ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?
অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত
“রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল
‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি
স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ
বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি: মুক্তিকামী জনতার একচ্ছত্র কমান্ড ও স্বাধীনতার পদধ্বনি
কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!
সাড়ে ষোলো বছর পর একজন বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনা হলো। শুধু ফিরিয়েই আনা হয়নি, বরখাস্তকালীন পুরো সময়টাকে "চাকরিকাল" হিসেবে গণ্য করে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা দেওয়ার আদেশ হলো। রাষ্ট্রপতি নিজে তার আবেদন মঞ্জুর করলেন।
এই মানুষটির নাম মো. কোহিনূর মিয়া।
নামটা অনেকের কাছে পরিচিত। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই রাতের কথা যারা মনে রাখেন, তারা এই নাম ভোলেননি। সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের ফটক ভেঙে পুলিশ ঢুকে পড়েছিল। হলের ভেতরে তখন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। সেই অভিযানে কী হয়েছিল, সেটা দেশবাসীর কারো জানতে বাকি নেই। সেই ঘটনায় আলোচনায় এসেছিল কোহিনূর মিয়ার নাম।
এরপর ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌর নির্বাচনের দিন গোলাগুলিতে দুজন মানুষ মারা
যান। সেই ঘটনার মামলায়ও পরে তার নাম আসে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আসামি হন। সিআইডি ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। তারপর এই মামলাটা চলেছে বিশ বছরের বেশি সময় ধরে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। সেই খালাসের রায়কে ভিত্তি করেই এখন বরখাস্ত বাতিল। আইনি দিক থেকে এটা হয়তো যুক্তিযুক্ত। আদালত যাকে নির্দোষ বলেছেন, তাকে চাকরিতে ফেরানো যায়। এই যুক্তিটা ফেলে দেওয়ার মতো না। কিন্তু প্রশ্নটা আইনের জায়গায় না, প্রশ্নটা বিবেচনার জায়গায়। শামসুন্নাহার হলে যা হয়েছিল, সেটা কোনো আদালতে বিচার হয়নি, কাউকে দায় নিতে দেখা যায়নি। সেই রাতে যে মেয়েরা হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তাদের কী হয়েছে? তাদের জন্য বিচার কোথায়? সেই ঘটনার
সঙ্গে যাদের নাম জুড়েছিল, তারা সময়ের সঙ্গে পুরস্কৃত হয়েছেন, না শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন? এরও পরে, একটা স্টেডিয়ামের ভেতরে এক বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায়ও তার নাম উঠেছিল। সেটাও মানুষ ভোলেনি। এই প্রেক্ষাপটে তাকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটা কেবল একটা প্রশাসনিক আদেশ হয়ে থাকে না। এটা একটা বার্তা হয়ে ওঠে। সেই বার্তাটা কী, সেটা নিয়েই মানুষের মাথায় প্রশ্ন ঘুরছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ইতিহাস নতুন না। কিন্তু যখন বিতর্কিত অতীতের মানুষদের ফিরিয়ে আনা হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নটা জাগে সেটা হলো, কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত? নারীর নিরাপত্তা নিয়ে, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের কাছেও এই প্রশ্নটা রইল। শামসুন্নাহার হলের ঘটনা ইতিহাসের
পাতায় আছে। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত একজনকে ফিরিয়ে আনার সময় সেই অন্ধকার ইতিহাসটাও ফিরে আসে।
যান। সেই ঘটনার মামলায়ও পরে তার নাম আসে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আসামি হন। সিআইডি ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। তারপর এই মামলাটা চলেছে বিশ বছরের বেশি সময় ধরে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। সেই খালাসের রায়কে ভিত্তি করেই এখন বরখাস্ত বাতিল। আইনি দিক থেকে এটা হয়তো যুক্তিযুক্ত। আদালত যাকে নির্দোষ বলেছেন, তাকে চাকরিতে ফেরানো যায়। এই যুক্তিটা ফেলে দেওয়ার মতো না। কিন্তু প্রশ্নটা আইনের জায়গায় না, প্রশ্নটা বিবেচনার জায়গায়। শামসুন্নাহার হলে যা হয়েছিল, সেটা কোনো আদালতে বিচার হয়নি, কাউকে দায় নিতে দেখা যায়নি। সেই রাতে যে মেয়েরা হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তাদের কী হয়েছে? তাদের জন্য বিচার কোথায়? সেই ঘটনার
সঙ্গে যাদের নাম জুড়েছিল, তারা সময়ের সঙ্গে পুরস্কৃত হয়েছেন, না শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন? এরও পরে, একটা স্টেডিয়ামের ভেতরে এক বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায়ও তার নাম উঠেছিল। সেটাও মানুষ ভোলেনি। এই প্রেক্ষাপটে তাকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটা কেবল একটা প্রশাসনিক আদেশ হয়ে থাকে না। এটা একটা বার্তা হয়ে ওঠে। সেই বার্তাটা কী, সেটা নিয়েই মানুষের মাথায় প্রশ্ন ঘুরছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ইতিহাস নতুন না। কিন্তু যখন বিতর্কিত অতীতের মানুষদের ফিরিয়ে আনা হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নটা জাগে সেটা হলো, কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত? নারীর নিরাপত্তা নিয়ে, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের কাছেও এই প্রশ্নটা রইল। শামসুন্নাহার হলের ঘটনা ইতিহাসের
পাতায় আছে। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত একজনকে ফিরিয়ে আনার সময় সেই অন্ধকার ইতিহাসটাও ফিরে আসে।



