ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ফাতাহ কমব্যাট ও আরও অনেকে: জঙ্গি অবমুক্তকরণ, ধর্মীয় লেবাসের প্রতি সহানুভূতি ও ইন্টেরিম সরকারের দায়মুক্তির বিষফল
রুমিন: জুলাই-আগষ্টে আমরা প্রতারিত হয়েছি, আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণ–আন্দোলন হবে না
প্রভাবশালীদের মাছের ঘের রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে দীর্ঘায়িত বন্যা
দেশে বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, তবু বিশ্বজুড়ে ২৫টি দেশে ১৩৪টি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার
গত ৩ বছরের হিসাবে ২০২৬ এর প্রথম প্রান্তিকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে যথাক্রমে ৫৮.৪৭% ও ৭০.৩৪%
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার
ভিডিও কাঁপিয়েছিল দেশ, বছর পার হলেও শুরু হয়নি বিচার
৬ মাসে সড়কে ঝরল ৩৬০ শিক্ষার্থীর প্রাণ: তবুও কেন ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলন হয় না?
ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী নিহত হলে রাজপথ সরগরম হয়ে যেত। বিরোধীদল থেকে শুরু করে সরকারবিরোধী বিভিন্ন পক্ষ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলত। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের পদত্যাগের দাবি, একচেটিয়াভাবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দায়ী করে তাদের বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন বক্তব্যে গণমাধ্যমে ঝড় উঠত।
কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো দৃশ্য চোখে পড়ছে না বলে এই প্রতিবেদকের কাছে অভিমত ব্যক্ত করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
গতকাল ১১ই জুলাই, শনিবার চট্টগ্রামের মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন
শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর তুলে ধরা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০৯ জন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপদ সড়কের দাবিটি যৌক্তিক হলেও এটি অতীতে ব্যবহার করা হতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভের একটি পদ্ধতিগত আন্দোলন হিসেবে। যাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সরকারকে চাপে ফেলার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের কাছে এটি যৌক্তিক দাবির পক্ষে বিক্ষোভ হলেও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কাছে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের একটি শীর্ষ গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এই প্রতিবেদককে বলেন, শেখ হাসিনা
সরকারের সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েক দফা রাস্তায় নামানো হয়েছিল শিক্ষার্থীদের। উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলনকে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া। সেসময় আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও দেশের সুশীল সমাজ একে রাজনৈতিক বক্তব্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে, ২০২৪-এর নিষ্পাপ ‘কোটাবিরোধী আন্দোলন’ ক্রমে সরকার পতনের ১ দফায় গিয়ে ঠেকে যেভাবে, তাতে অতীতের নিরাপদ সড়ক, কোটা ও শিক্ষায় ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনের মতো ‘নিষ্পাপ’ আন্দোলনগুলো যে আসলে নিষ্পাপ ছিলো না, তা এখন স্পষ্ট, জানালেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ৫ই আগস্টের পর চাকরি হারানো এবং বর্তমানে ইউরোপের একটি দেশে আশ্রয়প্রার্থী চট্টগ্রামের সাংবাদিক শিহাবের (পূর্ণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনগুলোকে
গভীরভাবে অনুসরণ এবং কাভার করা এই সংবাদিক জানালেন তার অতীত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইন্ধনদাতা ইলিয়াস কাঞ্চন, যিনি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। গণপরিবহন চালক-শ্রমিকদের সরাসরি গণশত্রুতে পরিণত করা হয়েছিল শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খানকে টার্গেট করার জন্যই। আর এর পেছনে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি শীর্ষ দৈনিক উঠে-পড়ে লেগেছিল। ভুয়া শিক্ষার্থী সাজিয়ে আইডি কার্ড বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক গুজব প্রচার, অভিনেত্রী নওশাবা, ফটোগ্রাফার শহিদুলদের মতো ব্যক্তিদের দিয়ে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উস্কে দেওয়া, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে সরাসরি ছাত্রলীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলার কাজটির সাথে ২০২৪-এর সরকারবিরোধী
আন্দোলনের প্রারম্ভিক দৃশ্যগুলো হুবহু একইরকম। মোটা দাগে পার্থক্য হচ্ছে, সেসময় আগে ব্যর্থ হলেও ২০২৪-এ তারা সফল হতে পেরেছে, বলেন চাকরি হারানো এই অনুসন্ধানী সাংবাদিক। এই সাংবাদিকদের ভাষ্য, যারা আগে এসব আন্দোলনে ইন্ধন যোগাতো, উস্কানি দিতো, তারাই এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বলয়ে রয়েছে। তাই এখন আর কোনো আন্দোলন, বিক্ষোভ হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতি ও সুপারিশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী তার বিবৃতিতে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর সচেতনতা গড়ে তোলা গেলে যেমন নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সহজ হবে, তেমনি একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল জাতি গড়ে তোলাও সম্ভব হবে। তার ভাষ্য, মিরসরাই ট্র্যাজেডির মতো ভয়াবহ ঘটনার
পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজন থাকলেও বাস্তবে সেই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলেই প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সংগঠনটির দাবি, তাদের পরিসংখ্যান কেবল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৭ জন এবং আহত হন
