালীদের মাছের ঘের রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে দীর্ঘায়িত বন্যা
দেশে বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, তবু বিশ্বজুড়ে ২৫টি দেশে ১৩৪টি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার
৬ মাসে সড়কে ঝরল ৩৬০ শিক্ষার্থীর প্রাণ: তবুও কেন ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলন হয় না?
গত ৩ বছরের হিসাবে ২০২৬ এর প্রথম প্রান্তিকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে যথাক্রমে ৫৮.৪৭% ও ৭০.৩৪%
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার
ভিডিও কাঁপিয়েছিল দেশ, বছর পার হলেও শুরু হয়নি বিচার
ফাতাহ কমব্যাট ও আরও অনেকে: জঙ্গি অবমুক্তকরণ, ধর্মীয় লেবাসের প্রতি সহানুভূতি ও ইন্টেরিম সরকারের দায়মুক্তির বিষফল
গতকাল যশোরে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (এফসিএস)-এর আরও এক সদস্য তাহসীন ইসলামকে (১৯) আটক করেছে পুলিশ। আটক তাহসীন যশোরের ওহিদুল ইসলামের ছেলে। তার ঘর থেকে চাপাতি, তারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ডাকাতির মামলা রয়েছে এবং তিনি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সক্রিয় সদস্য।
এর আগে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ছয় জন তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (এফসিএস) নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে।
এই গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বড় প্রেক্ষাপট। পুলিশের অভিযোগ অনুসারে, ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম শরীরচর্চা ও মার্শাল আর্ট
প্রশিক্ষণের নামে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করছে, দ্বীনের দাওয়াতের আড়ালে সশস্ত্র ও কমব্যাট প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, কিশোর-তরুণদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে মিলিটারি ট্রেনিং দিয়ে ‘কাফেরদের’ মোকাবেলায় প্রস্তুত করছে এবং বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রকাশিত কর্মকাণ্ডেও এসবের আলামত দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা শাহ আমানত সাবিরসহ অন্যদের গ্রেফতারের পর ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন চালানোর অভিযোগও উঠেছে। যে ন্যারেটিভ জনপ্রিয় করার চেষ্টা ৫ই আগস্টের পর ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই আন্দোলনকারীদের একাংশ থেকে একটি মতবাদ খুব জোরেশোরে ছড়ানো হয়েছে — দেশে কোনো জঙ্গি নেই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নাকি জঙ্গি ধরার নাটক করে সহজ-সরল মাদ্রাসার
ছাত্র ও ইসলামী লেবাসধারী মুমিনদের গ্রেফতার করে জেলে পুরে রেখেছিল। এই বয়ান থেকেই নেত্রকোনায় ১০/১১ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষকের পক্ষে হাজার হাজার ইসলামী লেবাসপন্থী ও জনপ্রিয় সেলেব্রিটিরা সাফাই গেয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে ফাতাহ কমব্যাটের সদস্যদের গ্রেফতারের পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ প্রচার করছেন: “ইসলামী লেবাস পড়লে কি মার্শাল আর্ট শেখা যাবে না?” কিন্তু ধীরে ধীরে তথ্য বেরিয়ে আসছে। ফাতাহ কমব্যাটের সদস্যদের বিরুদ্ধে তালেবানি কায়দায় কার্যক্রম, হামাসের মতো বোমা তৈরি, ২০২৪-এর আগস্টের পর বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি, অটোরিকশা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন, তবে পুলিশের দাবি অনুসারে এগুলো শুধু মার্শাল আর্ট নয়। উগ্রবাদের শেকড় অনেক গভীরে আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও
গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তরুণদের অস্ত্র চালানো ও সামরিক ট্রেনিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রিয়ভাবে যেভাবে গত ২২ মাস ধরে উগ্রবাদী আর মোউলবাদীরা ক্ষমতায়িত আর সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তারই খুবই ক্ষদ্র একটা অংশ হচ্ছে এই “ফাতাহ কমব্যাট”, এবং অনেক অনেক গ্রুপ বিভিন্নভাবে অর্থপ্রাপ্ত, সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে গত ২২ মাসে তাদের শেকড় ও নেটওয়ার্ক রীতিমতো শক্ত করে ফেলেছে। এছাড়া গত দুই বছরে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া চিহ্নিত উগ্রবাদী-জঙ্গিরা আন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র সমন্বয়কদের সমর্থন-প্রশ্রয়ে কতটা নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে, তা সময়ই বলে দেবে। এখন যেমন ফাতাহ কমব্যাটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্মকাণ্ড, দাওয়াতি আড়ালে কমব্যাট ট্রেনিং, কিশোর-তরুণদের জিহাদি উদ্বুদ্ধকরণ
এবং বোমা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সামনে আসছে, তেমনি আরও অনেক গ্রুপ অগোচরে থাকতে পারে। ধার্মিকেরা উগ্রবাদী হচ্ছে নাকি উগ্রবাদীরা ধার্মিকের লেবাস ধারন করছে? উগ্রবাদ কোনো রাজনৈতিক বয়ানের শিকার হওয়া উচিত নয়। আগের সরকারকে অতিরঞ্জিতকরণের দায়ে দায়ী করাই যায়, কিন্তু সত্য হয়েছে বাংলাদেশে হোলি আর্টিসান হয়েছে, ৬৩ জেলায় ৫০০টি স্থানে একযোগে বোমা হামলা হয়ছে, রমনা বটোমূল বোমা হামলা হয়েছে, ২১শে আগস্ট হয়েছে, বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমান থেকে শুরু করে বান্দরবনের দুর্গম এলাকায় মাদ্রাসাপন্থী অনেককেই গোপনে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে, যার কিছু ধরা পড়েছে, কিছু জানাশোনার বাইরে রয়ে গেছে। বর্তমান বাস্তবতায় মার্শাল আর্টের নামে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ, বোমা তৈরি এবং জিহাদি উদ্বুদ্ধকরণকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা বাহিনীকে
