ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যু,নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের
জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিয়ে হঠাৎই জ্বলে উঠলেন আনু মুহাম্মদ
জুলাই নিয়ে মন্তব্য করায় আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
৩০০ দরিদ্রের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ৮ কোটি, দেশি-বিদেশি ৪৭৩ পরামর্শকের ব্যয় ৫৩ কোটি!
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন
নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট কবে?
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের
মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা থেকে জামায়াত-মুসলিম লীগ-নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার
মুক্তিযুদ্ধের সরকারি সংজ্ঞা থেকে এই যুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের কড়া আপত্তির মুখে সে প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের এখতিয়ারপ্রাপ্ত সংস্থা জামুকাকে না জানিয়েই পাঠ্যপুস্তকে মুদ্রিত সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরে এই পরিবর্তনের অনুমোদন নিতে জামুকার এক সভায় প্রস্তাব তোলেন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফারুক-ই-আজম। কিন্তু প্রস্তাবটি উত্থাপিত হতেই সভায় উপস্থিত সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান এবং একে ইতিহাসের বিকৃতি বলে অভিহিত করেন।
জামুকার ৯৬তম সভায় কী হয়েছিল
জামুকার
তৎকালীন সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেন, উপদেষ্টা পরিষদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে বিব্রত হয়েছিলেন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, কারণ জামুকা সদস্যদের কঠোর বিরোধিতার মুখে তিনি তা করতে পারেননি। গত বছরের ১০ মে অনুষ্ঠিত জামুকার ৯৬তম সভায় সভাপতিত্ব করেন তখনকার উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। সভায় উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীরউত্তম, ক্যাপ্টেন (অব.) এম নুরুল হুদা, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম, খ. ম. আমীর আলীসহ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব ইসরাত চৌধুরী ও জামুকা মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন। সভায় ফারুক-ই-আজম জানান, ৬ মে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয়
মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ সংশোধনের প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ তোলা হলে পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় আনা সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট উপধারা থেকে মুজাহিদ বাহিনী, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সদস্যদের তীব্র আপত্তি এই প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ামাত্র জামুকা সদস্যরা একযোগে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীরউত্তম মন্তব্য করেন, মুক্তিযোদ্ধারা মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, আলবদর ও আলশামসের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছেন—এটাই প্রতিষ্ঠিত সত্য। সদস্য মেজর (অব.) কাইয়ুম খান প্রশ্ন তোলেন, জামুকাকে অবহিত না করে পাঠ্যপুস্তকে কীভাবে সংজ্ঞা বদলানো হলো এবং স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের এখতিয়ার একমাত্র জামুকার।
আরেক সদস্য মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর-আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও দালাল শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে লড়েছেন, এই ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগ নেই। সদস্য হাবিবুল আলম মনে করিয়ে দেন, বিদ্যমান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮—উভয় আইনেই মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখ রয়েছে, যা প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া সমীচীন হবে না। সমঝোতা: নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ সদস্যদের ব্যাপক আপত্তির মুখে মূল প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এরপর ফারুক-ই-আজম বিকল্প হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যুক্ত করার
প্রস্তাব দেন, যাতে সভায় উপস্থিত সদস্যরা সম্মত হন। এই সমঝোতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হয় ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া, যা পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নামে বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়। পুরোনো ও নতুন সংজ্ঞায় পার্থক্য জুলাই অভ্যুত্থান-পূর্ব আইনে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুজাহিদ বাহিনী ও পিস কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধকে বোঝানো হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত নতুন সংজ্ঞা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বাদ দিয়ে এর পরিবর্তে
স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত যুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাব করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপিত হয়। এগুলো যাচাইয়ের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি এর মধ্য থেকে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে তোলার সুপারিশ করে।
তৎকালীন সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেন, উপদেষ্টা পরিষদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে বিব্রত হয়েছিলেন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, কারণ জামুকা সদস্যদের কঠোর বিরোধিতার মুখে তিনি তা করতে পারেননি। গত বছরের ১০ মে অনুষ্ঠিত জামুকার ৯৬তম সভায় সভাপতিত্ব করেন তখনকার উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। সভায় উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীরউত্তম, ক্যাপ্টেন (অব.) এম নুরুল হুদা, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম, খ. ম. আমীর আলীসহ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব ইসরাত চৌধুরী ও জামুকা মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন। সভায় ফারুক-ই-আজম জানান, ৬ মে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয়
মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ সংশোধনের প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ তোলা হলে পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় আনা সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট উপধারা থেকে মুজাহিদ বাহিনী, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সদস্যদের তীব্র আপত্তি এই প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ামাত্র জামুকা সদস্যরা একযোগে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীরউত্তম মন্তব্য করেন, মুক্তিযোদ্ধারা মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, আলবদর ও আলশামসের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছেন—এটাই প্রতিষ্ঠিত সত্য। সদস্য মেজর (অব.) কাইয়ুম খান প্রশ্ন তোলেন, জামুকাকে অবহিত না করে পাঠ্যপুস্তকে কীভাবে সংজ্ঞা বদলানো হলো এবং স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের এখতিয়ার একমাত্র জামুকার।
আরেক সদস্য মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর-আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও দালাল শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে লড়েছেন, এই ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগ নেই। সদস্য হাবিবুল আলম মনে করিয়ে দেন, বিদ্যমান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮—উভয় আইনেই মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখ রয়েছে, যা প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া সমীচীন হবে না। সমঝোতা: নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ সদস্যদের ব্যাপক আপত্তির মুখে মূল প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এরপর ফারুক-ই-আজম বিকল্প হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যুক্ত করার
প্রস্তাব দেন, যাতে সভায় উপস্থিত সদস্যরা সম্মত হন। এই সমঝোতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হয় ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া, যা পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নামে বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়। পুরোনো ও নতুন সংজ্ঞায় পার্থক্য জুলাই অভ্যুত্থান-পূর্ব আইনে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুজাহিদ বাহিনী ও পিস কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধকে বোঝানো হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত নতুন সংজ্ঞা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বাদ দিয়ে এর পরিবর্তে
স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত যুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাব করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপিত হয়। এগুলো যাচাইয়ের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি এর মধ্য থেকে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে তোলার সুপারিশ করে।



