ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
স্বামীকে গাছে বেধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়েছে ছিনতাই, ৪৩২ হটস্পট চিহ্নিত
নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর খাল থেকে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, ‘অদৃশ্য শক্তির ডাক’- দাবি
জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সিলেটে সরকারি রাস্তার বিপুল পরিমাণ ইট লুটপাট: ৬ জন আটক
পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে ব্যবসায়ী সুমন কুমার দাসের ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও
উপবৃত্তির লোভ দেখিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণে ও ভিডিও ধারণ, ধর্ষক জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড সক্রিয় দুই প্রজন্মের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা এবং ইতিহাস: শেষ পর্ব
অনলাইনে খোলামেলা জাল নোটের বেচাকেনা, ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় চক্র
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যেই চলছে জাল টাকার বেচাকেনা। ফেসবুক, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পেজ ও গ্রুপ খুলে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞাপন। সেখানে লোভনীয় অফার দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০০ টাকার জাল নোট। অর্ডার করলেই কুরিয়ার বা ‘হোম ডেলিভারির’ আশ্বাসও দিচ্ছে এসব চক্র।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এ ধরনের প্রচারণা আরও বেড়েছে। কারণ উৎসবের সময় বাজারে লেনদেন বাড়ে। ব্যস্ততার সুযোগে জাল নোট সহজে ছড়িয়ে দেওয়া যায়—এমন হিসাব করেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এসব চক্র।
ফেসবুকেই বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে ‘জাল টাকা কারবার’ নামে একটি পেজে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০০ টাকার জাল নোট বিক্রির পোস্ট
দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “পবিত্র ঈদ সামনে রেখে নিখুঁত ও মসৃণ প্রিন্টের এ গ্রেডের প্রোডাক্ট পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ার ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রয়েছে।” এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি পেজ ও গ্রুপ পাওয়া গেছে, যেগুলোর নাম ‘জাল টাকা বিক্রি হয়’, ‘আসল জাল টাকা’, ‘জাল টাকা সেল’ বা ‘ডিলার জাল টাকার’। এসব পেজে নিয়মিত পোস্ট দিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পোস্টগুলো টাকা খরচ করে বুস্টও করা হচ্ছে। এ ছাড়া টেলিগ্রামেও ‘জাল টাকা’, ‘জাল টাকার লেনদেন’ বা ‘জাল টাকা সেল গ্রুপ’ নামে বিভিন্ন গ্রুপে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে। অগ্রিম
দিলেই পৌঁছে যায় লাখ টাকার নোট অনলাইনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ টাকার জাল নোট পেতে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সাধারণত প্রথমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়। এরপর দুই দিনের মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাল নোট। নোট হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করতে হয়। আরও বেশি অঙ্কের নোট অর্ডার করলে অগ্রিম কম দিলেও চলে বলে দাবি করা হচ্ছে। যেমন ২ লাখ টাকার জাল নোটের জন্য অগ্রিম দিতে হচ্ছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। ছোট নোটেও জালিয়াতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আগে মূলত ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট জাল করা হতো। কিন্তু এখন ছোট নোটেও
জালিয়াতি বাড়ছে। কারণ বড় নোট মানুষ সাধারণত ভালোভাবে যাচাই করে নেয়, কিন্তু ৫০, ১০০ বা ২০০ টাকার নোট অনেক সময় না দেখেই লেনদেন হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ মৌসুমে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত লেনদেন করতে হয়। এতে প্রতিটি নোট যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগেই বাজারে জাল নোট ঢুকিয়ে দেয় চক্রগুলো। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের মার্কেট, শপিংমল, ইফতারি বাজার ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় সম্প্রতি জাল নোটের উপস্থিতি বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি তদন্তে জানা গেছে, জাল নোট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ল্যাপটপ, প্রিন্টার, সফটওয়্যার ও বিভিন্ন ধরনের কাগজ। ডিজিটাল ফাইল ব্যবহার করে খুব দ্রুত একের পর এক নোট প্রিন্ট
করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর তুরাগের ডলিপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন উৎস দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছিলেন। অর্ধশতাধিক গ্রুপ সক্রিয় গোয়েন্দা সূত্র বলছে, রাজধানীসহ সারা দেশে অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রুপ জাল নোট তৈরি ও বাজারজাত করার সঙ্গে জড়িত। একটি দল নোট তৈরি করে, আরেক দল তা সরবরাহ করে এবং অন্য দল বাজারে ছড়িয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, উৎসবের সময় এসব চক্র বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ–এর অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল টাকার চক্র
সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, জাল টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে রমজানের আগ থেকেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে জাল নোট বিক্রি চললেও কেন তা দ্রুত বন্ধ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই প্রবণতা থামানো কঠিন।
দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “পবিত্র ঈদ সামনে রেখে নিখুঁত ও মসৃণ প্রিন্টের এ গ্রেডের প্রোডাক্ট পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ার ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রয়েছে।” এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি পেজ ও গ্রুপ পাওয়া গেছে, যেগুলোর নাম ‘জাল টাকা বিক্রি হয়’, ‘আসল জাল টাকা’, ‘জাল টাকা সেল’ বা ‘ডিলার জাল টাকার’। এসব পেজে নিয়মিত পোস্ট দিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পোস্টগুলো টাকা খরচ করে বুস্টও করা হচ্ছে। এ ছাড়া টেলিগ্রামেও ‘জাল টাকা’, ‘জাল টাকার লেনদেন’ বা ‘জাল টাকা সেল গ্রুপ’ নামে বিভিন্ন গ্রুপে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে। অগ্রিম
দিলেই পৌঁছে যায় লাখ টাকার নোট অনলাইনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ টাকার জাল নোট পেতে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সাধারণত প্রথমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়। এরপর দুই দিনের মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাল নোট। নোট হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করতে হয়। আরও বেশি অঙ্কের নোট অর্ডার করলে অগ্রিম কম দিলেও চলে বলে দাবি করা হচ্ছে। যেমন ২ লাখ টাকার জাল নোটের জন্য অগ্রিম দিতে হচ্ছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। ছোট নোটেও জালিয়াতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আগে মূলত ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট জাল করা হতো। কিন্তু এখন ছোট নোটেও
জালিয়াতি বাড়ছে। কারণ বড় নোট মানুষ সাধারণত ভালোভাবে যাচাই করে নেয়, কিন্তু ৫০, ১০০ বা ২০০ টাকার নোট অনেক সময় না দেখেই লেনদেন হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ মৌসুমে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত লেনদেন করতে হয়। এতে প্রতিটি নোট যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগেই বাজারে জাল নোট ঢুকিয়ে দেয় চক্রগুলো। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের মার্কেট, শপিংমল, ইফতারি বাজার ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় সম্প্রতি জাল নোটের উপস্থিতি বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি তদন্তে জানা গেছে, জাল নোট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ল্যাপটপ, প্রিন্টার, সফটওয়্যার ও বিভিন্ন ধরনের কাগজ। ডিজিটাল ফাইল ব্যবহার করে খুব দ্রুত একের পর এক নোট প্রিন্ট
করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর তুরাগের ডলিপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন উৎস দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছিলেন। অর্ধশতাধিক গ্রুপ সক্রিয় গোয়েন্দা সূত্র বলছে, রাজধানীসহ সারা দেশে অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রুপ জাল নোট তৈরি ও বাজারজাত করার সঙ্গে জড়িত। একটি দল নোট তৈরি করে, আরেক দল তা সরবরাহ করে এবং অন্য দল বাজারে ছড়িয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, উৎসবের সময় এসব চক্র বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ–এর অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল টাকার চক্র
সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, জাল টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে রমজানের আগ থেকেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে জাল নোট বিক্রি চললেও কেন তা দ্রুত বন্ধ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই প্রবণতা থামানো কঠিন।