১১ জন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৬ জন এবং আহত হন ২৫ জন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬০ জন এবং আহত হন ২৭ জন। বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী ২০১১ সালের ১১ই জুলাই সংঘটিত মিরসরাই ট্র্যাজেডির কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই দিন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন নিহত হন। তার দাবি, এটি দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। তিনি দাবি করেন, ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা গড়ে ওঠেনি এবং প্রতি বছরই সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। সংগঠনটির সুপারিশগুলো হলো— পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা। প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা। মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগ করে লাল পতাকার মাধ্যমে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর তুলে ধরা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০৯ জন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপদ সড়কের দাবিটি যৌক্তিক হলেও এটি অতীতে ব্যবহার করা হতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভের একটি পদ্ধতিগত আন্দোলন হিসেবে। যাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সরকারকে চাপে ফেলার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের কাছে এটি যৌক্তিক দাবির পক্ষে বিক্ষোভ হলেও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কাছে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের একটি শীর্ষ গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এই প্রতিবেদককে বলেন, শেখ হাসিনা
সরকারের সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েক দফা রাস্তায় নামানো হয়েছিল শিক্ষার্থীদের। উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলনকে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া। সেসময় আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও দেশের সুশীল সমাজ একে রাজনৈতিক বক্তব্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে, ২০২৪-এর নিষ্পাপ ‘কোটাবিরোধী আন্দোলন’ ক্রমে সরকার পতনের ১ দফায় গিয়ে ঠেকে যেভাবে, তাতে অতীতের নিরাপদ সড়ক, কোটা ও শিক্ষায় ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনের মতো ‘নিষ্পাপ’ আন্দোলনগুলো যে আসলে নিষ্পাপ ছিলো না, তা এখন স্পষ্ট, জানালেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ৫ই আগস্টের পর চাকরি হারানো এবং বর্তমানে ইউরোপের একটি দেশে আশ্রয়প্রার্থী চট্টগ্রামের সাংবাদিক শিহাবের (পূর্ণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনগুলোকে
গভীরভাবে অনুসরণ এবং কাভার করা এই সংবাদিক জানালেন তার অতীত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইন্ধনদাতা ইলিয়াস কাঞ্চন, যিনি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। গণপরিবহন চালক-শ্রমিকদের সরাসরি গণশত্রুতে পরিণত করা হয়েছিল শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খানকে টার্গেট করার জন্যই। আর এর পেছনে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি শীর্ষ দৈনিক উঠে-পড়ে লেগেছিল। ভুয়া শিক্ষার্থী সাজিয়ে আইডি কার্ড বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক গুজব প্রচার, অভিনেত্রী নওশাবা, ফটোগ্রাফার শহিদুলদের মতো ব্যক্তিদের দিয়ে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উস্কে দেওয়া, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে সরাসরি ছাত্রলীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলার কাজটির সাথে ২০২৪-এর সরকারবিরোধী
আন্দোলনের প্রারম্ভিক দৃশ্যগুলো হুবহু একইরকম। মোটা দাগে পার্থক্য হচ্ছে, সেসময় আগে ব্যর্থ হলেও ২০২৪-এ তারা সফল হতে পেরেছে, বলেন চাকরি হারানো এই অনুসন্ধানী সাংবাদিক। এই সাংবাদিকদের ভাষ্য, যারা আগে এসব আন্দোলনে ইন্ধন যোগাতো, উস্কানি দিতো, তারাই এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বলয়ে রয়েছে। তাই এখন আর কোনো আন্দোলন, বিক্ষোভ হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতি ও সুপারিশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী তার বিবৃতিতে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর সচেতনতা গড়ে তোলা গেলে যেমন নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সহজ হবে, তেমনি একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল জাতি গড়ে তোলাও সম্ভব হবে। তার ভাষ্য, মিরসরাই ট্র্যাজেডির মতো ভয়াবহ ঘটনার
পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজন থাকলেও বাস্তবে সেই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলেই প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সংগঠনটির দাবি, তাদের পরিসংখ্যান কেবল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৭ জন এবং আহত হন
১১ জন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৬ জন এবং আহত হন ২৫ জন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬০ জন এবং আহত হন ২৭ জন। বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী ২০১১ সালের ১১ই জুলাই সংঘটিত মিরসরাই ট্র্যাজেডির কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই দিন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন নিহত হন। তার দাবি, এটি দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। তিনি দাবি করেন, ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা গড়ে ওঠেনি এবং প্রতি বছরই সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। সংগঠনটির সুপারিশগুলো হলো— পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা। প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা। মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগ করে লাল পতাকার মাধ্যমে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।



