ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার
ভিডিও কাঁপিয়েছিল দেশ, বছর পার হলেও শুরু হয়নি বিচার
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় হুমকিতে ২০২৭ সালের তেলের বাজার
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাতিয়ার ৮০ গ্রাম, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ
“মৃত্যু হলে দেশের মাটিতেই হোক”: জেল-জুলুমের ঝুঁকি জেনেই শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা
এডিবির প্রতিবেদনে উদ্বেগ: মার্কিন ট্যারিফের ফাঁদে পড়ে চরম বিপর্যয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত
সেনাবাহিনী ও পুলিশের স্কটে ফিরছেন সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটক
গত ৩ বছরের হিসাবে ২০২৬ এর প্রথম প্রান্তিকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে যথাক্রমে ৫৮.৪৭% ও ৭০.৩৪%
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশে নতুন বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (ফ্রেশ ইক্যুইটি এফডিআই) ২০২৫-এর একই সময়ের তুলনায় ৭০.৩৪ শতাংশ ও ২০২৪-এর একই সময়ের তুলনায় ৫৮.৪৭% কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৮.২৬ মিলিয়ন ডলারে—গত চার প্রান্তিকের মধ্যে সর্বনিম্ন। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ঝুঁকিকেই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা, যদিও ২০২৪ সালেও প্রথম প্রান্তিকেই দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তিন বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনা
সূচক জানু-মার্চ ২০২৪ জানু-মার্চ ২০২৫ জানু-মার্চ ২০২৬
ফ্রেশ ইক্যুইটি বিনিয়োগ ১৮৮.৪৩ মিলিয়ন ডলার ২৬৩.৮৭ মিলিয়ন ডলার ৭৮.২৬ মিলিয়ন ডলার
মোট নিট এফডিআই (ইক্যুইটি+পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা+আন্তঃকোম্পানি ঋণ) ৪০৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার ৭৯৬.৫৭ মিলিয়ন ডলার ৪৪৭.৩১ মিলিয়ন ডলার
এই সারণি থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের
প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশে ফ্রেশ ইক্যুইটি ও মোট এফডিআই—দুটোই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। বিশ্লেষকরা তখন এটাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার লক্ষণ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের একই প্রান্তিকে এসে সেই ধারা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে—ফ্রেশ ইক্যুইটি বিনিয়োগ ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের চেয়েও ৫৮ শতাংশের বেশি কমে গেছে, এবং ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। মোট নিট এফডিআইয়ের চিত্রেও একই প্রবণতা স্পষ্ট: ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার পর ২০২৬ সালে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফাই ভরসা তবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪২.৯২ মিলিয়ন ডলারে,
যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯১.২২ মিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে ফ্রেশ ইক্যুইটির ওপর, পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফার হিসাবি সমন্বয়ের ওপর নয়—ফলে সামগ্রিক এফডিআই মজুদ ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ১৮.৯৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ ২১.৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, তা প্রকৃত বিনিয়োগ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। কেন এই পতন? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ইক্যুইটি বিনিয়োগের এই পতন একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত, যা বোঝায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন উদ্যোগ শুরু করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর একের পর এক সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং অবনমনকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে
চিহ্নিত করেন এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান হারকেও এর জন্য দায়ী করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে চট্টগ্রামের বে টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের উপযোগী করতে আরও পাঁচ থেকে সাত বছরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বয়ংক্রিয় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না হওয়া এবং ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের মতো কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোই বিনিয়োগে প্রধান বাধা। তার মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চেয়ে অবকাঠামোর মান ও নীতি কাঠামোর স্থিতিশীলতাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং দীর্ঘদিনের
প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা না সরালে এফডিআই দুর্বলই থেকে যাবে বলে তিনি পূর্বাভাস দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, দেশীয় বেসরকারি খাতেও বিনিয়োগে একই ধরনের শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় স্থানীয় উদ্যোক্তারাও একই রকম সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে বাংলাদেশ আঙ্কটাডের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬ অনুযায়ী, অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জিডিপি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণে বাংলাদেশ ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো তুলনামূলক ছোট আফ্রিকান দেশগুলোর চেয়েও পিছিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশ ব্যাপক আইনি সংস্কারের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়েছে—যেমন ঘানা কর ব্যবস্থা সংস্কার ও মুদ্রাস্ফীতি ২১ শতাংশ
থেকে ৩.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, আর উগান্ডা তাদের বিনিয়োগ প্রশাসনকে একক জানালা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে।
প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশে ফ্রেশ ইক্যুইটি ও মোট এফডিআই—দুটোই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। বিশ্লেষকরা তখন এটাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার লক্ষণ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের একই প্রান্তিকে এসে সেই ধারা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে—ফ্রেশ ইক্যুইটি বিনিয়োগ ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের চেয়েও ৫৮ শতাংশের বেশি কমে গেছে, এবং ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। মোট নিট এফডিআইয়ের চিত্রেও একই প্রবণতা স্পষ্ট: ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার পর ২০২৬ সালে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফাই ভরসা তবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪২.৯২ মিলিয়ন ডলারে,
যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯১.২২ মিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে ফ্রেশ ইক্যুইটির ওপর, পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফার হিসাবি সমন্বয়ের ওপর নয়—ফলে সামগ্রিক এফডিআই মজুদ ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ১৮.৯৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ ২১.৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, তা প্রকৃত বিনিয়োগ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। কেন এই পতন? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ইক্যুইটি বিনিয়োগের এই পতন একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত, যা বোঝায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন উদ্যোগ শুরু করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর একের পর এক সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং অবনমনকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে
চিহ্নিত করেন এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান হারকেও এর জন্য দায়ী করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে চট্টগ্রামের বে টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের উপযোগী করতে আরও পাঁচ থেকে সাত বছরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বয়ংক্রিয় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না হওয়া এবং ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের মতো কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোই বিনিয়োগে প্রধান বাধা। তার মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চেয়ে অবকাঠামোর মান ও নীতি কাঠামোর স্থিতিশীলতাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং দীর্ঘদিনের
প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা না সরালে এফডিআই দুর্বলই থেকে যাবে বলে তিনি পূর্বাভাস দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, দেশীয় বেসরকারি খাতেও বিনিয়োগে একই ধরনের শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় স্থানীয় উদ্যোক্তারাও একই রকম সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে বাংলাদেশ আঙ্কটাডের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬ অনুযায়ী, অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জিডিপি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণে বাংলাদেশ ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো তুলনামূলক ছোট আফ্রিকান দেশগুলোর চেয়েও পিছিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশ ব্যাপক আইনি সংস্কারের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়েছে—যেমন ঘানা কর ব্যবস্থা সংস্কার ও মুদ্রাস্ফীতি ২১ শতাংশ
থেকে ৩.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, আর উগান্ডা তাদের বিনিয়োগ প্রশাসনকে একক জানালা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে।



