জুলাইয়ের পর রান্নাঘরেও বিপ্লব, গ্যাস সংকটের আড়ালে সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য : আমদানি কমলো দেড় লাখ টন, চুলা নিভলো কোটি ঘরে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আরও খবর

ডেভিল হান্টের নামে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মব সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে

কাঁপছে ঢাকার মসনদ, কী বার্তা আসছে দিল্লি থেকে? দিল্লির প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মিডিয়ার মুখোমুখি শেখ হাসিনা

বিদ্যুৎ খাতের নীরব সংকট, বকেয়া বিল ও বৈষম্যমূলক আচরণ বিনিয়োগ আস্থা ও সরবরাহ স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে

ভোটাধিকার হরণ ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের নাটক: গণতন্ত্রের নামে এক নির্মম রাষ্ট্রীয় প্রহসন

জঙ্গিদের নতুন বৈশ্বিক হাব বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতায় চরম ঝুঁকির মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা!

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সাংবিধানিক সংকট, হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট

হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজির টাকা ফেরত চায়, চাঁদাবাজকে এসএসএফ প্রটোকল কেন? প্রশ্নের মুখে তারেক রহমান

জুলাইয়ের পর রান্নাঘরেও বিপ্লব, গ্যাস সংকটের আড়ালে সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য : আমদানি কমলো দেড় লাখ টন, চুলা নিভলো কোটি ঘরে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৭:৩৭ 13 ভিউ
গত এক মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যে সিলিন্ডার ১৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার জন্য গুনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল - কোথাও এই সংকট থেকে রেহাই নেই। দোকানে খালি সিলিন্ডার পড়ে আছে, কিন্তু ভরা সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যারা দুর্ভাগ্যক্রমে পাচ্ছেন, তাদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দাম। সাধারণ মানুষ বিকল্প খুঁজতে গিয়ে কেউ কেনার চুলা কিনছেন, কেউ বিদ্যুতের চুলায় ভরসা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সংকট তৈরি হলো কীভাবে? আর এর দায় কার? বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬

লাখ ১০ হাজার টনে। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে। দেশে প্রতি বছর এলপিজির চাহিদা বাড়ে ১০ শতাংশেরও বেশি হারে। সেখানে আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন, যা মোট আমদানির ১০ শতাংশ। বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি কমার হার ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলাফল - বাজারে তীব্র সংকট, যে মজুত থাকার কথা ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে। দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স আছে ৫২টি কোম্পানির। এর মধ্যে আমদানির সক্ষমতা আছে ২৩টির। কিন্তু নিয়মিত আমদানি করছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। বাকিরা মাঝেমধ্যে আমদানি করে, আবার বন্ধও রাখে। এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের সভাপতি জানিয়েছেন, তাদের পাঁচটি সদস্য কোম্পানি এক

বছর আগে আমদানি বাড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল। এক বছর পর মন্ত্রণালয় জানায়, নীতিমালা এটা অনুমোদন করে না। আবার আগস্টে চিঠি দেওয়া হলেও নতুন প্ল্যান্টের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিইআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, এই সংকট আগেই বোঝা যাচ্ছিল। প্রতি মাসের আমদানির তথ্য সরকারের কাছে ছিল। যথাসময়ে পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এখানে প্রশ্ন উঠছে, যে সরকার তথাকথিত সংস্কার আর পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কোথায় ছিল যখন আমদানি কমতে থাকল মাসের পর মাস? কেন অনুমতি দেওয়া হলো না যারা আমদানি বাড়াতে চাইছিল তাদের? নাকি এটাও কোনো পরিকল্পিত সংকট, যেখানে সিন্ডিকেটদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে? সাধারণ মানুষ এখন দ্বিগুণ দাম দিয়েও

সিলিন্ডার পাচ্ছে না, অথচ সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। চট্টগ্রামের হোসাইন মঞ্জিলের মতো আবাসিক ভবনগুলোতে দৈনিক তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার দরকার হয়। লাইনের গ্যাস নেই, এলপিজিই ভরসা। কিন্তু এখন বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। রাজশাহীতে ভ্যানে করে খালি সিলিন্ডার নিয়ে পরিবেশকের দোকানে দোকানে ঘুরেও একটি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। মোহাম্মদপুরে ১৩০৬ টাকার সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হচ্ছে ২৩০০ টাকা। চট্টগ্রামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকায়। বরিশালে বাড়তি নিতে হচ্ছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা। দোকানে যে কয়টি সিলিন্ডার আসে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। দোকানিরা বলছেন, পরিবেশকরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সরকার কী

করছে? গ্যাস সিন্ডিকেটকে রুখতে কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। দাম বৃদ্ধি রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। অথচ এই সরকারই তো ক্ষমতায় এসেছিল সাধারণ মানুষের কল্याণের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। প্রতিটি সেক্টরেই ব্যর্থতার ছাপ স্পষ্ট। গত ষোল বছরে এমন পরিস্থিতি কখনো হয়নি। নিয়মিত আমদানি হতো, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল, দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিছু সমস্যা হলেও তা এত ভয়াবহ আকার ধারণ করত না। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাটাই যেন ভেঙে পড়ছে। এলপিজি সংকটই শুধু নয়, খাদ্যপণ্যের দাম, ডলারের দর, বিদ্যুতের সমস্যা - সব জায়গাতেই অস্থিরতা। মনে হচ্ছে যেন পরিকল্পিতভাবে

