ইতিহাস থেকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ: দেশবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধু – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬

ইতিহাস থেকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ: দেশবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬ |
বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি কয়েক প্রজন্মের রাজনৈতিক বিবর্তনের ফসল। ১৮শ শতাব্দী থেকে শুরু করে ১৯৭১ পর্যন্ত বহু নেতা বাঙালির অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। তবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে পূর্ণতা দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অনন্য ও কালজয়ী চরিত্রে আবির্ভূত হন। বাঙালির আধুনিক রাজনীতির ভিত্তি গড়েছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। ১৯২৩ সালে তাঁর প্রবর্তিত ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ ছিল অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রথম মাইলফলক। তৎকালীন সময়ে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের জন্য চাকরিতে ৫৫ শতাংশ কোটা এবং ধর্মীয় সহনশীলতার যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন, তা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি করে।

১৯২৫ সালে তাঁর অকাল প্রয়াণে এই প্রক্রিয়া থমকে গেলেও, তিনি বাঙালির মনে অধিকার সচেতনতার বীজ বুনে দিয়েছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক বা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সহ যারা এই চেষ্টা করেছেন—তাঁরা মূলত ব্রিটিশ বা পাকিস্তান কাঠামোর অধীনে থেকে ‘স্বায়ত্তশাসন’ বা বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াই করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন দাশ হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর ভিত্তি ছিল অনেকটা ধর্মীয় সমঝোতা। ১৯২৩ সালে মতিলাল নেহরুর সাথে মিলে তিনি স্বরাজ্য দল গঠন করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বেঙ্গল কাউন্সিলে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি বেঙ্গল ফ্যাক্ট চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেন। তৎকালীন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে (আইনসভা) সংখ্যাগুরু হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা রাজনৈতিক ও

প্রশাসনিকভাবে পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে, হিন্দুরা শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে থাকায় অধিকাংশ সরকারি পদ দখল করে রেখেছিল। এই অসমতা দূর করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই চিত্তরঞ্জন দাশ এই ফর্মুলা তৈরি করেন। এই চুক্তিতে ধর্মীয় সংখ্যানুপাতে আইনসভার আসনের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ মুসলমানদের জন্য এবং ৪৫ শতাংশ হিন্দুদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না। যেমন—মসজিদের সামনে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা গো-কোরবানি সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানানো হবে।জ ভিডিও সংবাদ ১৯২৩ সালের শেষের দিকে কাকিনাডা কংগ্রেস অধিবেশনে এই চুক্তিটি সর্বভারতীয় পর্যায়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়। ১৯২৫ সালে দেশবন্ধু মারা গেলে এই

প্রক্রিয়া আর আগায়নি। তবে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি অনেকটাই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এর পরে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাষানী যে নামেই হোক বাঙ্গালীর স্বরাজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু তাদের সবার চেষ্টাতে কিছু না কিছু একটা দূর্বলতা ছিলই। যেমন ধরেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অগ্নিকন্যা ও আপসহীন দেশপ্রেমের প্রতীক। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে তিনি নেতাহিসেবে গ্রহন করেছিলেন। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন যে কেবল অহিংসা বা আলোচনার মাধ্যমে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সশস্ত্র আঘাত। তবে এর সঙ্গে আলোচনা ও নমনীয়তার যে মিশেল দরকার ছিল তা তাঁর মধ্যে ছিল

না। শেরে বাংলা, ভাষানী মোটাদাগে মুসলিম জাতীয়তাবাদী ভাবনা নিয়েই এগিয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতর থেকে ভেবেছেন। তবে যাদের কথা বললাম তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই। বাঙ্গালীর স্বরাজ। সে লক্ষ্যের যে রাজনীতি এক পর্যায়ে তার হাল ধরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ববর্তী সকল বাঙালি নেতার চেয়ে এক জায়গায় মৌলিকভাবে আলাদা ছিলেন—তিনি কেবল একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘রাষ্ট্রনায়ক’ যিনি একটি জাতিকে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। চূড়ান্ত সফলতা লাভ করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪০-এর দশকের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে ধাপে ধাপে (বিশেষ করে ১৯৬৬-এর ৬ দফার মাধ্যমে) পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার দাবিতে রূপান্তর করেন। তিনি বুঝেছিলেন পাকিস্তানের

কাঠামোতে বাঙালির মুক্তি সম্ভব নয়। শেরে বাংলা বা সোহরাওয়ার্দীর রাজনীতি ছিল অনেকটা উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত কেন্দ্রিক এবং ড্রয়িংরুম ভিত্তিক। শেখ মুজিব রাজনীতিকে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ কৃষক ও শ্রমিকের দোরগোড়ায়। তিনি সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতেন, যার ফলে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি এলিট শ্রেণির বদলে ‘তৃণমূল’ শক্তিকে সংগঠিত করেছিলেন। স্বশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন। বঙ্গবন্ধু -দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কেবল গ্রহণই করেননি, বরং তাকে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তিনি দেশবন্ধুর কাছ থেকে শিখেছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব এবং নেতাজির কাছ থেকে নিয়েছিলেন সশস্ত্র সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। এই দুই নেতার আদর্শের সংমিশ্রণেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ জন্ম নেয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আমলের ‘ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ’ ভেঙে ‘ভাষাকেন্দ্রিক ও জাতিগত জাতীয়তাবাদ’ (বাঙালি জাতীয়তাবাদ) প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ‘বাঙালি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন পাকিস্তান কেবল শান্তিতে দাবি মানবে না। তাই তিনি অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি গোপনে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি (যেমন: প্রবাসী সরকার গঠন ও বহির্বিশ্বের সমর্থন) নিশ্চিত করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তাঁর নামেই পুরো দেশ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যা বাংলার ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। এখানেই তিনি শ্রেষ্ঠ, তিনি ব্যতিক্রম। তিনি মহাকালের এক অবিরত যুদ্ধের চূড়ান্ত সফলতাকে স্পর্শ করেছিলেন। এজন্যই তিনি এই জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শেখ মুজিব-বাঙালির একমাত্র মাহানায়ক গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের ঈদে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানো নিয়েও ইউনুসের ছলচাতুরী ম্যানেজিং কমিটিতে দলীয় লোক নেওয়া হলে আদালতে যাওয়ার হুশিয়ারি রাশেদা কে চৌধুরীর বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি মমতায় গড়া এক নেতৃত্বের নাম শেখ মুজিব কাবুলে হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা: পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধ ও বর্বরতা ১৯৭১ এর মতোই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি হচ্ছে স্কুলে এসে শিশুরা যেন পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্য না দেখে—এই অবদান শেখ হাসিনার একান্ত শেখ হাসিনার ডেল্টা প্লানকে তারেক রহমান চালাচ্ছেন খালকাটা কর্মসূচি হিসেবে ‘ইউনূসকে ঠিকই চিনেছিলেন শেখ হাসিনা’, কারামুক্ত হয়ে আনিস আলমগীর ইতিহাস থেকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ: দেশবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধু কামরুল হাসান বেঁচে থাকলে ড. ইউনূসকে ‘বিশ্ব বাটপার’ উপাধি দিতেন: আনিস আলমগীর রাতে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস, বিপাকে যেসব জেলা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব শুধু ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রো রেল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি, অডিও ফাঁস পদত্যাগ করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান চীনে আল্ট্রা-ট্রেইল শিয়ামেনে অংশ নিলেন ইমামুর রহমান ১০০ দেশ ভ্রমণের লক্ষ্য তরুণ তুর্কী শাকিব উদ্দিনের