ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজির টাকা ফেরত চায়, চাঁদাবাজকে এসএসএফ প্রটোকল কেন? প্রশ্নের মুখে তারেক রহমান
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কামরুল হাসান রিপন: ‘মব’ হামলায় রক্তাক্ত পরিবারের সামনেই পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ
স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতি এক বাঙালি নারীর বজ্রকণ্ঠী হুঙ্কার: ‘চোখ উপড়ে পাকিস্তানে পাঠাবো!’
জুলাই ষড়যন্ত্রের অভিশাপ: ধসে পড়ছে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গার্মেন্টস শিল্প
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের রামু সদরদপ্তরে মার্কিন অটিজম বিশেষজ্ঞদের ‘রহস্যজনক’ সফর
মা আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইলে এখনও ক্ষমতায় থাকতেন: সজীব ওয়াজেদ জয়
ঢাকায় ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান: সেনাবাহিনীতে ‘ইসলামীকরণ’ ও আইন লঙ্ঘন নিয়ে বিতর্ক
গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভোট?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (কাল্পনিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন) ক্রমেই একটি প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে রূপ নিচ্ছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মোড়কে আয়োজিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দানা বাঁধছে গভীর বিতর্ক। সমালোচকরা একে আখ্যায়িত করছেন ‘নৈতিক সংকট’ ও ‘গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার প্রতীক’ হিসেবে। জনমনে আজ একটাই প্রশ্ন—এটি কি সত্যিকারের নির্বাচন, নাকি নির্বাচনের ছদ্মবেশে ক্ষমতার বৈধতা তৈরির নিছক কৌশল?
ভয়ের আবহে ভোটের আয়োজন
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় নির্ধারিত একটি দিন নয়, এটি একটি সামগ্রিক পরিবেশের নাম। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের কথা বলার স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ প্রশাসন, স্বাধীন গণমাধ্যম
এবং নাগরিকদের ভয়হীন থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই মৌলিক শর্তগুলোর অনুপস্থিতি প্রকট। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক পরিসর আশঙ্কাজনকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। ভয়ের সংস্কৃতিতে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়ে পড়লে ব্যালট বাক্সে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা অসম্ভব। একপাক্ষিক নির্বাচনের সমীকরণ এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো—দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি ‘আওয়ামী লীগ’ কার্যত নির্বাচনী মাঠের বাইরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, প্রধান কোনো রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কখনোই অংশগ্রহণমূলক বা অবাধ বলা যায় না। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, এটি কেবল একটি দলের অংশগ্রহণের বিষয় নয়, বরং এটি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। দেশের
একটি বিশাল অংশের ভোটার যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পান, তবে নির্বাচিত সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। ‘ডেকোরেটিভ ডেমোক্রেসি’ বা সাজানো গণতন্ত্র বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘ডেকোরেটিভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘সাজানো গণতন্ত্র’ নামে একটি নতুন পরিভাষা চালু হয়েছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে অনেকেই এই ক্যাটাগরিতে ফেলছেন। এই ব্যবস্থায় ব্যালট, বুথ এবং ফলাফল সবই থাকে, কিন্তু থাকে না সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ বা আস্থার ভিত্তি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), রয়টার্স এবং আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বারবার প্রশ্ন তুলছে—বাংলাদেশে কি মানুষ নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে? দমননীতি, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক মামলার ভীতির মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি ‘নকল সংস্করণ’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও
পর্যবেক্ষকদের অবস্থান নির্বাচনটি এখন আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) পর্যবেক্ষক পাঠানোর ঘোষণা দিলেও তারা ফলাফলের কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি, বরং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশকে ক্রমেই ‘হাইব্রিড’ বা ‘আংশিক স্বৈরতান্ত্রিক’ ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হতে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ভুয়া বা একপাক্ষিক নির্বাচন রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বিভাজন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ কি সেই আত্মঘাতী পথেই হাঁটছে? বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন যদি নিছক একটি
নাটকে পরিণত হয়, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হবে ভয়াবহ। আগামী প্রজন্ম নির্বাচনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেললে রাজনীতির ফয়সালা হবে রাজপথে, সংঘাতে ও বিশৃঙ্খলায়। গণতন্ত্র একদিনে ধসে পড়ে না, তাকে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়—আর এই নির্বাচন সেই প্রক্রিয়ারই একটি চূড়ান্ত অধ্যায় হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এবং নাগরিকদের ভয়হীন থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই মৌলিক শর্তগুলোর অনুপস্থিতি প্রকট। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক পরিসর আশঙ্কাজনকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। ভয়ের সংস্কৃতিতে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়ে পড়লে ব্যালট বাক্সে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা অসম্ভব। একপাক্ষিক নির্বাচনের সমীকরণ এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো—দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি ‘আওয়ামী লীগ’ কার্যত নির্বাচনী মাঠের বাইরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, প্রধান কোনো রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কখনোই অংশগ্রহণমূলক বা অবাধ বলা যায় না। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, এটি কেবল একটি দলের অংশগ্রহণের বিষয় নয়, বরং এটি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। দেশের
একটি বিশাল অংশের ভোটার যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পান, তবে নির্বাচিত সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। ‘ডেকোরেটিভ ডেমোক্রেসি’ বা সাজানো গণতন্ত্র বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘ডেকোরেটিভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘সাজানো গণতন্ত্র’ নামে একটি নতুন পরিভাষা চালু হয়েছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে অনেকেই এই ক্যাটাগরিতে ফেলছেন। এই ব্যবস্থায় ব্যালট, বুথ এবং ফলাফল সবই থাকে, কিন্তু থাকে না সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ বা আস্থার ভিত্তি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), রয়টার্স এবং আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বারবার প্রশ্ন তুলছে—বাংলাদেশে কি মানুষ নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে? দমননীতি, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক মামলার ভীতির মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি ‘নকল সংস্করণ’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও
পর্যবেক্ষকদের অবস্থান নির্বাচনটি এখন আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) পর্যবেক্ষক পাঠানোর ঘোষণা দিলেও তারা ফলাফলের কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি, বরং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশকে ক্রমেই ‘হাইব্রিড’ বা ‘আংশিক স্বৈরতান্ত্রিক’ ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হতে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ভুয়া বা একপাক্ষিক নির্বাচন রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বিভাজন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ কি সেই আত্মঘাতী পথেই হাঁটছে? বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন যদি নিছক একটি
নাটকে পরিণত হয়, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হবে ভয়াবহ। আগামী প্রজন্ম নির্বাচনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেললে রাজনীতির ফয়সালা হবে রাজপথে, সংঘাতে ও বিশৃঙ্খলায়। গণতন্ত্র একদিনে ধসে পড়ে না, তাকে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়—আর এই নির্বাচন সেই প্রক্রিয়ারই একটি চূড়ান্ত অধ্যায় হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



