ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইরান আমাকে হত্যা করলে, নজিরবিহীন ‘বোমা হামলা’ হবে: ট্রাম্প
খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার আইআরজিসি প্রধানের
বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বন্দি প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান স্কটিশ পার্লামেন্টের
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ
নিজের জন্মস্থান মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
ভেনিজুয়েলা ভূমিকম্পে নিহত ৩৮৯৯, ক্ষতি ৬.৭ বিলিয়ন ডলার
মার্কিন হামলায় বুশেহরে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস স্থাপনায় আগুন
নাম বদল, নাকি নীতি বদল: ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান কি সত্যিই পাল্টে গেছে?
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে আসা দুটি ঘটনা একসাথে বিশ্লেষণ করলে একটি প্রশ্ন সামনে আসে—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ ও প্রভাবের ধরন কি বদলে যাচ্ছে? একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম কমব্যাটেন্ট কমান্ডের নাম বদলে গেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ বিভাগের প্রধান নিজে এক আঞ্চলিক সম্মেলনে দাঁড়িয়ে মিত্রদের সাথে সম্পর্কের ধরন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার কথা বলেছেন।
ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের নাম বদল
১৬ জুন, ২০২৬ তারিখে যুদ্ধ বিভাগ ঘোষণা দেয়, ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড (ইউএসইনডোপ্যাকম) তার নাম পরিবর্তন করে পুরনো নাম ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডে (ইউএসপ্যাকম) ফিরে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই কমান্ড
সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউএসপ্যাকম নামে পরিচিত ছিল, এবং এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম যৌথ কমব্যাটেন্ট কমান্ড। বিবৃতিতে এই নাম পুনরুদ্ধারকে কোরীয় যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলায় কমান্ডের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা—যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত—অপরিবর্তিত থাকছে, এবং এর মূল মিশন ও মুক্ত-উন্মুক্ত অঞ্চল বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র নিছক একটি ঐতিহ্যগত নাম পুনরুদ্ধার হিসেবেই তুলে ধরেছে—কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে নয়। সেক্রেটারি অব ওয়্যার হেগসেথের নতুন সুর তবে নাম
বদলের ঠিক আগে, ২৯ মে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংগ্রি-লা সংলাপে যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথের বক্তব্যে অন্তর্নিহিত সুরে একটা লক্ষণীয় পরিবর্তন ধরা পড়ে। তিনি জোট ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন এক পথরেখার কথা বলেন, যা “ক্ষমতা ও স্বার্থের বাস্তবতার” ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে বলে জানান। ধনী মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ভাগাভাগি না করে যুক্তরাষ্ট্রের একাই ভার বহন করার যুগ শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি, এবং বলেন যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রয়োজন “অংশীদার, রক্ষিত রাজ্য নয়”। হেগসেথ জানান, নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের আলোকে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে, যাতে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষায় অধিকতর স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।
একইসাথে তিনি চীনের সামরিক সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, অঞ্চলে কোনো একক আধিপত্যকারী শক্তি প্রতিষ্ঠিত হলে তা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নয়, বরং “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” প্রতিষ্ঠার নীতিতে অটল থাকবে, এবং যেসব মিত্র নিজেদের দায়িত্ব বহন করতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সাথে সম্পর্কের ধরনে স্পষ্ট পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় শক্তি হিসেবে অঞ্চলে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সম্মান জানাতে চীনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এবং এই অবস্থান বজায় রাখতে সামরিক শক্তি ধরে রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পূর্বের কৌশলের ধারাবাহিকতা, নাকি নতুন কোন কৌশল? দুটি ঘটনা একত্রে দেখলে একটা জটিল চিত্র
ফুটে ওঠে। নামের পুনরুদ্ধারকে যুদ্ধ বিভাগ স্পষ্টভাবে প্রতীকী ও ঐতিহ্যগত বলে বর্ণনা করেছে—কমান্ডের দায়িত্ব, এলাকা বা মিশনে কোনো পরিবর্তনের কথা তারা স্বীকার করেনি। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিক থেকে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। তবে হেগসেথের বক্তব্যে যে সুর প্রকাশ পেয়েছে, তা নীতিগত ধারাবাহিকতার চেয়ে বরং একটি লক্ষণীয় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়। “মিত্র, রক্ষিত রাষ্ট্র নয়” এবং “ধনী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ভর্তুকির যুগ শেষ” জাতীয় বক্তব্য বোঝায়, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে না, বরং তার সম্পৃক্ততার শর্ত পুনর্নির্ধারণ করছে—মিত্রদের ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে। এই অবস্থানকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব: একদল বিশ্লেষকের মতে, এটি প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত
প্রতিশ্রুতি হ্রাসের একটি সূক্ষ্ম রূপ—কেননা মিত্রদের ওপর শর্ত আরোপ ও নির্ভরতা কমানোর আহ্বান দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষত যেসব দেশ দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সক্ষম নয়। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং হেগসেথের বক্তব্য অনুসরণকারী অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এটি নীতিগত ধারাবাহিকতারই একটি নতুন সংস্করণ—যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল ছাড়ছে না, বরং চীনকে মোকাবিলায় “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” নীতি অক্ষুণ্ন রেখে মিত্রদের সক্ষমতা বাড়িয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার চেষ্টা করছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার বৃদ্ধি এই কৌশলেরই ইতিবাচক ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়,
ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক কৌশলগত স্বার্থ—চীনের আধিপত্য ঠেকানো, আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং একটি “মুক্ত ও উন্মুক্ত” অঞ্চল নিশ্চিত করা—অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে বলে যুদ্ধ বিভাগের বিবৃতি ও হেগসেথের বক্তব্য উভয়েই ইঙ্গিত দেয়। তবে এই স্বার্থ রক্ষার পদ্ধতি ও মিত্রদের সাথে সম্পর্কের কাঠামোতে স্পষ্ট একটি রূপান্তর ঘটছে—নির্ভরতাভিত্তিক সুরক্ষা থেকে শর্তসাপেক্ষ অংশীদারিত্বের দিকে। নামের পরিবর্তনকে যতটা না কৌশলগত রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো হেগসেথের ভাষায় প্রকাশিত এই শর্তসাপেক্ষ অংশীদারিত্বের মডেল, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত সম্পৃক্ততার মাত্রা কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে দিতে পারে।
সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউএসপ্যাকম নামে পরিচিত ছিল, এবং এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম যৌথ কমব্যাটেন্ট কমান্ড। বিবৃতিতে এই নাম পুনরুদ্ধারকে কোরীয় যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলায় কমান্ডের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা—যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত—অপরিবর্তিত থাকছে, এবং এর মূল মিশন ও মুক্ত-উন্মুক্ত অঞ্চল বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র নিছক একটি ঐতিহ্যগত নাম পুনরুদ্ধার হিসেবেই তুলে ধরেছে—কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে নয়। সেক্রেটারি অব ওয়্যার হেগসেথের নতুন সুর তবে নাম
বদলের ঠিক আগে, ২৯ মে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংগ্রি-লা সংলাপে যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথের বক্তব্যে অন্তর্নিহিত সুরে একটা লক্ষণীয় পরিবর্তন ধরা পড়ে। তিনি জোট ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন এক পথরেখার কথা বলেন, যা “ক্ষমতা ও স্বার্থের বাস্তবতার” ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে বলে জানান। ধনী মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ভাগাভাগি না করে যুক্তরাষ্ট্রের একাই ভার বহন করার যুগ শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি, এবং বলেন যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রয়োজন “অংশীদার, রক্ষিত রাজ্য নয়”। হেগসেথ জানান, নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের আলোকে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে, যাতে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষায় অধিকতর স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।
একইসাথে তিনি চীনের সামরিক সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, অঞ্চলে কোনো একক আধিপত্যকারী শক্তি প্রতিষ্ঠিত হলে তা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নয়, বরং “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” প্রতিষ্ঠার নীতিতে অটল থাকবে, এবং যেসব মিত্র নিজেদের দায়িত্ব বহন করতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সাথে সম্পর্কের ধরনে স্পষ্ট পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় শক্তি হিসেবে অঞ্চলে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সম্মান জানাতে চীনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এবং এই অবস্থান বজায় রাখতে সামরিক শক্তি ধরে রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পূর্বের কৌশলের ধারাবাহিকতা, নাকি নতুন কোন কৌশল? দুটি ঘটনা একত্রে দেখলে একটা জটিল চিত্র
ফুটে ওঠে। নামের পুনরুদ্ধারকে যুদ্ধ বিভাগ স্পষ্টভাবে প্রতীকী ও ঐতিহ্যগত বলে বর্ণনা করেছে—কমান্ডের দায়িত্ব, এলাকা বা মিশনে কোনো পরিবর্তনের কথা তারা স্বীকার করেনি। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিক থেকে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। তবে হেগসেথের বক্তব্যে যে সুর প্রকাশ পেয়েছে, তা নীতিগত ধারাবাহিকতার চেয়ে বরং একটি লক্ষণীয় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়। “মিত্র, রক্ষিত রাষ্ট্র নয়” এবং “ধনী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ভর্তুকির যুগ শেষ” জাতীয় বক্তব্য বোঝায়, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে না, বরং তার সম্পৃক্ততার শর্ত পুনর্নির্ধারণ করছে—মিত্রদের ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে। এই অবস্থানকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব: একদল বিশ্লেষকের মতে, এটি প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত
প্রতিশ্রুতি হ্রাসের একটি সূক্ষ্ম রূপ—কেননা মিত্রদের ওপর শর্ত আরোপ ও নির্ভরতা কমানোর আহ্বান দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষত যেসব দেশ দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সক্ষম নয়। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং হেগসেথের বক্তব্য অনুসরণকারী অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এটি নীতিগত ধারাবাহিকতারই একটি নতুন সংস্করণ—যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল ছাড়ছে না, বরং চীনকে মোকাবিলায় “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” নীতি অক্ষুণ্ন রেখে মিত্রদের সক্ষমতা বাড়িয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার চেষ্টা করছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার বৃদ্ধি এই কৌশলেরই ইতিবাচক ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়,
ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক কৌশলগত স্বার্থ—চীনের আধিপত্য ঠেকানো, আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং একটি “মুক্ত ও উন্মুক্ত” অঞ্চল নিশ্চিত করা—অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে বলে যুদ্ধ বিভাগের বিবৃতি ও হেগসেথের বক্তব্য উভয়েই ইঙ্গিত দেয়। তবে এই স্বার্থ রক্ষার পদ্ধতি ও মিত্রদের সাথে সম্পর্কের কাঠামোতে স্পষ্ট একটি রূপান্তর ঘটছে—নির্ভরতাভিত্তিক সুরক্ষা থেকে শর্তসাপেক্ষ অংশীদারিত্বের দিকে। নামের পরিবর্তনকে যতটা না কৌশলগত রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো হেগসেথের ভাষায় প্রকাশিত এই শর্তসাপেক্ষ অংশীদারিত্বের মডেল, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত সম্পৃক্ততার মাত্রা কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে দিতে পারে।



