ঘুষ-সিন্ডিকেটে প্রশাসন অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি, ১০০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ঘুষ-সিন্ডিকেটে প্রশাসন অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি, ১০০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ |
রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে সংবেদনশীল ও ক্ষমতাশালী স্তরগুলোর একটি হলো অতিরিক্ত সচিব পদ। এই পদে পদোন্নতি মানে কেবল একজন কর্মকর্তার ক্যারিয়ার এগিয়ে যাওয়া নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নীতি নির্ধারণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের মতো গুরুদায়িত্ব। অথচ সাম্প্রতিক অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি ঘিরে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, তা প্রশাসনিক নৈতিকতার ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো। অভিযোগ উঠেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে, যেখানে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা কিংবা পেশাগত সততার কোনো মূল্য ছিল না। জানা যাচ্ছে, বিসিএস ২০ ব্যাচের প্রায় ৪৫০ জন কর্মকর্তার মধ্য থেকে ১১৮ জনকে অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এখানে একমাত্র কার্যকর মানদণ্ড

ছিল—কে কত টাকা দিতে পারবে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতির ঘটনা নয়; বরং একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক-প্রশাসনিক চক্রের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। অভিযোগে যাদের নাম উঠে আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজ, বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এনসিপির আব্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপির হুমায়ন কাবির, এমনকি তারেক জিয়ার পিএস পর্যন্ত। এই অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্রের প্রশাসন কি তবে দল-মত নির্বিশেষে একটি ঘুষ-সমঝোতার যৌথ সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে? সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পদোন্নতিপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। এতে করে “রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক সংস্কার”–এই প্রচারিত বয়ান আরও একবার

প্রশ্নের মুখে পড়েছে। উপরন্তু, প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ছোট ভাইয়ের পদোন্নতির অভিযোগ স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ড. ইউনুসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক যোগ্য কর্মকর্তা এই পদোন্নতিতে বাদ পড়েছেন। এমনকি কয়েকজন উপদেষ্টার ডিও লেটারের সুপারিশও আমলে নেওয়া হয়নি। এর বদলে টাকার বিনিময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে কার্যত অর্থের বাজারে পরিণত করেছে। পদোন্নতিতে শতকোটির দুর্নীতির এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি নিছক অনিয়ম নয়—এটি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ যে প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষ শেষ ভরসা রাখে, সেই প্রশাসন যদি টাকার দামে বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্র নামক ধারণাটিই ধীরে ধীরে ভেঙে

পড়ে। এখন প্রশ্ন একটাই— এই অভিযোগগুলোর কি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান তদন্ত হবে? নাকি অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির এই অধ্যায়ও অন্য অনেক কেলেঙ্কারির মতো নীরবতার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে? রাষ্ট্রের স্বার্থে এই প্রশ্নের জবাব এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী বললেন, আর বিয়ে করতে চাই না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মৃত্যু বেড়ে ৮ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মূল অভিযুক্ত অর্থপাচার মামলায় এনু-রুপনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ৬৪ কোটি টাকা জরিমানা পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান ‘নাই বাওয়া, হামার কিচ্ছু নাই, ঘর-বাড়ি সব হারাচি’ ‘এত বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হবে ভাবিনি, কক্সবাজারের আনন্দটাই মাটি’ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ১০ গ্রাজুয়েটের তালিকায় ৭ জনই বাংলাদেশি ফিফার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর পেনাল্টি মিস করার পর যা ভেবেছিলেন মেসি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা গ্রেফতার ১৩ বছর পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু ‘খালেদা জিয়া ১ টাকা রেখে পুরো বেতন এতিমখানায় দান করে দিতেন’, জানালেন প্রেস সচিব