ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের
সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি
জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও
তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয়
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল
‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য
সংকট মোকাবেলায় বিপর্যস্ত সরকার: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তবতার টানাপোড়েনে প্রথম বাজেট
দেশের মানুষ এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে হাঁসফাঁস করছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো স্থায়ী ইঙ্গিত নেই। বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং টানা রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট শুধু অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ নয়, এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, জনআকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক চাপেরও পরীক্ষা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ব্যয়সীমা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রাক্কলন বলছে, সরকার এবার এমন এক বাজেটের পথে হাঁটছে যেখানে একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য বড় ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকছে, অন্যদিকে সেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও থাকছে সতর্ক অবস্থান। অর্থাৎ সরকার একই সঙ্গে দুই বিপরীত বাস্তবতা সামাল দিতে চাইছে—নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং
আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও সংস্কারের চাপ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে এখন পুরোপুরি কৃচ্ছ্রসাধনের বাজেট দেওয়ার অবস্থায় নেই সরকার। কারণ নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে ছিল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানো, কৃষকদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও দৃশ্যমান করা। ফলে জনগণকে স্বস্তি না দিয়ে শুধু হিসাবের খাতা ঠিক রাখলে রাজনৈতিকভাবে তার মূল্যও দিতে হতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার মতো খাতে ব্যয় পুরোপুরি কমানো হচ্ছে না। বরং মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এসব খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলছে। অর্থাৎ সরকার বুঝতে পারছে, এই মুহূর্তে কঠোর আর্থিক সংস্কারের চেয়ে জনঅসন্তোষ
নিয়ন্ত্রণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত “বিশ্বাস পুনর্গঠন”। তাঁর ভাষায়, জনগণকে দেখাতে হবে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, ব্যবসায়ীদের বোঝাতে হবে বিনিয়োগ নিরাপদ, আর উন্নয়ন সহযোগীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে আর্থিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে না। জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবে সরকার। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটিকে উচ্চাভিলাষী বলছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। কারণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, অথচ গত কয়েক বছর ধরেই সরকার ধারাবাহিকভাবে
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাতও এখনো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম কম। এখানেই বড় প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা। সরকার কি বাস্তব সক্ষমতার চেয়ে বেশি আশাবাদী হিসাব করছে? নাকি রাজনৈতিক প্রয়োজনেই বড় বাজেটের বার্তা দিতে চাইছে? অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান সহায়তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করার কর্মসূচিগুলো এবার অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে নতুন প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তবায়নের সক্ষমতা কতটুকু? বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় বড় প্রকল্প ও উচ্চাভিলাষী ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন ঘাটতিই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে অতীতে। ফলে শুধু বাজেটের আকার বড় হলেই অর্থনীতি
ঘুরে দাঁড়াবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সরকার আবারও বিদেশি ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর বড়ভাবে নির্ভর করছে। এখানেও রয়েছে ঝুঁকি। কারণ বৈদেশিক ঋণ পেতে এখন সংস্কার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে বিনিয়োগ আরও কমে যেতে পারে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী মনে করেন, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
হচ্ছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখে প্রবৃদ্ধির পথে ফেরানো। তাঁর মতে, রাজস্ব সক্ষমতা না বাড়িয়ে বড় ব্যয় কাঠামো ধরে রাখলে ভবিষ্যতে ঋণনির্ভরতা আরও বাড়বে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলও এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখনো জ্বালানি সংকট, ডলার-সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময় আসছে, যখন অর্থনীতি শুধু সংখ্যার সংকটে নেই; আস্থার সংকটেও ভুগছে। তাই এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—সরকার জনগণ, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অংশীদার—সব পক্ষকে একসঙ্গে কতটা বিশ্বাস করাতে পারে যে অর্থনীতি আবার
স্থিতিশীল পথে ফিরবে।
আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও সংস্কারের চাপ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে এখন পুরোপুরি কৃচ্ছ্রসাধনের বাজেট দেওয়ার অবস্থায় নেই সরকার। কারণ নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে ছিল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানো, কৃষকদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও দৃশ্যমান করা। ফলে জনগণকে স্বস্তি না দিয়ে শুধু হিসাবের খাতা ঠিক রাখলে রাজনৈতিকভাবে তার মূল্যও দিতে হতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার মতো খাতে ব্যয় পুরোপুরি কমানো হচ্ছে না। বরং মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এসব খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলছে। অর্থাৎ সরকার বুঝতে পারছে, এই মুহূর্তে কঠোর আর্থিক সংস্কারের চেয়ে জনঅসন্তোষ
নিয়ন্ত্রণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত “বিশ্বাস পুনর্গঠন”। তাঁর ভাষায়, জনগণকে দেখাতে হবে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, ব্যবসায়ীদের বোঝাতে হবে বিনিয়োগ নিরাপদ, আর উন্নয়ন সহযোগীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে আর্থিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে না। জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবে সরকার। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটিকে উচ্চাভিলাষী বলছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। কারণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, অথচ গত কয়েক বছর ধরেই সরকার ধারাবাহিকভাবে
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাতও এখনো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম কম। এখানেই বড় প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা। সরকার কি বাস্তব সক্ষমতার চেয়ে বেশি আশাবাদী হিসাব করছে? নাকি রাজনৈতিক প্রয়োজনেই বড় বাজেটের বার্তা দিতে চাইছে? অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান সহায়তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করার কর্মসূচিগুলো এবার অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে নতুন প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তবায়নের সক্ষমতা কতটুকু? বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় বড় প্রকল্প ও উচ্চাভিলাষী ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন ঘাটতিই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে অতীতে। ফলে শুধু বাজেটের আকার বড় হলেই অর্থনীতি
ঘুরে দাঁড়াবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সরকার আবারও বিদেশি ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর বড়ভাবে নির্ভর করছে। এখানেও রয়েছে ঝুঁকি। কারণ বৈদেশিক ঋণ পেতে এখন সংস্কার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে বিনিয়োগ আরও কমে যেতে পারে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী মনে করেন, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
হচ্ছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখে প্রবৃদ্ধির পথে ফেরানো। তাঁর মতে, রাজস্ব সক্ষমতা না বাড়িয়ে বড় ব্যয় কাঠামো ধরে রাখলে ভবিষ্যতে ঋণনির্ভরতা আরও বাড়বে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলও এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখনো জ্বালানি সংকট, ডলার-সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময় আসছে, যখন অর্থনীতি শুধু সংখ্যার সংকটে নেই; আস্থার সংকটেও ভুগছে। তাই এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—সরকার জনগণ, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অংশীদার—সব পক্ষকে একসঙ্গে কতটা বিশ্বাস করাতে পারে যে অর্থনীতি আবার
স্থিতিশীল পথে ফিরবে।