পুরো দেশটাকে একটা সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমদানি কমে গেলে বাজারে সরবরাহ কমবে, এটা তো সহজ হিসাব। সরকার যত কম দামেই বিক্রি করার কথা বলুক না কেন, বাস্তবে গ্রাহক সেই দাম পাবে না। কারণ মধ্যস্বত্বভোগীরা, সিন্ডিকেটরা সুযোগ নেবেই। আর এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা আর অদূরদর্শিতার কারণে। যে সরকার আমদানির তথ্য পেয়েও সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি, যে সরকার আমদানি বাড়ানোর অনুমতি চাইলেও দেয়নি, সেই সরকার এখন কীভাবে সংকট সামলাবে? বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এলপিজি সংকট তৈরি করে এখন বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। মানুষ গ্যাস না পেয়ে বিদ্যুতের চুলা কিনছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, তারপর শুরু হবে লোডশেডিং। এই দুষ্টচক্র

থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় কি এই সরকারের আছে? নাকি এটাও পরিকল্পনার অংশ? যে নোবেল বিজয়ী নেতৃত্বের কথা বলে এই সরকার এসেছিল, সেই নোবেল পুরস্কার কি সাধারণ মানুষের চুলায় গ্যাস জোগাতে পারবে? অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া একজন ব্যক্তি কি পারেন না বুঝতে যে আমদানি কমলে বাজারে সংকট হবে? পারেন না বুঝতে যে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ ভুগবে? নাকি এসব বোঝার ইচ্ছাই নেই? রাজনৈতিক দলগুলো এখন ক্ষমতার আশায় মরিয়া। কিন্তু এই গ্যাস সিন্ডিকেটকে রুখতে, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোনো দলের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সবাই চুপ। মনে হচ্ছে যেন এই সংকট তাদের স্পর্শ করছে না। অথচ রান্নাঘরে গ্যাসের সংকট মানে প্রতিটি পরিবারের প্রতিদিনের দুর্ভোগ। এটা নিয়ে কেউ কথা বলছে না কেন? পুরো ষোলো বছরে এমন সংকট দেখা যায়নি। নিয়মিত আমদানি হতো, বাজার স্থিতিশীল ছিল। কিছু সমস্যা থাকলেও তা সামলানো হতো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, পুরো ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়ছে। প্রতিটি দিন, প্রতিটি সপ্তাহ পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। অথচ সরকারের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট সমাধান আসছে না, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ এখন অসহায়। দোকানে দোকানে ঘুরে, বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছে না। কেউ কেরোসিনের চুলায় ফিরে যাচ্ছে, কেউ বিদ্যুতের চুলা কিনছে। কিন্তু এগুলো তো স্থায়ী সমাধান নয়। রান্নার জন্য এলপিজি এখন অপরিহার্য হয়ে গেছে। আর সেই এলপিজি যখন পাওয়া যাচ্ছে না, তখন সরকার কী করছে? শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই সংকট তৈরি হয়েছে সরকারের অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা আর নিষ্ক্রিয়তার কারণে। আমদানির তথ্য ছিল, সতর্ক সংকেত ছিল, অনুমতির আবেদন ছিল - সবকিছু ছিল। কিন্তু সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন সাধারণ মানুষ এর মূল্য চুকাচ্ছে দ্বিগুণ দামে, দুর্ভোগে, অসহায়ত্বে। আর এই দায় এড়ানোর কোনো উপায় নেই এই সরকারের।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস কর্তৃক মেটিক্যুলাস ডিজাইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতাসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে জুলাইয়ের পর রান্নাঘরেও বিপ্লব, গ্যাস সংকটের আড়ালে সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য : আমদানি কমলো দেড় লাখ টন, চুলা নিভলো কোটি ঘরে ডেভিল হান্টের নামে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মব সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে কাঁপছে ঢাকার মসনদ, কী বার্তা আসছে দিল্লি থেকে? দিল্লির প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মিডিয়ার মুখোমুখি শেখ হাসিনা কড়াইল বস্তিতে ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ইসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্যুৎ খাতের নীরব সংকট, বকেয়া বিল ও বৈষম্যমূলক আচরণ বিনিয়োগ আস্থা ও সরবরাহ স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে প্রতিশ্রুতির রাজনীতি, নীরবতার কমিশন তারেক রহমান, বিএনপি, এনসিপি ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার মুখোশ ভোটাধিকার হরণ ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের নাটক: গণতন্ত্রের নামে এক নির্মম রাষ্ট্রীয় প্রহসন জঙ্গিদের নতুন বৈশ্বিক হাব বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতায় চরম ঝুঁকির মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা! জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সাংবিধানিক সংকট, হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট লিফলেট বিতরণ ও দেয়াললিখন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজির টাকা ফেরত চায়, চাঁদাবাজকে এসএসএফ প্রটোকল কেন? প্রশ্নের মুখে তারেক রহমান জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কামরুল হাসান রিপন: ‘মব’ হামলায় রক্তাক্ত পরিবারের সামনেই পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতি এক বাঙালি নারীর বজ্রকণ্ঠী হুঙ্কার: ‘চোখ উপড়ে পাকিস্তানে পাঠাবো!’ জুলাই ষড়যন্ত্রের অভিশাপ: ধসে পড়ছে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গার্মেন্টস শিল্প গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভোট? বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের রামু সদরদপ্তরে মার্কিন অটিজম বিশেষজ্ঞদের ‘রহস্যজনক’ সফর মা আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইলে এখনও ক্ষমতায় থাকতেন: সজীব ওয়াজেদ জয় ঢাকায় ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান: সেনাবাহিনীতে ‘ইসলামীকরণ’ ও আইন লঙ্ঘন নিয়ে বিতর্ক নয়াদিল্লিতে আ.লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন: কর্মীদের উচ্ছ্বাস, আন্তর্জাতিক প্রচার জোরদারের নির্দেশ শেখ হাসিনার