জাতিসংঘ: গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৭০ বিলিয়ন ডলার – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
     ৫:১৬ অপরাহ্ণ

জাতিসংঘ: গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৭০ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ | ৫:১৬ 61 ভিউ
দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে মঙ্গলবার জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনিদের কাছে এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছাতে পারছে না। মাত্র ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২ থেকে ৫ কিলোমিটার প্রস্থের গাজা উপত্যকার প্রায় কোনো স্থানই ইসরায়েলি বিমান হামলার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি, যা গত শুক্রবার শুরু হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত চলছিল। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর ফিলিস্তিন সহায়তা কর্মসূচির বিশেষ প্রতিনিধি জাকো সিলিয়ার্স জানিয়েছেন, গোটা গাজার ৮৪ শতাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, আর কিছু এলাকায়, বিশেষত গাজা সিটিতে, এ হার ৯২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। জেরুজালেম থেকে সংবাদ সম্মেলনে

তিনি জানান, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ “ইন্টারিম র‍্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্টের প্রতিবেদনে গাজায় ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী তিন বছরে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ শুরু করতে। বর্তমানে জাতিসংঘ ও অংশীদার সংস্থাগুলো গাজার ২১ লাখ মানুষের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে — যার মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার পানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি কর্মসংস্থান, বর্জ্য অপসারণ এবং ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে থাকা অনাবিস্কৃত বোমা অপসারণের কাজ। সিলিয়ার্স জানান, “এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৮১ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরিয়েছি, যা প্রায় ৩,১০০ ট্রাকের সমান। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর রাস্তা উন্মুক্ত করা এবং

হাসপাতালসহ সামাজিক সেবার স্থাপনাগুলোকে নিরাপদ করা।” তিনি আরও বলেন, পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় আরব রাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশেষ করে প্রাথমিক পুনরুদ্ধার উদ্যোগে সহযোগিতা করার বিষয়ে। তবে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলো আবারও ইসরায়েলকে গাজার সব প্রবেশপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার সর্বশেষ ২০ জীবিত ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইসরায়েল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই আহ্বান জানানো হয়। এই উন্নয়ন আসে সোমবার সন্ধ্যায় মিশরের শার্ম আল-শেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিশর, কাতার ও তুরকিয়ের নেতাদের উপস্থিতিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বন্দিমুক্তির ঘটনাকে স্বাগত জানান এবং বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর

থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের দুই বছর পর এটি “গুরুত্বপূর্ণ মানবিক অগ্রগতি”। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি মৃত বন্দিদের দেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কতজনের দেহ ফেরত দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আইসিআরসি মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান কার্ডন বলেন, “এটি একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি।” অন্যদিকে, মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় পরিস্থিতি এখনও “অত্যন্ত জটিল ও পরিবর্তনশীল”। যুদ্ধবিরতির পর গত শুক্রবার থেকে ৩ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি গাজা সিটির দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকাডো পিরেস বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশাবাদ ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি মাঠপর্যায়ে প্রতিফলিত হচ্ছে না। পর্যাপ্ত ত্রাণ গাজায় পৌঁছাচ্ছে না।” ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ গাজায় ১ লাখ ৯০ হাজার টন ত্রাণসামগ্রী

প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে জাতিসংঘ ও তার সহযোগীরা জানিয়েছে, এটি প্রয়োজনীয় সহায়তার তুলনায় অনেক কম। ওসিএইচএর মুখপাত্র ইয়েন্স লায়ারকে বলেন, “আমরা শার্ম আল-শেখে ২২টি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাইকে অনুরোধ করছি যেন তারা সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়।” এদিকে, গাজায় ত্রাণ বিতরণ এখনও কঠিন হয়ে পড়েছে। আইসিআরসি জানিয়েছে, অনেক এলাকায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনিরা আহত বা নিহত হচ্ছেন। কার্ডন বলেন, “এখন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে ত্রাণ জনগণের কাছে পৌঁছাবে — জনগণকে আর ত্রাণের কাছে যেতে হবে না।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা আর নেই মাঘের শেষে তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা রোববার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় নতুন করে ১৫ প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেনে ন্যাটোর সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন দাবির প্রমাণ মেলেনি: পর্যবেক্ষক ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের ট্রাম্পের সমর্থন সত্ত্বেও কেন বিটকয়েনের দাম কমছে? জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের দাবি ১৩৫ সাংবাদিকের সাভার-আশুলিয়ার সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ৮০ বছরের ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধকে জেলে পচিয়ে মারাই যদি শাসনের নমুনা হয় গ্রামীণের সুযোগ-সুবিধা ঘিরে প্রশ্ন Losing His Wife. Losing His Newborn. Losing Justice. দেশ আজ ক্লান্ত, দেশ আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত, দেশ আজ দখলদার ইউনুসের অবৈধ শাসনে দিশেহারা। জামায়াতের ইতিহাস বিকৃতি, নিজের ফাঁদে বিএনপি হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না’—ভিডিওতে নাগরিকের আক্ষেপ বিশেষজ্ঞ বাদ দিয়ে, জনমত উপেক্ষা করে গণমাধ্যমে শিকল পরানোর ষড়যন্ত্র স্মরণকালের ভয়াবহতম রক্তাক্ত নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ ইউনূসের দুঃশাসন: দেড় বছরে ‘মব’ হামলায় নিহত ২৫৯ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের পর এবার জাতীয় ভোটেও জালিয়াতির নীল নকশায় জামায়াত