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, আবার নিরপরাধ ইসলামী লেবাসধারী যুবকদের হয়রানি থেকেও বিরত থাকতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি চালিয়ে গেলে ফাতাহ কমব্যাটের মতো ঘটনা আরও বাড়বে — এটাই বাস্তবতা। সময়ই প্রমাণ করবে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত। জাতির স্বার্থে সতর্কতা ও নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র পথ।
প্রশিক্ষণের নামে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করছে, দ্বীনের দাওয়াতের আড়ালে সশস্ত্র ও কমব্যাট প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, কিশোর-তরুণদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে মিলিটারি ট্রেনিং দিয়ে ‘কাফেরদের’ মোকাবেলায় প্রস্তুত করছে এবং বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রকাশিত কর্মকাণ্ডেও এসবের আলামত দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা শাহ আমানত সাবিরসহ অন্যদের গ্রেফতারের পর ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন চালানোর অভিযোগও উঠেছে। যে ন্যারেটিভ জনপ্রিয় করার চেষ্টা ৫ই আগস্টের পর ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই আন্দোলনকারীদের একাংশ থেকে একটি মতবাদ খুব জোরেশোরে ছড়ানো হয়েছে — দেশে কোনো জঙ্গি নেই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নাকি জঙ্গি ধরার নাটক করে সহজ-সরল মাদ্রাসার
ছাত্র ও ইসলামী লেবাসধারী মুমিনদের গ্রেফতার করে জেলে পুরে রেখেছিল। এই বয়ান থেকেই নেত্রকোনায় ১০/১১ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষকের পক্ষে হাজার হাজার ইসলামী লেবাসপন্থী ও জনপ্রিয় সেলেব্রিটিরা সাফাই গেয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে ফাতাহ কমব্যাটের সদস্যদের গ্রেফতারের পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ প্রচার করছেন: “ইসলামী লেবাস পড়লে কি মার্শাল আর্ট শেখা যাবে না?” কিন্তু ধীরে ধীরে তথ্য বেরিয়ে আসছে। ফাতাহ কমব্যাটের সদস্যদের বিরুদ্ধে তালেবানি কায়দায় কার্যক্রম, হামাসের মতো বোমা তৈরি, ২০২৪-এর আগস্টের পর বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি, অটোরিকশা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন, তবে পুলিশের দাবি অনুসারে এগুলো শুধু মার্শাল আর্ট নয়। উগ্রবাদের শেকড় অনেক গভীরে আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও
গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তরুণদের অস্ত্র চালানো ও সামরিক ট্রেনিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রিয়ভাবে যেভাবে গত ২২ মাস ধরে উগ্রবাদী আর মোউলবাদীরা ক্ষমতায়িত আর সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তারই খুবই ক্ষদ্র একটা অংশ হচ্ছে এই “ফাতাহ কমব্যাট”, এবং অনেক অনেক গ্রুপ বিভিন্নভাবে অর্থপ্রাপ্ত, সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে গত ২২ মাসে তাদের শেকড় ও নেটওয়ার্ক রীতিমতো শক্ত করে ফেলেছে। এছাড়া গত দুই বছরে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া চিহ্নিত উগ্রবাদী-জঙ্গিরা আন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র সমন্বয়কদের সমর্থন-প্রশ্রয়ে কতটা নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে, তা সময়ই বলে দেবে। এখন যেমন ফাতাহ কমব্যাটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্মকাণ্ড, দাওয়াতি আড়ালে কমব্যাট ট্রেনিং, কিশোর-তরুণদের জিহাদি উদ্বুদ্ধকরণ
এবং বোমা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সামনে আসছে, তেমনি আরও অনেক গ্রুপ অগোচরে থাকতে পারে। ধার্মিকেরা উগ্রবাদী হচ্ছে নাকি উগ্রবাদীরা ধার্মিকের লেবাস ধারন করছে? উগ্রবাদ কোনো রাজনৈতিক বয়ানের শিকার হওয়া উচিত নয়। আগের সরকারকে অতিরঞ্জিতকরণের দায়ে দায়ী করাই যায়, কিন্তু সত্য হয়েছে বাংলাদেশে হোলি আর্টিসান হয়েছে, ৬৩ জেলায় ৫০০টি স্থানে একযোগে বোমা হামলা হয়ছে, রমনা বটোমূল বোমা হামলা হয়েছে, ২১শে আগস্ট হয়েছে, বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমান থেকে শুরু করে বান্দরবনের দুর্গম এলাকায় মাদ্রাসাপন্থী অনেককেই গোপনে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে, যার কিছু ধরা পড়েছে, কিছু জানাশোনার বাইরে রয়ে গেছে। বর্তমান বাস্তবতায় মার্শাল আর্টের নামে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ, বোমা তৈরি এবং জিহাদি উদ্বুদ্ধকরণকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা বাহিনীকে
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, আবার নিরপরাধ ইসলামী লেবাসধারী যুবকদের হয়রানি থেকেও বিরত থাকতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি চালিয়ে গেলে ফাতাহ কমব্যাটের মতো ঘটনা আরও বাড়বে — এটাই বাস্তবতা। সময়ই প্রমাণ করবে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত। জাতির স্বার্থে সতর্কতা ও নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র পথ।



