ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এডিবির প্রতিবেদনে উদ্বেগ: মার্কিন ট্যারিফের ফাঁদে পড়ে চরম বিপর্যয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত
সেনাবাহিনী ও পুলিশের স্কটে ফিরছেন সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটক
টেকনাফে রোহিঙ্গা ১০০ পরিবারকে নেয়া হলো নিরাপদ স্থানে
কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা
ঝরল ৩২টি প্রাণ: পাহাড়ধস ও ভাঙা বেড়িবাঁধে বাঁশখালীর এক লাখ মানুষের নির্ঘুম রাত
২৯৭ জনের প্রকল্পে কাজ করেন ৫০ জন, বাকিরা ভুয়া! সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক হরিলুট
দুর্নীতি ও ব্যর্থতায় জর্জরিত পাকিস্তানি সিটি প্রকল্পকে অনুসরণের পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
“মৃত্যু হলে দেশের মাটিতেই হোক”: জেল-জুলুমের ঝুঁকি জেনেই শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা
ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। রয়টার্সকে দেওয়া এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু কন্যা জানালেন, ভারতে নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়েই তিনি দেশে ফিরতে চান।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর দলের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কীভাবে আচরণ করে, সেটিও দেখা যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে দেশে ফিরেই গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মীরা ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুই আসে, তবে
আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতে আসুক—যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” নির্বাসন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা ২০২৪ সালে সরকারবিরোধী দাঙ্গার মুখে দেশত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাধিক মেয়াদে তিনি প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত নভেম্বরে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয় ক্ষমতা নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। আবার ভারত আশ্রয় দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানালেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা
করেননি। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ফেরত চেয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। বারবার ভারতকে চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই ফিরব।” দেশত্যাগের পর এই প্রথম কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি শুধু লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা, আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা এবং নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও একই পথ অনুসরণ করবেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনায় রয়েছেন। তবে রয়টার্স অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বা তাঁরা কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে শেখ হাসিনার
বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গত এপ্রিলে তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন তারা পর্যালোচনা করছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন থেকে দীর্ঘ ক্ষমতায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ১৯৭৫ সালে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা দেশের রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার কৃতিত্বও দেখান। তবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী মত দমন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ
ওঠে। যদিও শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে অভিযানের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে, তাতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারেন। যদিও প্রতিবেদনটির বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে; আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটির ছত্রে ছত্রে অসঙ্গতি ও ভুল তথ্য প্রদানের বিষয় নিয়ে পাল্টা বিবৃতি ও নথিপত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়েছে। দিল্লিতে নিজের অবস্থান থেকে রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানানন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে আছেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও ফিরে এসো। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ
করব।” তবে তিনি কবে ফিরবেন, কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য দেননি। তিনি বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষই বুঝতে পারবে আদালতের কার্যক্রম কতটা প্রহসনমূলক। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।” ‘বিচার জনগণই করবে’ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে তথ্য এসেছে। কারাগারে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। তিনি জানান, অতীতেও তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাঁকে বারবার আটক করা হয়। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির কথিত অভিযোগে তিনি
কারাবন্দী হন। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থনে বিজয়ী হন। ২০২৪ সালে দেশত্যাগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানালেন, তাঁর বাসভবনের দিকে উন্মত্ত লোকজন এগিয়ে আসছিল এবং তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের ভুল হতে পারে—এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ, ঠিক-ভুলের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।” শেখ হাসিনার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে না-ও পারার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, হয়তো আমি নির্বাচন করতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কেন স্থগিত থাকবে? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, সেই বিচার জনগণই করুক।”
আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতে আসুক—যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” নির্বাসন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা ২০২৪ সালে সরকারবিরোধী দাঙ্গার মুখে দেশত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাধিক মেয়াদে তিনি প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত নভেম্বরে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয় ক্ষমতা নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। আবার ভারত আশ্রয় দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানালেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা
করেননি। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ফেরত চেয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। বারবার ভারতকে চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই ফিরব।” দেশত্যাগের পর এই প্রথম কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি শুধু লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা, আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা এবং নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও একই পথ অনুসরণ করবেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনায় রয়েছেন। তবে রয়টার্স অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বা তাঁরা কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে শেখ হাসিনার
বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গত এপ্রিলে তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন তারা পর্যালোচনা করছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন থেকে দীর্ঘ ক্ষমতায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ১৯৭৫ সালে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা দেশের রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার কৃতিত্বও দেখান। তবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী মত দমন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ
ওঠে। যদিও শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে অভিযানের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে, তাতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারেন। যদিও প্রতিবেদনটির বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে; আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটির ছত্রে ছত্রে অসঙ্গতি ও ভুল তথ্য প্রদানের বিষয় নিয়ে পাল্টা বিবৃতি ও নথিপত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়েছে। দিল্লিতে নিজের অবস্থান থেকে রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানানন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে আছেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও ফিরে এসো। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ
করব।” তবে তিনি কবে ফিরবেন, কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য দেননি। তিনি বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষই বুঝতে পারবে আদালতের কার্যক্রম কতটা প্রহসনমূলক। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।” ‘বিচার জনগণই করবে’ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে তথ্য এসেছে। কারাগারে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। তিনি জানান, অতীতেও তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাঁকে বারবার আটক করা হয়। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির কথিত অভিযোগে তিনি
কারাবন্দী হন। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থনে বিজয়ী হন। ২০২৪ সালে দেশত্যাগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানালেন, তাঁর বাসভবনের দিকে উন্মত্ত লোকজন এগিয়ে আসছিল এবং তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের ভুল হতে পারে—এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ, ঠিক-ভুলের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।” শেখ হাসিনার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে না-ও পারার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, হয়তো আমি নির্বাচন করতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কেন স্থগিত থাকবে? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, সেই বিচার জনগণই করুক।”



