ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে এবার ঝরল জামায়াত নেতার প্রাণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে এবার ঝরল জামায়াত নেতার প্রাণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ |
তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশে নির্বাচনী সহিংসতা যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তার সবশেষ শিকার হলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে এই মৃত্যুকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। এর পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, দেশে একটি কৃত্রিম অরাজক পরিবেশ তৈরি করে ইউনূস প্রশাসন বিশ্ববাসীকে দেখাতে পারে যে, বর্তমানে নির্বাচন আয়োজনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এর ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন স্থগিত করে শুধু একটি গণভোট আয়োজন করার

পরিকল্পনা থাকতে পারে। এর পর ইউনূসই ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইবে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘ইশতেহার পাঠ’ অনুষ্ঠানে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনুষ্ঠান চলাকালীন বিএনপি সমর্থকরা দেরিতে এসে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল। শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জামায়াতের অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হন এবং গুরুতর আহত রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সহিংসতার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচন ও গণভোটকে

কেন্দ্র করে সংঘটিত যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন বানচালের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে সমালোচকরা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে যখন প্রধান দুই মিত্র দল (বিএনপি-জামায়াত) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত, তখন নিষিদ্ধ দলের ওপর দায় চাপিয়ে সরকার নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছে। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে ১৬ জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৩ জনই বিএনপির এবং বাকিরা জামায়াত ও অন্যান্য সংগঠনের। রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি, বিএনপি নেতা মুসাব্বির, হাসান মোল্লা এবং পশ্চিম রাজাবাজারে জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় শেরপুরের এই ঘটনা জনমনে আতঙ্ক

আরও ঘনীভূত করেছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন দাবি করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সামনে রেখে ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, লুণ্ঠিত ১,৩৬০টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেভাবে বাড়ছে, তাতে দাপ্তরিক আশ্বাস মানুষের মনের ভয় দূর করতে ব্যর্থ হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। তারা বলছেন, “সরকার যদি দাবি করে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে, তবে দিনের আলোতে প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে কীভাবে এত বড় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে? একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি,

অন্যদিকে গণভোটের গুঞ্জন এবং এর মাঝে বিরোধী শিবিরের মিত্রদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত— এই ত্রিমুখী পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মাঠ পর্যায়ের অস্থিতিশীলতাকে হয়তো রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানোর কৌশলটি ইউনূসের রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার প্রমাণ দেয়। এই প্রাণহানি ঠেকাতে না পারাটা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী বললেন, আর বিয়ে করতে চাই না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মৃত্যু বেড়ে ৮ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মূল অভিযুক্ত অর্থপাচার মামলায় এনু-রুপনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ৬৪ কোটি টাকা জরিমানা পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান ‘নাই বাওয়া, হামার কিচ্ছু নাই, ঘর-বাড়ি সব হারাচি’ ‘এত বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হবে ভাবিনি, কক্সবাজারের আনন্দটাই মাটি’ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ১০ গ্রাজুয়েটের তালিকায় ৭ জনই বাংলাদেশি ফিফার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর পেনাল্টি মিস করার পর যা ভেবেছিলেন মেসি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা গ্রেফতার ১৩ বছর পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু ‘খালেদা জিয়া ১ টাকা রেখে পুরো বেতন এতিমখানায় দান করে দিতেন’, জানালেন প্রেস সচিব